• বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪০ রাত

মুন্সীগঞ্জের রামপালে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন উন্মোচিত হওয়ার সম্ভাবনা

  • প্রকাশিত ০৪:০৬ বিকেল জানুয়ারী ২২, ২০১৯
মুন্সীগঞ্জ
মুন্সীগঞ্জ সদরের রামপালের বল্লাল বাড়ি খননে প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শণের আলামত বেরিয়ে আসছে, ছবি- ইউএনবি

ধারণা করা হচ্ছে- বল্লাল বাড়িটিই রাজা বল্লাল সেনের রাজপ্রাসাদ ছিল

মুন্সীগঞ্জ জেলা সদরে রামপালের বল্লাল বাড়ি এলাকায় প্রাথমিক খননের ফলে বেশকিছু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন উন্মোচিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।  চীন ও বাংলাদেশি প্রত্নতাত্ত্বিকদের যৌথ অংশগ্রহণে ও 'অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন'-এর সভাপতি নুহ-উল-আলম লেনিনের পৃষ্ঠপোষকতায় গত ২১ জানুয়ারি শুরু হওয়া দুই দিনের খননকাজ শেষ হয় মঙ্গলবার। প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলক এই কার্যক্রমে বেরিয়ে এসেছে ইট, পাথর ও মৃৎ পাত্রের টুকরো, চারকোল ইত্যাদি।

খননকাজ তত্ত্বাবধান করেছেন প্রত্নতত্ত্ববিদ অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, “আমরা খনন করে চারকোল সংগ্রহ করেছি। এটি আমেরিকান ল্যাবরেটরি ‘বেটা’তে পাঠানো হবে। সেখান থেকে কার্বন পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর আমরা একটি তারিখ ঘোষণা করতে পারবো। অর্থাৎ সংগ্রহ করা নমুনা কত বছর আগের তা জানা যাবে। সেনদের রাজধানী বিক্রমপুর। আর বিক্রমপুরে অবস্থিত বল্লাল বাড়ি। বল্লাল বাড়ি খননের মাধ্যমে আমরা যে স্তর পেয়েছি তাতে মনে হয়েছে, এটি রাজা বল্লাল সেনের প্রাসাদ। বাড়ির চারদিকে একটি পরিখা আছে। প্রাসাদের নিরাপত্তায় কৃত্রিমভাবে এটি করা হয়েছে বলে ধারণা আমাদের। পরিখার ওপর দিয়ে রাস্তা ও ভবন নির্মাণ হয়েছে। কিন্তু রামপাল কলেজের পেছন থেকে পরিখা স্পষ্ট দেখা যায়। অনেক বছর পেরিয়ে গেলেও পরিখা নির্দেশ করে, ওই রাজার প্রাসাদ একটি নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে ছিল। জায়গাটি এখন ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে। এর মালিকদের অনুমতি নিয়ে ২০১১ সাল থেকে খননকাজ এগিয়ে নিতে চেষ্টা করে যাচ্ছি আমরা।"

তিনি আরও বলেন, বল্লাল বাড়ি এলাকায় পাওয়া পাথরগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো কোনও স্থাপত্যের ভাঙা টুকরো হতে পারে। বড় আকারে খননকাজ করলে আরও অনেক কিছু বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন তিনি। তখন একটি পুরো রাজধানীর চিত্র ফুটে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের সভাপতি নূহ-উল-আলম লেনিন বলেন, "যদিপ আমরা জানতাম, এই স্থানে রাজা বল্লাল সেনের বাড়ি। কিন্তু কখনও খননকাজ না হওয়ার কারণে প্রাচীন কোনও স্থাপত্য দৃশ্যমান ছিল না। ২০১০ সালে রঘুরামপুর ও পরে নাটেশ্বরে খননকাজ শুরু করি। পাশাপাশি এই স্থানেও খননের চেষ্টা করি। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের জায়গা দখল হওয়ার ভয়ে অনুমতি দেয়নি। পরে অনুমতি সাপেক্ষে মাত্র নয় বর্গমিটার জায়গায় খননকাজ শুরু করি। গবেষকরা বলছেন, এখানে একটি দূর্গ ছিল। যদিও আমরা আর খনন করতে পারিনি কিন্তু ধারণা করা হচ্ছে এখানে অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে। অন্যান্য সূত্র ও জরিপ অনুযায়ী, এখানে রাজার বাড়ি, মন্দির অথবা পুরো প্রাসাদ রয়েছে। যদি আরও খননকার্য চালানো যায়, তাহলে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত হতে পারে।"

বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের সভাপতি জানান, সরকার এর আগে সীমিত আকারে হলেও খনন প্রকল্পে অর্থ দিয়েছে। সেই অর্থ ও ব্যক্তিগত দান মিলিয়ে রঘুরামপুর ও নাটেশ্বরে খননকাজ করা হয়। তার ধারণা, বিক্রমপুর ও রামপালকে ঘিরে ১৩-১৪ বর্গমাইল এলাকায় আরও অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে। এসব কাজে চীনা গবেষকদের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। তারা আর্থিক ও কারিগরিভাবে সহায়তা করেছেন।

খননকাজে জেলা প্রশাসন সহযোগিতা করেছে বলেও জানান উদ্যোক্তারা। খনন করা স্থান পরিদর্শন করেছেন মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা। তিনি জানান, খননকাজে জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা থাকবে। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সহযোগিতা করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।