• রবিবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৭ রাত

অগণিত চরে, খালে পরিণত হয়েছে যমুনা নদী

  • প্রকাশিত ০৫:৪৭ সন্ধ্যা জানুয়ারী ২০, ২০১৯
যমুনা নদী
নদী শাসন না হওয়ায় পানি শুকিয়ে যমুনা নদী এখন পরিণত হয়েছে মরা খালে। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

মাঝ নদীতেই আটকে যাচ্ছে নৌকা

টাঙ্গাইলের যমুনা নদীতে জেগে উঠেছে চর। নদীর একেকটি জেগে ওঠা চর পরিণত হয়েছে একেকটি দ্বীপে। নদী শাসন না হওয়ায় পানি শুকিয়ে যমুনা নদী এখন পরিণত হয়েছে মরা খালে। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় চরের মানুষের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। এমন চিত্রই দেখা গেছে টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর যমুনা নদীতে।

জেলার উত্তরে জামালপুর এবং সিরাজগঞ্জের কাজিপুর হতে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যমুনা নদী শুকিয়ে কয়েকটি চ্যানেলে ভাগ হয়ে খালে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত নাব্যতা না থাকার কারণে যমুনা নদীতে নৌ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। মাঝ নদীতেই আটকে যাচ্ছে নৌকা। নদীতে চর জেগে উঠায় নৌকাগুলো বিভিন্ন পয়েন্টে রেখে দিয়েছে মালিকরা। দু'একটি নৌকা পালা-বদল করে চলাচল করছে। নির্ধারিত কোন ঘাট না থাকায় নৌকা চালকরা নিজেদের সুবিধামত মানুষ নামিয়ে দিচ্ছে। ফলে কষ্ট করে নৌকায় উঠা-নামা করতে হচ্ছে চরের মানুষের। ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা ও অজুর্না এই দুইটি ইউনিয়নে চর জেগে উঠেছে। নৌকা চলাচল বন্ধ থাকায় এর মালিকরা পেশা বদলে কেউ ইট ভাটায়, কেউ বা খেতে-খামারে কাজ করছে। 

জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে যমুনা নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে নতুন নতুন এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। বাস্তুহারা হয়ে যায় শত শত পরিবার। আবার শুষ্ক মৌসুমে সেই এলাকা পরিণত হয় বিশাল চরে। যমুনা নদী ভেঙে ক্রমশ পূর্বের দিকে ধাপিত হচ্ছে। ফলে ভেঙে যাচ্ছে পুরাতন জনপদ। 

চরাঞ্চলের অনেকের সাথে কথা হলে তারা জানান, যাতায়াতের সমস্যার কারণে অন্তঃসত্ত্বা রোগীদের হাসপাতালেও নেয়া সম্ভব হয় না। 

উপজেলার চরাঞ্চলের গাবসারা মাদরাসার শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, "বর্ষার সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে সহজ হয়। নৌকায় চড়ে মাদরাসার পিছনে গিয়ে নামতে পারি। আর এখন ১০ টাকা দিয়ে নৌকায় নদী পার হয়ে পরবর্তিতে দুই কিলোমিটার পায়ে হেটে মাদরাসায় যেতে হচ্ছে। চরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নদীতে চর জেগে উঠায়"।

চরচন্দনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল ইসলাম বলেন, "কষ্ট হলেও যেতে হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। যমুনা নদী এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। মাঝ নদীতেই নৌকা আটকে পড়ে। আবার বর্ষার সময় খুব সহজেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে গিয়ে নামতে পারি। শুকনা মৌসুমে কষ্টটা বেশি সবচেয়ে"। 

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফিজুর রহমান বলেন, "যমুনা নদীর টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর অংশের নদী শাসনের কোন প্রকল্প নেয়া হয়নি। তবে উপজেলার কুঠিবয়ড়াসহ কয়েকটি স্থানে ভাঙনরোধে কাজ শুরু হয়েছে। তবে এর আগে কয়েকটি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর পাঠানো হলেও সেগুলো পাস হয়নি"।