• শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৪৬ সন্ধ্যা

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন সেই নির্যাতিতা পূর্ণিমা শীল

  • প্রকাশিত ০৯:১৪ রাত জানুয়ারী ১৫, ২০১৯
পূর্ণিমা শীল
সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের সঙ্গে পূর্ণিমা রাণী শীল। ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের জয়ের পর ধর্ষণের শিকার সিরাজগঞ্জের পূর্ণিমা রাণী শীল

একাদশ সংসদে সংরক্ষিত আসনের সদস্য হতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের জয়ের পর ধর্ষণের শিকার সিরাজগঞ্জের পূর্ণিমা রানী শীল।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রির শুরুর দিনে মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) দলের সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন পূর্ণিমা।

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনে সংসদীয় আসনগুলোর ভোটগ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহনের পর এখন তোড়জোড় চলছে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচনের।

নিয়মানুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোর আসন সংখ্যার অনুপাতে সংরক্ষিত আসন বণ্টন করা হবে। সে হিসেবে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৪৩টি সংরক্ষিত আসন।

ওই ৪৩টি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে নিজের জন্য ফরম কিনেছেন পূর্ণিমা।

প্রসঙ্গত, ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন নেমে আসে। সেবার নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহের মাথায়ই ৮ অক্টোবর সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানার দেলয়া গ্রামের অনিল কুমার শীলের বাড়িতে হামলা চালায় মৌলবাদী সন্ত্রাসীরা। হামলাকারীরা অনিল কুমারের ছোট মেয়ে পূর্ণিমাকে দলবেঁধে ধর্ষণ করে। সেসময় দশম শ্রেণিতে পড়তেন তিনি। পাশবিক অত্যাচারের পর প্রায় বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন পূর্ণিমা।

ধর্ষণকারীরা সবাই বিএনপি-জামায়াত জোটের সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। ২০১১ সালের ৪ মে এই ধর্ষণ মামলায় ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করে আদালত।

২০১৮ সালে তৎকালীন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেন পূর্ণিমা রাণী শীলকে। তবে এবারের মন্ত্রিসভায় তারানা হালিম ডাক না পাওয়ায় সেই চাকরিটিও হারিয়েছেন পূর্ণিমা।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেতে মুখিয়ে আছেন কবরী, সুবর্ণা মুস্তাফা, শমী কায়সার, অপু বিশ্বাস, জ্যোতিকা জ্যোতি এবং শাহানুরের মতো অভিনেত্রীরা। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে দলটির হয়ে নির্বাচনী প্রচারণার মাঠে ছিলেন তারা।