• বুধবার, মার্চ ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৬ রাত

নৌকাই তাদের ভরসা

  • প্রকাশিত ১২:৪৩ দুপুর জানুয়ারী ১২, ২০১৯
সেতু না থাকায় সদরের লক্ষ্মীরচর ও তুলশীরচরের ১৫ গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা খেয়া নৌকা। ছবি- ইউএনবি
সেতু না থাকায় সদরের লক্ষ্মীরচর ও তুলশীরচরের ১৫ গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা খেয়া নৌকা। ছবি- ইউএনবি

দিলরুবা চম্পা জানান, ব্রহ্মপুত্র নদী পাড়ি দিয়ে কলেজে আসার জন্য দুই সেট করে ড্রেস সাথে আনতে হয়। এক ড্রেস পড়ে বাড়ি থেকে বের হই, নদী পার হয়ে অন্য ড্রেস পড়ে কলেজে আসি।

জামালপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর-নান্দিনা ও বালুরচর-নরুন্দি ঘাটে সেতু না থাকায়   ভোগান্তিতে রয়েছে ১৫টি গ্রামের মানুষ।

সেতু না থাকায় সদরের লক্ষ্মীরচর ও তুলশীরচর দুটি ইউনিয়নের ১৫ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা খেয়া নৌকা।

জানা যায়, জামালপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর ও তুলশীরচর ইউনিয়ন দুটিকে জেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে ব্রহ্মপুত্র নদী। ইউনিয়ন দুটিতে অবস্থিত লক্ষ্মীরচর, চরগজারিয়া, চরপাড়া, রায়েরচর, ভাটিপাড়া, চরযথার্থপুর, কাজিয়ারচর, তুলশীরচর, রেহাই গজারিয়া, টেবিরচর, ছাতিয়ানতলা, গারামারা, টিকরাকান্দি, ডিগ্রিরচর ও ডৌহাতলা  গ্রামের লোকসংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার।

ওই ১৫ গ্রামের বাসিন্দারা লক্ষ্মীরচর-নান্দিনা ও বালুরচর-নরুন্দি ঘাট থেকে নৌকায় ব্রহ্মপুত্র পার হয়ে জেলা সদর ও রাজধানীসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে হয়। একইভাবে নান্দিনা অথবা নরুন্দিতে এসে ওই গ্রামগুলোর হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে প্রতিনিয়ত স্কুল-কলেজে আসতে হয়। শিক্ষার্থীরা বর্ষায় আতঙ্ক নিয়ে উত্তাল ব্রহ্মপুত্র নদী পার হয় এবং শুকনো মৌসুমে বালু, কাদা, মাটি ও পানি মাড়িয়ে প্রায় এক কিলোমিটার চর হাঁটার পর নৌকায় পার হয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাধীনতার ৪৭ বছর পেরিয়ে গেলেও সেতু নির্মাণ না হওয়ায় তাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। দীর্ঘদিন ধরে সেতুর দাবি জানালেও তারা পেয়ে আসছে শুধু জনপ্রতিনিধিদের প্রতিশ্রুতি।

এই দুই ইউনিয়নবাসীর লেখাপড়া, ব্যবসা বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসা নানা কারণে হাজারো মানুষকে প্রতিদিন নদী পারাপার হতে হয় নিতান্তই বাধ্য হয়ে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয় শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের।

রেহাই গজারিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হালিম জানান, তুলশীরচর ও লক্ষ্মীরচরের উর্বর ভূমি ও পানির সহজলভ্যতার কারণে এ এলাকার মানুষের প্রধান জীবিকা হলো কৃষি। তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রি করতে নৌকা পার হয়ে নান্দিনা বাজারে যেতে হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় তাদের এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হচ্ছে না, কৃষক তার উৎপাদিত পন্যেরও ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

একই গ্রামের নজরুল ইসলাম নামের এক কৃষক জানান, লক্ষ্মীরচর ও তুলশীরচর ইউনিয়নের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হতে দুর্ভোগ যেন নিত্যদিনের চরাঞ্চলের হাজারো মানুষের। তিনি আরও বলেন, সরকার আসে-সরকার যায়, কিন্তু কৃষকের ভাগ্যের যেমন কোন পরিবর্তন হয় না, তেমনি   লক্ষ্মীরচর-নান্দিনা খেয়া ঘাটের সেতুও হয় না।

তুলশীরচর ইউনিয়নের বাসিন্দা সংবাদকর্মী এম এ জলিল আকন্দ শশী বলেন, 'শুনেছি নান্দিনায় ব্রহ্মপুত্র নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সরকার। এখানে সেতু নির্মিত হলে অবহেলিত দুই ইউনিয়নের মানুষের উন্নত যোগাযোগের সাথে বাড়বে সু-সম্পর্ক। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মানোন্নয়ন ও কৃষকদের উৎপাদিত নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারজাত করণেও দুর্ভোগ কমবে।'

নরুন্দি জিন্নতন আফছর মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক তুলশীরচর গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল করিম বলেন, অবহেলিত লক্ষ্মীরচর ও তুলশীরচর ইউনিয়নবাসী যুগ যুগ ধরে আধুনিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। এই চরাঞ্চলের ফসলি জমির উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করার প্রধান বাধা অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা।

একই কলেজের শিক্ষার্থী ও তুলশীরচর গ্রামের তরুণী দিলরুবা চম্পা জানান, ব্রহ্মপুত্র নদী পাড়ি দিয়ে কলেজে আসার জন্য দুই সেট করে ড্রেস সাথে আনতে হয়। এক ড্রেস পড়ে বাড়ি থেকে বের হই, নদী পার হয়ে অন্য ড্রেস পড়ে কলেজে আসি। শুষ্ক মৌসুমে নদীতে যখন পানি কমে যায় নৌকা চলে না, তখন হাটু পানি, আবার কোনো স্থানে কোমর পানি মাড়িয়ে কলেজে আসা-যাওয়া করতে হয়। 

জামালপুর এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম জানান, নান্দিনায়  ব্রহ্মপুত্র নদের উপর একটি সেতু নির্মাণ একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। ইতোমধ্যে সয়েল টেস্ট (মাটি পরীক্ষা) হয়ে গেছে। প্রাক্কলন তৈরির পর  দরপত্র আহ্বান শেষে দ্রুতই কাজ শুরু হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম বলেন, নরুন্দিতেও ব্রহ্মপুত্র নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণ সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।