• বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ২৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৪২ রাত

নোয়াখালীতে গৃহবধৃ ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও ১

  • প্রকাশিত ০১:৪৭ দুপুর জানুয়ারী ৪, ২০১৯
নোয়াখালী

এ পর্যন্ত গণধর্ষণের মামলায় এজাহারভুক্ত নয় আসামির মধ্যে চারজন এবং গণধর্ষণের মূল ইন্ধনদাতা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রামের নাজিরহাট এলাকা থেকে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম জসিম উদ্দিন ওরফে জইস্যা (৩০)। তিনি উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্যবাগ্যা গ্রামের মোতাহের হোসেনের ছেলে।

এ পর্যন্ত গণধর্ষণের মামলায় এজাহারভুক্ত নয় আসামির মধ্যে চারজন এবং গণধর্ষণের মূল ইন্ধনদাতা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও চর জব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) ইব্রাহিম খলিল জানান, জসিমের অবস্থান জেনে চর জব্বার থানা পুলিশের একটি দল আজ ভোরে চট্টগ্রামের নাজিরহাট এলাকা থেকে তাকে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার করে। তিনি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নন। তবে তদন্তে নাম আসায় তাকে গ্রেপ্তার করে নোয়াখালীতে নিয়ে আসা হচ্ছে। 

মামলায় পুলিশের অগ্রগতি

জসিমকে গ্রেপ্তারের আগে ঘটনার মূল ইন্ধনদাতা রুহুল আমিনসহ আরও দুইজনকে বুধবার রাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

রুহুল আমিন সুবর্ণচর উপজেলার চর জুবলী ইউনিয়নের মধ্য বাগ্যা গ্রামের মৃত খুরশিদ আলম লাঠিয়ালের ছেলে। তিনি সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক এবং ৫ নম্বর চর জুবলী ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য। রুহুল আমিনকে সদর উপজেলার ওয়াপদা বাজারে একটি মুরগির খামার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া অপর আসামি বেচু (২৫) মধ্য বাগ্যা গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি এই মামলার ৫ নম্বর আসামি। তাকে সেনবাগ উপজেলার খাজুরিয়া গ্রামের এটি ইট-ভাটা থেকে গতকাল রাত ২টায় গ্রেপ্তার করা হয় ।

বুধবার কুমিল্লার বরুরা উপজেলার মহেষপুরের একটি ইটভাটা থেকে মামলার প্রধান আসামি সোহেলকে গ্রেপ্তার করে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। আগে দিন মঙ্গলবার রাতে লক্ষীপুরের রামগতি উপজেলা থেকে মামলার তিন নম্বর আসামি স্বপনকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়। আর সোমবার মামলার ছয় নম্বর আসামি বাদশা আলম ওরফে বাসু গ্রেপ্তার হন।

মিলেছে ধর্ষণের আলামত 

মেডিকেল পরীক্ষার পর ভুক্তভোগী গৃহবধুর ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলে গতকাল বৃহস্পতিবার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা.মো.খলিল উল্যা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

খলিল উল্যা জানান, ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। আজ ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন সংশ্লিষ্টদের কাছে জমা দেওয়া হবে।

যা হয়েছিল সেদিন 

গত ৩০ ডিসেম্বর রাতে চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্যবাগ্যা গ্রামের সোহেল, হানিফ, স্বপন, চৌধুরী, বেচু, বাদশা আলম ওরফে বাসু, আবুল, মোশারেফ ও সালাউদ্দিন চার সন্তানের জননী ওই নারীর বসত ঘর ভাঙচুর করে। এক পর্যায়ে তারা ওই নারীর স্বামী ও মেয়েকে বেঁধে রাখে। পরে স্বামীকে বেদম প্রহার করে এবং ওই নারীকে ঘরের বাইরে নিয়ে গণধর্ষণের পর পিটিয়ে আহত করে।

এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামী নয়জনকে আসামি করে চর জব্বার থানায় মামলা করেন।