• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:০৬ বিকেল

বাড়ি পালিয়ে বাল্য বিয়ে থেকে বাঁচলো দশম শ্রেণির ছাত্রী

  • প্রকাশিত ০৭:২৮ রাত জানুয়ারী ২৫, ২০১৯
বগুড়া বাল্যবিয়ে
বাড়ি পালিয়ে বাল্য বিয়ের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়া দশম শ্রেণির ছাত্রী শারমিন (বাঁয়ে)। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

জমির লোভে পরিবারের লোকজন মানসিক প্রতিবন্ধী এক যুবকের সাথে তার বিয়ের ঠিক করেছিল

বাড়ি থেকে পালিয়ে বাল্য বিয়ের অভিশাপ থেকে নিজেকে বাঁচিয়েছে দশম শ্রেণির ছাত্রী শারমিন আকতার (১৫)। তার বাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুরের বিষ্ণুপুর গ্রামে।

বৃহস্পতিবার (২৪ জানুয়ারি) সে বাড়ি থেকে পালিয়ে নানার বাড়িতে চলে যায় সে। শুক্রবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে শারমিন ঢাকা ট্রিবিউনকে জানিয়েছে, এখনই বিয়ে করতে রাজি নয় সে।

শারমিন আরও জানায়, ৬ বিঘা জমির লোভে পরিবারের লোকজন মানসিক প্রতিবন্ধী এক যুবকের সাথে শনিবার তার বিয়ের দিন ঠিক করেছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুরে স্কুল থেকে বাড়ি না ফিরে নানার বাড়িতে চলে যায় সে।

জানা গেছে, শাজাহানপুর উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের ভ্যান চালক ইয়াসিন আলীর মেয়ে শারমিন স্থানীয় ডেমাজানি আসাতুন্নেছা গার্লস হাইস্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পার্শ্ববর্তী বড়নগর গ্রামের মৃত হবিবর রহমানের ছেলে সজিব মিয়া (২৫) মানসিক প্রতিবন্ধী। তার নামে ৬ বিঘা জমি আছে। এ জমির লোভে শারমিনের বাবা সজিবের সাথে মেয়ের বিয়ে দিতে রাজি হন। শনিবার বাদ জোহর বিয়ের দিন ধার্য ছিল। 

পরিবার থেকে শারমিনকে বিয়ের কথা বলা হলে সে অস্বীকৃতি জানায়। এতেও বিয়ে বন্ধ না হওয়ায় সে বাড়ি থেকে পালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্কুল থেকে বৃকুষ্টিয়া উত্তরপাড়া গ্রামে নানার বাড়িতে পালিয়ে যায় সে। 

শারমিনের নানী রেহেনা বেগম আর মামা ওবায়দুর রহমানও তাকে বাল্যবিয়ে দিতে নারাজ। 

শুক্রবার বিকেলে মুঠোফোনে ঢাকা ট্রিবিউনকে শারমিন জানায়, সে পড়াশোনা শেষ না করে বিয়ে করতে নারাজ। ভবিষ্যতে শিক্ষক হওয়ার ইচ্ছা আছে তার। বাবা জোর করে বিয়ে দিতে চাইলে সে স্কুল থেকে পালিয়ে নানার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। 

শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফুয়ারা খাতুন জানান, অভিযোগ পেয়ে মেয়েটির বাবাকে ডাকা হয়েছে। বাল্য বিয়ে দিলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।