• রবিবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৪ রাত

গাইবান্ধায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আটক ১৪

  • প্রকাশিত ০৮:০৯ রাত ডিসেম্বর ২২, ২০১৮
gaibandha/গাইবান্ধা

স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে পুলিশের ওপর হামলা করলে আহত হন দুই পুলিশ সদস্য

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মন্ডলের ব্যক্তিগত গাড়ির ধাক্কায় রেনু বেওয়া (৭০) নামে এক বৃদ্ধা আহতের জেরে পুলিশের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় সাদুল্লাপুর থানার সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) হেলাল উদ্দিন ও কনস্টেবল আবদুল কাফী আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সাদুল্লাপুর-মীরপুর সড়কের নলডাঙ্গা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার (২২ ডিসেম্বর) এ ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শক আনোয়ার হোসেন বাদি হয়ে থানায় পুলিশের কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন। 

ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ একই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করীম ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আরিফুল ইসলামসহ ১৪ জনকে আটক করেছে। শনিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়। 

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত তরফবাজিত গ্রামের স্ত্রী রেনু বেওয়া (৬০) ও মারধরের শিকার দুই পুলিশ সদস্যকে গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, শুক্রবার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মন্ডল ব্যক্তিগত গাড়িতে করে সাদুল্লাপুর থেকে মীরপুরে যাচ্ছিলেন। গাড়িটি নলডাঙ্গা মোড়ে পৌঁছালে রাস্তা পারাপারের সময় এক বৃদ্ধাকে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মন্ডলের উপর হামলা ও তার কার গাড়িটি ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নুরুজ্জামানকে উদ্ধার এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কিন্তু স্থানীয় লোকজন আরও উত্তেজিত হয়ে পুলিশের ওপর হামলা করলে আহত হন দুই পুলিশ সদস্য। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে এবং ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করীম ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আরিফুল ইসলামসহ তিনজনকে আটক করে।

এ ঘটনায় এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে আটকদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য সাদুল্লাপুর থানার সামনে অবস্থান নেয়। পরে গাইবান্ধা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পরে সারারাত অভিযান চালায়ে ১১ জনকে আটক করে পুলিশ। বর্তমানে শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তবে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে উপজেলা শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সাদুল্লাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এমরানুল কবীর জানান, হামলার ঘটনায় পুলিশের এএসআই হেলাল উদ্দিন ও কনস্টেবল আবদুল কাফী আহত হয়েছেন। আহত দু'জনের অবস্থা গুরুতর। এরমধ্যে আবদুল কাফীর দুটি দাত ভেঙে গেছে। এছাড়া আহত বৃদ্ধাকেও হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক। পুলিশ বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছে। 

সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি স্বীকার করে মুঠোফোনে জামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মন্ডল ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঘটনার পর আহত বৃদ্ধাকে হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা করা হলে স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে ওঠে। ঘটনাস্থলে পুলিশ আসলে তাদের ওপর হামলা করা হয়। পূর্বশত্রুতার জের ধরেই প্রতিপক্ষ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করীম ও সমর্থকরা এ ঘটনা ঘটায়।’

তবে পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আটক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করীম বলেন, ঘটনার সময়ে আমি সেখানে ছিলাম না। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার।