• রবিবার, জুলাই ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:৩৭ বিকেল

নড়াইল জুড়ে সিসি ক্যামেরা লাগালো মাশরাফির ফাউন্ডেশন

  • প্রকাশিত ০৪:২৮ বিকেল জানুয়ারী ১২, ২০১৯
সিসি ক্যামেরা
নড়াইলের গণমানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে শহরজূড়ে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা লাগিয়েছে মাশরাফির নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন।

এসব ক্যামেরা মনিটরিং করছে পুলিশ, ফলে আইন-শৃংখলার উন্নতি এবং সামাজিক অপরাধ কমতে শুরু করেছে

“নড়াইল হবে প্রজন্মের শ্রেষ্ঠতম বাসস্থান” এই ব্রত নিয়ে কাজ শুরু করা নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন এবার হাত দিয়েছে জেলার আইনশৃংখলার কাজে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ কিংবা অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানো নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের নিজ উদ্যোগে নড়াইল সদর এবং লোহাগড়া পৌর এলাকায় বসানো হয়েছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসি ক্যামেরা)। আর এসব ক্যামেরা মনিটরিং করছে পুলিশ। ফলে ছিনতাই, ইভটিজিং, মোটরসাইকেল চুরি সহ নানা অপরাধ সংগঠনের আগেই বুঝে ফেলছে পুলিশ। এতে ফলে আইন-শৃংখলার উন্নতি এবং সামাজিক অপরাধ কমতে শুরু করেছে।

এর আগে প্রায় প্রতিদিনই নড়াইল শহরে হরহামেশা চুরি হতো মোটরসাইকেল। রাস্তাঘাটে ইভটিজিং বেড়েই চলেছিলো, শহরে নেশাখোরদের দৌরাত্ব্যে, ছিনতাই এর মতো ঘটনা ঘটছিলো প্রতিনয়ত। এসব সামাজিক অপরাধ এড়িয়ে সুস্থ্য জীবনের প্রত্যাশায় নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী ছিলো শহরের গুরুত্বপূর্ন ও ঝুকিপূর্ন স্থানসমূহে সিসিটিভি বসানোর। 

নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, বিদেশী প্রতিষ্ঠান 'ডাওয়া' এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি সিডনি সান এর সাথে প্রায় দুই মাস আগে নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের এর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সংগঠনটির চেয়ারম্যান মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে নড়াইল শহর ও লোহাগড়ার ২৪ টি পয়েন্টে প্রাথমিকভাবে ৫৮টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

আরো জানা যায়, নড়াইল  সদর পৌর এলাকার  নড়াইল চৌরাস্তা, শেখ রাসেল সেতু, বালিকা বিদ্যালয় এলাকা, আদালত চত্ত্বর, শিল্পকলা চত্ত্বর, সদর থানা মোড়, পুরাতন বাস টার্মিনাল এলাকা, সদর হাসপাতাল গেট, প্রেসক্লাব চৌরাস্তা, মুচিপোল চত্ত্বর, হাতিবাগান বাসস্ট্যান্ড, বাধাঘাট সহ ১৮টি পয়েন্টে এবং লোহাহড়া পৌর এলাকার লক্ষ্মীপাশা চৌরাস্তা, কুন্দসী চৌমাথা, ফয়েজ মোড়, লোহাগড়া পৌরসভা মোড়, জামরুলতলা সহ ৬ টি পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

নড়াইলে মাশরাফির নড়াইল এক্সপ্রেস ফাইন্ডেশনের লাগানো একটি সিসি ক্যামেরা। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন।

এদিকে, মাশরাফীর সংগঠনের এমন উদ্যোগে জেলার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় উচ্ছসিত এলাকার মানুষ। তেমনি একজন আলাদাপুর এলাকার নারীনেত্রী আঞ্জুমান আরা।

তিনি বলেন, "শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে বিশেষ করে স্কুল-কলেজ এলাকায় প্রতিনিয়ত ইভটিজিং এর ঘটনা ঘটতো, শিশুরা এমনকি মাঝবয়সী নারীরাও নির্যাতনের শিকার হতন বখাটেদের তা এখন কমতে শুরু করেছে,এটা সম্ভব হয়েছে মাশরাফী ও তার নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের জন্য"।

নড়াইল প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সাংবাদিক এম মুনীর চৌধুরী বলেন, শহরে সিসি ক্যামেরা লাগানোর ফলে আমরা নিজেদের কাজে যেখানে সেখানে মোটর সাইকেল রাখতে পারছি এবং নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারছি, এখন শহরে মোটর সাইকেল চুরি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

ইতিমধ্যে  নড়াইল  ও লোহাগড়া   শহরের সিসি ক্যামেরা স্থাপনের  কাজ  শেষ হয়ে গেছে। জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে একটি  কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে,এছাড়া লোহাগড়া  থানার একটি রুমে  কন্ট্রোল রুম স্থাপন করে একজন সাব-ইন্সপেক্টরের দ্বায়িত্বে কয়েকজন পুলিশ কাজ করছে। সেখান থেকে তদারকি করে প্রদক্ষেপ গ্রহন করছে পুলিশ । 

নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিমউদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই আমরা  এলাকার নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরার প্রয়োজন অনুভব করছিলাম, কিন্তু এটি একটি বড় ফান্ডের ব্যাপার। অবশেষে নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন এগিয়ে এসেছে, আমরা নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানাই। তাদের এই উদ্যোগের ফলে ছোটখাট চুরি, সড়ক দূর্ঘটনা ও ইভটিজিং কমতে শুরু করেছে।