• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৮ রাত

বগুড়ায় বালুর কূপে নেমে দুই শ্রমিকের মৃত্যু

  • প্রকাশিত ০৬:১৪ সন্ধ্যা জানুয়ারী ১৮, ২০১৯
বগুড়া

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিবগঞ্জ উপজেলার কয়েকজন বালু ব্যবসায়ী স্থানীয় প্রভাবশালী ও প্রশাসনকে 'ম্যানেজ' করে নাগর নদীর তীরে বিভিন্ন জায়গায় শ্যালো মেশিন বসিয়ে গভীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে

বগুড়ার শিবগঞ্জে নাগর নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলনের সময় কূপে নেমে পাইপ মেরামতের চেষ্টাকালে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার বুড়িগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ ছাতড়া গ্রামের তেঁতুলতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

শিবগঞ্জ উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার আবদুল হামিদের ধারণা, গভীর ওই কূপে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের আধিক্য থাকায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। 

ঘটনাটি নিশ্চিত করে শিবগঞ্জ থানার ওসি (অপারেশন) নান্নু খান জানান, নিহত শ্রমিকদের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে; শনিবার মর্গে পাঠানো হবে।

মৃত শ্রমিকরা হলেন- জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের বানিয়াচাপড় গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে খায়রুল ইসলাম (২৫) ও একই গ্রামের মোস্তফা সরকারের ছেলে মোশাররফ হোসেন (২০)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিবগঞ্জ উপজেলার কয়েকজন বালু ব্যবসায়ী স্থানীয় প্রভাবশালী ও প্রশাসনকে 'ম্যানেজ' করে নাগর নদীর তীরে বিভিন্ন জায়গায় শ্যালো মেশিন বসিয়ে গভীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। উপজেলার উত্তর ছাতরা গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে নাসির উদ্দিন দক্ষিণ ছাতড়া গ্রামের তেঁতুলতলা এলাকায় নাগর নদীর তীর নিজের দাবি করে সেখানে শ্যালো মেশিন স্থাপন করেন। সেখান থেকে শ্রমিকের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করায় প্রায় ২০ ফুট গভীর কূপের সৃষ্টি হয়। 

শুক্রবার বেলা ১টার দিকে মিস্ত্রিদের সর্দার নজরুল জুমার নামাজ আদায় করতে যান। তখন শ্রমিক খায়রুল ও মোশাররফসহ তিনজন বালু উত্তোলনের কাজ করছিলেন। এসময় মেশিনে সমস্যা দেখা দিলে ঠিক করার জন্য এক শ্রমিক কূপে নেমে অচেতন হয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধারের জন্য অন্যজন কূপে নামলে তারও একই অবস্থা হয়। 

কূপের বাইরে থাকা তৃতীয় শ্রমিকের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে দু’জনকে কূপ থেকে ওপরে তোলেন। খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অচেতন দুই শ্রমিককে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। 

ঘটনার পরপরই মিস্ত্রিদের সর্দার ও এক শ্রমিক মেশিন নিয়ে পালিয়ে যান। বালু উত্তোলক নাসির উদ্দিনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

শিবগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের লিডার আবদুল হামিদ জানান, ওই জায়গায় নাসির নামে এক ব্যক্তি নাগর নদীর পশ্চিম তীরে কূপ খনন করে শ্যালো মেশিন দিয়েবালু তুলে ব্যবসা করে আসছিলেন। 

শিবগঞ্জ থানার ওসি (অপারেশন) নান্নু খান জানান, দুই শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় বালু উত্তোলনকারীর অবহেলা থাকলে তার বিরুদ্ধে মামলা হবে। অন্যথায় অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা হতে পারে। 

তবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, নদী থেকে নয়; বাড়ি নির্মাণের জন্য ব্যক্তিগত জমি থেকে বালু তোলা হচ্ছিল।