• বৃহস্পতিবার, জুন ২৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩০ রাত

শফি: নারী শিক্ষার বিরুদ্ধে নই, নারীর জন্য নিরাপদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চাই

  • প্রকাশিত ১০:২৪ রাত জানুয়ারী ১২, ২০১৯
হেফাজত আমির ও আল-হাইয়াতুল উলইয়ার চেয়ারম্যান শাহ্ আহমদ শফী
হেফাজত আমির ও আল-হাইয়াতুল উলইয়ার চেয়ারম্যান শাহ্ আহমদ শফী। ছবি: সংগৃহীত

হেফাজত আমির বলেন, ‘‘আমি মূলত বলতে চেয়েছি ইসলামের মৌলিক বিধান পর্দার লঙ্ঘন হয়, এমন প্রতিষ্ঠানে মহিলাদের পড়াশুনা করানো উচিৎ হবে না। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা।’’

মেয়েদের স্কুল-কলেজে না পাঠানোর ব্যাপারে দেওয়া বক্তব্যের একটি খণ্ডিতাংশ গণমাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফি। বিভ্রান্তি দূর করতে শনিবার রাতে গণমাধ্যমে একটি ব্যাখ্যা পাঠিয়েছেন তিনি। মাওলানা শফির পক্ষে হাটহাজারী মাদ্রাসার মুখপত্র মাসিক মুইনুল ইসলাম এর নির্বাহী সম্পাদক সরওয়ার কামাল ব্যাখ্যা সম্বলিত বার্তাটি পাঠান।

গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে হেফাজত আমির বলেন, ‘‘আমি মূলত বলতে চেয়েছি ইসলামের মৌলিক বিধান পর্দার লঙ্ঘন হয়, এমন প্রতিষ্ঠানে মহিলাদের পড়াশুনা করানো উচিৎ হবে না। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। এখানে শিক্ষা থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনাসহ যাবতীয় সকল কিছুই রয়েছে। ইসলামে নারীদের শিক্ষার বিষয় উৎসাহিত করা হয়েছে এবং সকলেই অবগত যে, উম্মুল মুমিনিন হজরত মা আয়িশা (রাঃ) ছিলেন একজন প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস। তিনি শিক্ষাগ্রহণ না করলে উম্মত অনেক হাদিস থেকে মাহরুম হয়ে যেত। তবে এর পাশাপাশি ইসলামের একটি মৌলিক বিধান হচ্ছে পর্দা। নারীদের পর্দার বিষয় ইসলামে সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। আমি আমার বক্তব্যে বলতে চেয়েছি, শিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়ে যেন পর্দার বিধান লঙ্ঘন করা না হয়। কারণ আমাদের দেশের বেশীরভাগ সাধারণ শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে সহশিক্ষা দেয়া হয়, অর্থাৎ ছেলে-মেয়ে একই সাথে শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। এতে করে পর্দার লঙ্ঘন হয়। আমি মূলত এই সহশিক্ষা গ্রহণেই মানুষকে সতর্ক করতে চেয়েছি।’’

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে তাকে নারী বিদ্বেষী ও নারী শিক্ষা বিদ্বেষী বলে প্রচারণা চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে হেফাজত আমির বলেন, ‘‘যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা আমার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দাঁড় করাচ্ছে। আমি হাইয়াতুল উলইয়ালিল জামিয়াতিল কওমিয়া'র চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আপনারা জানেন যে হাইয়ার অধীনে হাজার হাজার নারী শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষার সনদ গ্রহণ করে থাকেন। ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান প্রদান করেছেন। এতে করে আমাদের দেশের লাখো মাদরাসা ছাত্র ও ছাত্রীরা দাওয়ারে হাদিস পাশ করে মাস্টার্সের সমমান অর্জন করছেন। যে সম্মিলিত বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা দিয়ে হাজার হাজার নারী রাষ্ট্র স্বীকৃত উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত বলে পরিগণিত হচ্ছে, সেই র্বোডের প্রধান হয়ে আমি কিভাবে নারী শিক্ষার বিরোধী হলাম তা বোধগম্য নয়। আমি আবারো বলছি যে, আমি বা আমরা নারী শিক্ষার বিরুদ্ধে নই, তবে নারীর জন্য নিরাপদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয় আমরা আগেও সতর্ক করেছি, এখনো করছি।’’

তিনি বলেন, ‘‘আমরা চাই নারীরা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হোক, তবে সেটা অবশ্যই নিরাপদ পরিবেশে থেকে এবং ইসলামের মৌলিক বিধানকে লঙ্ঘন না করে। শিক্ষা গ্রহণ অবশ্যই জরুরি, তবে সেটা গ্রহণের জন্য আমরা আমাদের কন্যাদের অনিরাপদ পরিবেশে পাঠাতে পারি না। আমরা যেমন নিরাপদ পরিবেশে রেখে নারীদের সর্বোচ্চ শিক্ষায় (দাওরায়ে হাদিস সমমান মাস্টার্স) শিক্ষিত করে যাচ্ছি, আপনারাও সেভাবে নিরাপদ ব্যবস্থা করে শিক্ষা দান করুন। আমরা উৎসাহিত করব আপনাদের। আমরা চাই এ দেশের নারীরা শিক্ষিত হোক, কারণ মা শিক্ষিত হলেও সন্তান সঠিক শিক্ষা পাবে। নারীদের শিক্ষা গ্রহণের জন্য পরিবেশ তৈরি করুন। যেখানে পরিচালক থেকে শুরু করে কর্মকর্তারা সকলেই নারী থাকবেন। সে ধরনের শিক্ষা দানের ব্যবস্থা থাকলে আমরা তাতে উৎসাহিত করবো ইনশাআল্লাহ্।’’

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) জুমার নামাজের পর চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার ১১৮তম বার্ষিক মাহফিল ও দস্তারবন্দী সম্মেলনে মাদ্রাসার মহাপরিচালক এবং হেফাজত প্রধান আল্লামা শাহ আহমদ শফি বলেন, ‘‘আপনাদের মেয়েদের স্কুল-কলেজে দেবেন না। ক্লাস ফোর বা ফাইভ পর্যন্ত পড়াতে পারবেন। আর বেশি যদি পড়ান... পত্র-পত্রিকায় দেখতেছেন আপনারা... মেয়েকে ক্লাস এইট, নাইন, টেন, এমএ, বিএ পর্যন্ত পড়ালে ওই মেয়ে কিছুদিন পর আপনার মেয়ে থাকবে না। তাই আপনারা আমার সাথে ওয়াদা করেন। বেশি পড়ালে আপনার মেয়েকে টানাটানি করে অন্য পুরুষ নিয়ে যাবে। এ ওয়াজটা মনে রাখবেন।’’ এ সময় উপস্থিত মুসল্লীরা হাত তুলে ওয়াদা করেন।

তার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, আহমদ শফির অভিমত একান্তই তার ব্যক্তিগত। এটা রাষ্ট্রীয় নীতিতে প্রতিফলন ঘটবে এরকম মনে করার কোনও কারণ নেই। তিনি দেশের একজন নাগরিক হিসেবে নিজের বিশ্লেষণ দিয়েছেন।

শফির সমালোচনা করে ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ১ শতাংশ মেয়েকেও উচ্চশিক্ষা থেকে দূরে সরাতে পারবেন না শফি।