• বুধবার, নভেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৪৪ রাত

'দেশে প্রতিবছর ১১ হাজার আত্মহত্যা'

  • প্রকাশিত ০৭:৪১ রাত জানুয়ারী ২০, ২০১৯
আত্মহত্যা বিষয়ক সংবাদ সম্মেলন
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আত্মহত্যা বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে বিশিষ্ট মনোবিজ্ঞানী ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের সহকারি অধ্যাপক মো. সেলিম চৌধুরী। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

গত দশ বছরে জাপানে আত্মহত্যার সংখ্যা কমে গেলেও বাংলাদেশে এ সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে

বাংলাদেশে প্রতি বছর ১১ হাজার আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে। এই হিসাবে বছরে প্রতি জেলায় গড়ে ১৭২জন তাদের জীবন স্বেচ্ছায় বিসর্জন দিচ্ছে। জাপানে এক সময় আত্মহত্যার ঘটনা ঘটতো খুব বেশি। গত দশ বছরে সে সংখ্যা কমে গেলেও বাংলাদেশে এ সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রোববার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে এই তথ্য প্রকাশ করেন বিশিষ্ট মনোবিজ্ঞানী ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের সহকারি অধ্যাপক মো. সেলিম চৌধুরী। 

তিনি বলেন, "এই প্রবণতা থেকে আমাদের প্রজন্মকে রক্ষা করার তাগিদ এসেছে"। বাংলাদেশে জেনেটিক হারে আত্মহত্যা বেড়েই চলেছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "এই প্রবণতা রোধে বিভিন্ন কৌশল ও পরিকল্পনা গ্রহন করা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে"।

‘অনীকদের জন্য উদ্যোগ’ শীর্ষক একটি সংগঠনের আহবায়ক এনটিভির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি সুভাষ চৌধুরীসংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান ।

তিনি তথ্য উপাত্ত তুলে ধরে বলেন, "গত ২০১৮ সালে সাতক্ষীরা জেলায় ৩৬৭ টি অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই হিসাবে এই জেলায় দৈনিক একজনের অপমৃত্যু ঘটছে। আত্মহননকারীদের মধ্যে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এই তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন  শ্রেণী আর পেশার নারী ও পুরুষ"। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, " শনিবার (১৯ জানুয়ারি) সাতক্ষীরায় তিনটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। আত্মহননকারী তিনজনই বিভিন্ন কলেজের ছাত্রী। তুচ্ছ কারণে এসব আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে বলে জানানো হয়। আমাদের ছেলে মেয়েরা অনেক কারণে হতাশা ও বিষন্নতায় ভোগে। তারা এর প্রতিবাদ অথবা প্রতিশোধ হিসাবে আত্মহত্যার মতো ক্ষতিকর পদক্ষেপ গ্রহন করে"। 

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, "আত্মহত্যা বা স্বেচ্ছায় মৃত্যু নিছক আবেগের কারণে হয়ে থাকলেও আত্মহত্যা কোনো প্রতিবাদ হতে পারে না। আত্মহত্যা কোনো প্রতিশোধ হতে পারে না। শিশু কিশোরদের এ ধরনের প্রবণতা থেকে সরিয়ে আনতে হলে সামাজিক উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে"। 

প্রতিটি আত্মহত্যার নেপথ্য ঘটনা অনুসন্ধান করে তার প্রতিকারের উদ্যোগ নিতে হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কেনো এতো আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে তা খতিয়ে দেখা দরকার। অভিভাবকের আচরণ, শিক্ষা ব্যবস্থা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, লিঙ্গ বৈষম্য, সামাজিক অবক্ষয় নাকি অন্য কিছু তা তলিয়ে দেখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলা হয় এর থেকে পরিত্রাণের পথ খুঁজতে হবে। 

"আমাদের শিশুরা নানা কারণে বিষন্নতা ও আশাহীনতায় ভোগে", জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনেবলা হয়, শিশু কিশোররা মাদকের দিকে ঝুঁকছে কিনা তা দেখতে হবে। এ প্রসঙ্গে তারা আরও বলেন, "শিশুর মেধা বিকাশের স্বাভাবিক সুযোগ দিতে হবে। চাপ প্রয়োগ করে তার কাছ থেকে বেশি কিছু প্রত্যাশা করা ঠিক নয়"। 

সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা সাতটি প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে পাঠ্যপুস্তকে আত্মহত্যা বিষয়ক প্রবন্ধ লেখা, কাউন্সেলিং, গনমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশসহ নানা বিষয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন আত্মহত্যায় পুত্রহারা বাবা তালা কলারোয়া আসনের সংসদ সদস্য মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, তার সহধর্মিনী প্রধান শিক্ষিকা নাসরিন খান লিপি, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, ‘অনীকদের জন্য উদ্যোগ’এর সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান মাসুম প্রমূখ। 

এ সময় আরও দুই মনোবিজ্ঞানী আবদুল আওয়াল মিয়া ও সালমা আক্তারসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। 

আত্মহত্যা প্রবণতা রোধে করনীয় শীর্ষক এক কর্মশালার উল্লেখ করে আয়োজকরা জানান, ‘অনীকদের জন্য উদ্যোগ’ নামের একটি প্লাটফরম গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আত্মহত্যার প্রবণতা রোধে কাজ করা হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।