• বুধবার, মার্চ ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৬ রাত

টাঙ্গাইলের মধু দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও

  • প্রকাশিত ০৬:৪৪ সন্ধ্যা জানুয়ারী ৪, ২০১৯
মধু
সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌ চাষ করায় সরিষার পরাগায়ণের ফলে আবাদ শতকরা ১৫ থেকে ২০ ভাগ ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

চাষীদের দাবি সরকারের সহযোগিতা পেলে তারা মৌচাষে আরো লাভোবান হতেন।

টাঙ্গাইলে এখন সর্বত্রই সরিষার আবাদ। সরেজমিনে টাঙ্গাইল শহর এবং বাসাইল উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে সরিষা ক্ষেতের চারপাশে স্থাপন করা হয়েছে সারিবদ্ধভাবে মৌ বাক্স। এ সব বাক্সে পালিত মৌমাছি সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে মৌ-বাক্সে জমা করছে। আর এই মৌ-বাক্সে জমা করা মধু সংগ্রহ করছেন মৌ-চাষীরা।

মৌ চাষে চাষীরা একদিকে যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে দূর হচ্ছে বেকারত্ব। এমনকি অনেক শিক্ষার্থীই লেখা-পড়ার পাশাপাশি লাভবান হওয়ার জন্য মৌচাষ করছে। আর এই মধু দেশের বিভিন্ন স্থানসহ বিক্রি হচ্ছে বিদেশেও। তবে চাষীদের দাবি সরকারের সহযোগিতা পেলে তারা এ মৌচাষে আরো লাভোবান হতেন।

বিগত ১০ বছর ধরে মৌচাষ করেন টাঙ্গাইল পৌর এলাকার সন্তোষ ঘোষপাড়া এলাকার আমিনুর রহমান। এ পেশা লাভবান উল্লেখ করে ঢাকা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, "এ বছর আমি সরিষা ক্ষেতে শতাধিক মৌ বাক্স স্থাপন করেছি। এখন পর্যন্ত আমরা (ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি ১ সপ্তাহ) প্রায় দেড়টন মধু সংগ্রহ করতে পেরেছি। সরিষা ক্ষেতে বছরে ৪ মাস মধু আহরণ করে থাকি। অন্য ৬ মাস কৃত্রিম পদ্ধতিতে চিনি খাইয়ে মৌ মাছিদের রাখা হয়। এবার আমার প্রায় আড়াই লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। আশা করছি আমার প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকার মতো লাভ হবে। বিভিন্ন কোম্পানির লোকজন আমাদের কাছ থেকে মধু কিনে নিয়ে যায়"। 

তিনি আরও বলেন, "মূলত ডিসেম্বর থেকে মধু আহরণের উপযুক্ত সময়। তখন জেলায় বিভিন্ন স্থানে ভালো সরিষা ফুল ফোটে। আকার ভেদে একটি বাক্সে ২ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত মধু পাওয়া যায়। আর এই প্রতিটি বাক্সে খরচ হয় ২ থেকে ১২ হাজার টাকা"। 

আমিনুর রহমান বলেন, "আমার সংসারের যাবতীয় খরচ এর উপর নির্ভরশীল। যদি সরকার আমাদের সহযোগিতা করেন তা হলে আমরা মৌচাষে আরো লাভবান হতাম। কিন্তু আমি বিগত সময়ে জেলা প্রশাসক এবং কৃষি অফিসে গিয়েও কোন সহযোগিতা পায়নি। এ ছাড়া আমি লিচু থেকেও মধু সংগ্রহ করে থাকি"। 

জেলা কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলায় এ বছর সরিষার আবাদের টার্গেট ছিল ২৮ হাজার হেক্টর জমি। কিন্তু সরিষা উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩৯ হাজার হেক্টর জমি। এতে প্রায় ১০ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। 

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "এ বছর জেলায় টার্গেটের চেয়ে বেশি সরিষা আবাদ এবং মৌ বক্স স্থাপন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত মধু উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার কেজি। সামনে আরো মধু উৎপাদন হবে"।

তিনি আরো বলেন, "সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌ চাষ করলে সরিষার পরাগায়ণের ফলে আবাদ শতকরা ১৫ থেকে ২০ ভাগ ফলন বৃদ্ধি পায়। কয়েক বছর আগেও সরিষা চাষীরা তাদের জমিতে মৌ চাষীদের মৌ বাক্স স্থাপনে বাধা দিত। তাদের ধারণা ছিল মৌমাছির কারণে সরিষার ফলন কম হবে। তবে আমাদের কৃষি কর্মকর্তারা বোঝাতে সক্ষম হন মৌ চাষের কারণে সরিষার ফলন কমতো হয়ই না, বরং ফলন ভালো হয়। এরপর সরিষা চাষীরা তাদের জমির পাশে মৌ বাক্স স্থাপনে সহায়তা করে আসছেন"।

উল্লেখ্য, মানিকগঞ্জের পরেই দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সরিষার আবাদ হয় টাঙ্গাইল জেলায়।