• শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৪ সকাল

ইসি রফিকুল: টিআইবির প্রতিবেদন মনগড়া, আমরা আমলে নিচ্ছি না

  • প্রকাশিত ০৯:৪৯ রাত জানুয়ারী ১৫, ২০১৯
নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম
নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম। ফাইল ছবি। ফোকাস বাংলা

রফিকুল ইসলাম বলেন, গবেষণা করতে যেসব পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হয়, তা এখানে প্রয়োগ করা হয়নি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ আখ্যা দিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তা প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেছেন, প্রতিবেদনটি পূর্বনির্ধারিত, মনগড়া। প্রতিবেদনটি নির্বাচন কমিশন আমলে নিচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে তিনি এ কথা বলেন।

রফিকুল ইসলাম বলেন, টিআইবি প্রতিবেদনটিকে গবেষণা বলে দাবি করছে। কিন্তু তা কোনো গবেষণা নয়। গবেষণা করতে যেসব পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হয়, তা এখানে প্রয়োগ করা হয়নি। এ ছাড়া বলা হয়েছে, এটি তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন। তার অর্থই হচ্ছে, প্রতিবেদনটি মনগড়া।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম বলেন, টিআইবি বলেছে গবেষণাটি গুণবাচক। এতে মুখ্য তথ্যদাতার সাক্ষাৎকার ও পর্যবেক্ষণ এবং ক্ষেত্রবিশেষে সংখ্যাবাচক তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তথ্য নেওয়া হয়েছে পরোক্ষ উৎস থেকে। কিন্তু এভাবে কোনো গবেষণা হয় না। ভোটের কারচুপির তথ্য নিলে অবশ্যই তা সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছ থেকে নিতে হবে অথবা লিখিত কোনো ডকুমেন্ট থেকে নিতে হবে। কিন্তু তারা এসবের কিছুই করেনি। কাজেই এটি কোনো গবেষণা হয়নি।

রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, "টিআইবি বলেছে, তারা বাছাই করা প্রার্থীদের কাছ থেকে তথ্য নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে জামায়াতের প্রার্থীদের কাছ থেকে তথ্য নিলে গবেষণা প্রতিবেদন এক রকম হবে। আবার আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের কাছ নিলে তা আরেক রকম হবে। কিন্তু এই গবেষণায় টিআইবির বাছাই করা প্রার্থী কারা, সেটা স্পষ্ট নয়। তাই আমরা এই প্রতিবেদন আমলে নিচ্ছি না।"

উল্লেখ্য, রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তাদের গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে তারা বলেছে, গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৫০টির মধ্যে ৪১টি আসনে জাল ভোট, ৪২টি আসনে প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর নীরব ভূমিকা, ৩৩টি আসনে নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালটে সিল মারা, ২১টি আসনে আগ্রহী ভোটারদের হুমকি দিয়ে তাড়ানো বা কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা, ৩০টি আসনে বুথ দখল করে প্রকাশ্যে সিল মেরে জাল ভোট দেয়া, ২৬টি আসনে ভোটারদের জোর করে নির্দিষ্ট মার্কায় ভোট দিতে বাধ্য করা, ২০টিতে ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই ব্যালট বাক্স ভরে রাখা, ২২টিতে ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়া ও ২৯টিতে প্রতিপক্ষের পোলিং এজেন্টকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘‘এবারের নির্বাচনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, প্রশাসনের একাংশ ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের পক্ষপাতমূলক ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে, যেটি আইনের লঙ্ঘন এবং নীতিবিবর্জিত। সর্বোপরি আংশিকভাবে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়েছে। কারণ একদিকে সব রাজনৈতিক দল প্রার্থিতার মাপকাঠিতে নির্বাচনে ছিল, কিন্তু নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয়তার বিবেচনায় বৈষম্য প্রকট ছিল।"