• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩১ রাত

জয়পুরহাটে জীবিতদের মৃত দেখিয়ে মাদকের তিন মামলায় জামিন

  • প্রকাশিত ০৪:৪৩ বিকেল জানুয়ারী ১৭, ২০১৯
জয়পুরহাট

 আসামিদের বিরুদ্ধে জয়পুরহাট ও পাঁচবিবি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে

মাদকের পৃথক তিন মামলায় জেলহাজতে থাকা তিন আসামির জীবিত বোন, স্ত্রী ও বাবাকে মৃত দেখিয়ে জামিন নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে জয়পুরহাট ও পাঁচবিবি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে। আসামিরা হলেন পাঁচবিবি উপজেলার কুয়াতপুর গ্রামের ইব্রাহিম হোসেন (৩০),পাঁচবিবি পৌরসভার বালিঘাটা বাজারের আমির হোসেন ওরফে সোহেল (২৬) এবং বাগজানা ইউনিয়নের কয়া গ্রামের আতোয়ার হোসেন (৩৫)। এদের মধ্যে আসামি ইব্রাহিম হোসেন জয়পুরহাট সদর থানার ১৫ নম্বর মামলার আসামি,আমির হোসেন পাঁচবিবি থানার ৫৬ নম্বর এবং আতোয়ার হোসেন একই থানার ৬৩ নম্বর মামলার আসামি। জানাজানির পর ধার্য তারিখে উপস্থিত না হওয়ায় আসামি আতোয়ারের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারী করেছে আদালত। পাশাপাশি পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পৃথকভাবে মৃত তিন ব্যক্তির প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।  

আদালত সূত্রে জানা গেছে, জামিন নেওয়ার সময় আসামি ইব্রাহিম হোসেনের জীবিত বোন আনোয়ারা বেগম, আসামি আমির হোসেনের জীবিত স্ত্রী ইয়াসমিন এবং আসামি আতোয়ার হোসেনের জীবিত বাবা নাজির উদ্দিনকে মৃত দেখানো হয়েছে। প্রমাণ হিসেবে পাঁচবিবি পৌরসভা,বাগজানা ও কুসূম্বা ইউনিয়ন পরিষদের মৃত্যু সনদ দাখিল করা হয়েছে। 

আদালত সুত্রে জানা গেছে, আসামি আতোয়ার হোসেন এর জেলা জজ আদালতে ধার্য তারিখ ছিল ৮ জানুয়ারী। কিন্তু ২৭ ডিসেম্বর তার জীবিত পিতা নাজির উদ্দিনকে মৃত দেখানোয় আদালত বিষয়টি বিবেচনা করে আসামি আতোয়ারকে অন্তবর্তীকালীন জামিনের আদেশ দেন। ৮ জানুয়ারী আতোয়ার হাজির না হওয়ায় জেলা জজ আদালতের বিচারক মমতাজ পারভিন জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং মৃত্যুর বিষয়ে পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।  

বাগজানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হক বলেন, ‘আসামি আতোয়ার হোসেনের বাবা নাজির উদ্দিনকে মৃত দেখিয়ে আমার পরিষদের জাল প্রত্যয়নপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে ‘

আসামি আতোয়ার হোসেনের বাবা নাজির উদ্দিন বলেন, ‘ছেলে হাজতে থাকার পর আইনজীবী নাজমুল ইসলাম জনি ও তার মুহুরির কাছে জামিনের জন্য যাই। তারা আমার জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি নেয়। ছেলের জামিনের পর জানতে পারছি আমাকে মৃত দেখিয়ে ছেলের জামিন নেওয়া হয়েছে। এখন বাড়িতে পুলিশ আসছে,সাংবাদিক আসছে। আমরা এর কিছু জানিনা।’

আসামি আমীর হোসেন সোহেল এর মামলার ধার্য তারিখ ২৩ জানুয়ারী থাকলেও একই আইনজীবী তার স্ত্রী ইয়াসমিনের পাঁচবিবি পৌর মেয়রের মত্যৃর সনদ দাখিল করে ৩১ ডিসেম্বর অন্তবর্তীকালীন জামিন করে নেন।   পাঁচবিবি পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘বালিঘাটা বাজারের আসামি আমীর হোসেন সোহেল এর স্ত্রী ইয়াছমিনকে মৃত দেখিয়ে আমার পরিষদ থেকে একটি মিথ্যা ও জাল মৃত্যুর প্রত্যয়নপত্র আদালতে দেখানো হয়েছে। বিষয়টি জানার পর আমি রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবীর কাছে লিখিত দিয়ে জানিয়েছি ওই মৃত্যুর সনদ আমার পরিষদ থেকে ইস্যু করা হয়নি। আসামির স্ত্রী ইয়াছমিন বেঁচে আছেন।’

মাদকের অপর মামলার আসামি ইব্রাহিম হোসেনের ১৪ জানুয়ারী ধার্য তারিখ থাকলেও বোন মারা যাওয়ার মিথ্যা তথ্য প্রমাণ দিয়ে ১৯ ডিসেম্বর জামিন করে নেন আইনজীবী নাজমুল ইসলাম জনি। তিনি আদালতকে জানান আসামির বোন আনোয়ারা বেগম ১৯ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৬টায় মৃত্যুবরণ করেছেন। আইনজীবীর দাখিল করা তথ্য প্রমাণ বিবেচনা করে পরবর্তী ধার্য তারিখ ১৪ জানুয়ারী পর্যন্ত আসামি ইব্রাহিমের অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন অবকাশকালীন জজ এ.বি.এম মাহমুদুল হক। ১৪ জানুয়ারি আসামি ইব্রাহিম আদালতে হাজির না হওয়ায় তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা করেন জেলা জজ আদালতের বিচারক মমতাজ পারভিন। একই সাথে তিনি আসামির বোনের মৃত্যুর বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। 

পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বজলার রহমান বলেন, ‘মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে জামিন নেওয়া তিনটি মামলার বিষয়ে আদালত থেকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ পেয়ে ইতোমধ্যে দুটির প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। মৃত দেখানো ব্যক্তিরা সবাই জীবিত আছেন। অন্যটির কাজ চলছে।’ 

জয়পুরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট নৃপেন্দ্রনাথ মন্ডল বলেন, ‘মাদকের তিন মামলার আসামির বাবা, স্ত্রী ও বোন জীবিত থাকা সত্ত্বেও তাদের মৃত দেখিয়ে অবকাশকালীন আদালত থেকে জামিন নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য লজ্জাজনক। আমরা চাই তদন্তের মাধ্যমে আইনজীবীসহ ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।’