• বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:২২ দুপুর

গোপালগঞ্জের গ্রামে ঘরে ঘরে আগুন দিচ্ছে 'জিন'!

  • প্রকাশিত ০৫:৩৮ সন্ধ্যা জানুয়ারী ২০, ২০১৯
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল ইউনিয়নের শংকরপাশা গ্রামের একটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ছবি : ঢাকা ট্রিবিউন
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল ইউনিয়নের শংকরপাশা গ্রামের একটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ছবি : ঢাকা ট্রিবিউন

আনোয়ার শেখের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, '৫ জানুয়ারী রাতে হঠাৎ করে আমার ঘরে আগুন দেওয়া হয় । কে বা কারা আগুন দিয়েছে আমরা দেখিনি। আমাদের বাড়িতে এ দিন সন্ধ্যা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত তিনবার অগ্নিসংযোগ করা হয়। এলাকায় আমাদের কোনো শত্রু নেই।' 

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল ইউনিয়নের শংকরপাশা গ্রাম। গ্রামজুড়েই  বাসিন্দা রয়েছেন আগুন আতঙ্কে।  রাত-বিরাতে ঘরে-দোকানে আগুন দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর প্রচার করা হচ্ছে এই অগ্নিকাণ্ডগুলোর পেছনে হাত রয়েছে জিনের!   

আগুন আতঙ্ক কেড়ে নিয়েছে শংকরপাশা গ্রামের বাসিন্দাদের রাতের ঘুম। কখন কার বাড়িতে আগুন লাগে এ শঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটছে তাদের। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন তারা।

সরেজমিনে জানা যায়, কারা, কেন এসব অগ্নিকাণ্ড ঘটাচ্ছে ক্ষতিগ্রস্থরা তা বলতে পারেছেন না । তারা জানিয়েছেন, তাদের কোনো শত্রু নেই। তারপরও ঘটছে অগ্নিসংযোগের ঘটনা। গ্রামের আনোয়ার শেখের বাড়িতে এক রাতেই তিনবার অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শুধু ওই বাড়িতেই নয়, অন্য আরও পাঁচটি দোকান ও ঘরে এমন ঘটনা ঘটেছে। 

এ পর্যন্ত ওই গ্রামের সিরাজুল মুন্সীর ছেলে ছাবু মুন্সীর (৫০) ঘর, সাদেক মুন্সীর ছেলে হাসান মুন্সীর (৬০) দোকান ঘর, সামসুল মুন্সীর ছেলে লিটন মুন্সীর (৪০) দোকান ঘর, মৃত আবুল শেখের ছেলে আনোয়ার শেখের (৪৫) বসতঘর এবং মৃত আবুল শেখের ছেলে মনিরুজ্জামান শেখের (৩২) ঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।  

জানা গেছে, এসব ঘটনা কে বা কারা ঘটিয়েছে, তা কেউ এখনো দেখেনি। এমনকি পাহারা বসিয়েও অগ্নিসংযোগকারীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। আর এই সুযোগে এসব জিনের কর্মকাণ্ড বলে চাউর করা হচ্ছে কৌশলে। ফলে আড়ালেই থেকে যাচ্ছে প্রকৃত ঘটনা। 

এ ঘটনাকে সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ড বলে আখ্যা দিয়েছেন গ্রামের সচেতন মহল। আর পুলিশ  বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে। 

অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্থ দোকানের মালিক লিটন শেখ বলেন, 'আমাদের গ্রামটি শান্তশিষ্ট ও সুশৃঙ্খল ছিল। হঠাৎ করে গ্রামের কিছু যুবক বিশৃঙ্খলা ঘটাচ্ছে। আমার দোকান পুড়িয়ে দিয়েছে। এতে আমার প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমার পাশের হাসান মুন্সীর দোকানও পুড়িয়ে দিয়েছে । এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। এর পরেও বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা এখন অজানা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।' 

ওই গ্রামের আনোয়ার শেখের স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৩৩) বলেন, '৫ জানুয়ারী রাতে হঠাৎ করে আমার ঘরে আগুন দেওয়া হয় । কে বা কারা আগুন দিয়েছে আমরা দেখিনি। আমাদের বাড়িতে এ দিন সন্ধ্যা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত তিনবার অগ্নিসংযোগ করা হয়। এলাকায় আমাদের কোনো শত্রু নেই।'

শংকরপাশা গ্রামের মিলন শেখের স্ত্রী ফরিদা বেগম (৪৮) বলেন, 'রাত জেগে পাহারা দিচ্ছি। রাতে আমরা ঘুমাতে পারি না। আমরা এর সুষ্ঠু সমাধান চাই।'  

রাতইল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আঞ্জুরুল ইসলাম আঞ্জু বলেন, 'প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করার জন্য হয়তো জিনের কাণ্ড বলে প্রচার করে বাড়িতে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যারা এসব করছে তারা হয়তো কোনো বড় ধরনের অপরাধ আড়াল করতে এ কাজ করে থাকতে পারে।' 

কাশিয়ানী-মুকসুদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হুসাইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, 'ক্ষতিগ্রস্থরা অভিযোগ দায়ের না করলেও আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। দোষী যেই হোক তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।'