• সোমবার, আগস্ট ২৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৪০ সকাল

নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব শীর্ষ বিএনপি নেতৃবৃন্দের

  • প্রকাশিত ০৬:০০ সন্ধ্যা জানুয়ারী ১৯, ২০১৯
বিএনপি নেতৃবৃন্দ
বিএনপি নেতৃবৃন্দের ফাইল ছবি।

'দরকার হলে আমাদের যাদের বয়স হয়ে গেছে, তারা সরে যাব' 

নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দল পুনর্গঠনে কাউন্সিল ডেকে নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব জানিয়েছেন বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মওদুদ আহমদে।

শুক্রবার (১৮ জানুয়ারি) জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই প্রস্তাব তোলেন তারা। অল্প কিছু নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

উল্লেখ্য, দলের প্রধান খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে কারাগারে যাওয়ার পর গভীর সঙ্কটে পড়া বিএনপি কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জোট গড়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়। তবে, নির্বাচনে সুদিন ফেরার পরিবর্তে মাত্র ৬টি আসনে জয়লাভ করেছে   দলটি যা তাদের ৪ দশকের রাজনৈতিক ইতিহাসে সর্বনিম্ন। অবিশ্বাস্য এই ফলাফলে বিএনপি ও তাদের জোট ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে অবিলম্বে নির্দলীয় সরকারের অধীনে পুনর্নির্বাচন দাবি করলেও নির্বাচন কমিশন তা নাকচ করে দেওয়ায় গভীর রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে দলটি।

এসবের প্রেক্ষিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, "২০০৮ সালে এমনিভাবে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে পরাজিত হয়েছিলাম। তার পরপর কিন্তু আমরা দলের কাউন্সিল করে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম এবং সারা দেশে আমাদের নেতা-কর্মীরা সাহসের সাথে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। সেটার প্রমাণ হল ৩০ তারিখে, সরকার ভোট করতে সাহস পেল না। এ অবস্থা থেকে বিএনপিকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে দল পুনর্গঠনের বিকল্প নেই। একটি কাউন্সিলের মাধ্যমে দলকে পুনর্গঠন করতে হবে। তুলনামূলকভাবে ত্যাগী, যারা পরীক্ষিত নেতা-কর্মী, তাদেরকে নেতৃত্বে আনতে হবে। আমরা যারা ব্যর্থ বলে পরিচিত হয়েছি, আমাদের পদ ছেড়ে দিতে হবে তরুণদের জন্য। তাহলেই বিএনপি ঘুরে দাঁড়াবে"।

সভায় এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যরিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, "যারা এই দুঃসময়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন,যারা দলের জন্য কাজ করেছেন,তাদের সামনের দিকে এনে দল পুনর্গঠন করতে হবে। দরকার হলে আমরা যারা,আমাদের বয়স হয়ে গেছে,আমরা সরে যাব। তারপরেও এই দলটাকে তো রাখতে হবে। ঘুরে দাঁড়ানোর একমাত্র উপায় হল পুনর্গঠন করা। এই কাজ আমাদের কয়েক মাসের মধ্যেই করতে হবে। তাহলেই আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারব।"

উল্লেখ্য, গত দশ মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন প্রায় তিন যুগ বিএনপিকে নেতৃত্বদানকারী বেগম খালেদা জিয়া। অন্যদিকে, দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তিন মামলায় সাজার রায় মাথায় নিয়ে যুক্তরাজ্যে পলাতক রয়েছেন বিগত প্রায় এক যুগ ধরে। তাদের অবর্তমানে মূলত বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগিরই বিএনপির নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন,"অন্ধকারের মধ্য থেকেই আলোতে উঠে আসতে হবে। যে কথা বিজ্ঞ আলোচকরা বলেছেন, এখন তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে, যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে। এই দেশটা আপনাদের, আপনাদেরকে সেটা রক্ষা করতে হবে।"

বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন,"দলের যারা ‘পঙ্গু’ হয়ে গেছে, যারা কারাবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যে মায়েরা-বোনেরা নির্যাতিত হয়েছে, তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে"।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদের পরিচালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান,আবদুল মান্নান,এজেডএম জাহিদ হোসেন,আহমেদ আজম খান বক্তব্য দেন।