• বৃহস্পতিবার, জুন ২৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩০ রাত

পরীক্ষার খাতা জালিয়াতির অভিযোগে শিক্ষক আটক

  • প্রকাশিত ০৮:০২ রাত জানুয়ারী ৯, ২০১৯
নাটোর শিক্ষক আটক
নাটোরে জালিয়াতির অভিযোগে আটক কারিগরি বোর্ডের শিক্ষক মাহামুদুন্নবী মিলন (বাঁয়ে)। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

ভাল রেজাল্ট করিয়ে দেওয়ার কথা বলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সে বোর্ডের টপশিট ও খাতা সংগ্রহ করে

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি টেকনোলজির ডিপ্লোমা শ্রেণির পরীক্ষার খাতা থেকে টপশিট পরিবর্তন করে জালিয়াতির অভিযোগে নাটোরে এক শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক সম্প্রতি নাটোরের একটি বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের অভিযোগে চাকরিচ্যুত হন।

বুধবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে শহরের বলাড়িপাড়া এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম মোর্তজার নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আটক মাহামুদুন্নবী মিলন বলাড়িপাড়া এলাকার মৃত তছলিম উদ্দিনের ছেলে।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোর্তজা খান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের বলাড়িপাড়া এলাকায় নাটোর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সাইন্স এন্ড টেকনোলজির চাকরিচ্যুত কারিগরি শিক্ষক মাহামুদুন্নবী মিলনের বাড়িতে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমান আদালত। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ৩৭১টি খাতাসহ তাকে আটক করা হয়। এ ব্যাপারে ভ্রাম্যমাণ আদালত মিলনকে সাজা না দিয়ে অধিকতর তদন্তের জন্য নিয়মিত মামলার নির্দেশ দিয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, মিলনের মোবাইল চেক করে অনেক পরীক্ষার্থীর মেসেজ পাওয়া গেছে। এসব মেসেজে পরীক্ষার্থীর রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ইত্যাদি উল্লেখ রয়েছে। এ ঘটনার সাথে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের কেউ এবং এলাকার আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করতেই নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই টাকার বিনিময়ে এই কাজ করার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে মিলন। বিভিন্ন টেকনোলজির ডিপ্লোমা পরীক্ষার সময় মিলন স্থানীয় বিভিন্ন কেন্দ্রের শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপরভাল রেজাল্ট করিয়ে দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছে থেকে টাকা নিয়ে সে বোর্ডের টপশিট ও খাতা সংগ্রহ করে। পরীক্ষার্থী পরীক্ষা হলে যে টপশিট পূরণ করে একইভাবে সে বাড়িতে টপশিট পূরণ করে বোর্ডে পাঠিয়ে দেয়। এরপর পরীক্ষার খাতায় প্রশ্নের উত্তর লিখে বোর্ডে পাঠিয়ে প্রকৃত খাতা সরিয়ে পাঠানো টপশিটের সাথে মিলনের লেখা খাতা জুড়ে দিয়ে পাস করায়। 

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে নাটোর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সাইন্স এন্ড টেকনোলজির পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান টুটুল জানান, প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় নানা অনিয়মের অভিযোগে মিলনকে গত ২৪ তারিখে প্রতিষ্ঠানের মাসিক মিটিংয়ে সতর্ক করা হয়। সংশোধন না হওয়ায় তাকে গত ৬ জানুয়ারি চাকরিচ্যুত করা হয়। সে ওই প্রতিষ্ঠানের চীফ ইনস্ট্রাক্টর, ইলেকট্রিক্যাল পদে কর্মরত ছিল বলে জানান টুটুল।

সদর থানার ওসি জালাল উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় মিলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মামলা দায়েরের পর তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টির সাথে আরো যারা জড়িত তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।