• বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৩ রাত

বর্ণিল ঘুড়ি উৎসবে মাতোয়ারা বালিয়াড়ির সৈকত

  • প্রকাশিত ০৬:১৬ সন্ধ্যা ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৯
ঘুড়ি উৎসব
কক্সবাজারের বালিয়াড়ি সৈকতে ঘুড়ি উৎসবে মেতে উঠেছিলেন পর্যটকরা। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

সৈকতের আকাশে উড়ছে- ‘ড্রাগন কাইট’, ‘সিরিজ কাইট’, ‘ট্রেন কাইট’, ঢাউস আকৃতির ‘পকেট কাইট’, ‘স্ট্যান্ড কাইট’, ‘লায়ন ড্যান্স’

কক্সবাজারের বালিয়াড়ি সমুদ্র সৈকতে চলছে দুই দিনব্যাপী বর্ণিল ঘুড়ি উৎসব। শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) উৎসবের শেষ দিন। পড়ন্ত বিকেলের সোনালী রোদে সৈকতে উড়ছে নানা রঙের ঘুড়ি। সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে এসে পর্যটকরা উপভোগ করছেন রঙ-বেরঙের ঘুড়ির খেলা। পুরো সৈকতের আকাশ যেন ঘুড়ির মিছিলে ছেয়ে গেছে। 

এই ঘুড়ি উৎসবে শামিল হয়ে শৈশবের মধুর স্মৃতি রোমন্থন করতে সৈকতে আসা পর্যটকরা মাতোয়ারা হয়ে উঠেছেন। আয়োজকরা জানালেন বাঙালির ঐতিহ্যবাহী প্রথা ঘুড়ি ওড়ানোকে ধরে রাখতে এবং আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতেই তাদের এই প্রয়াস।

প্রতিবছরের মতো এবারও এই উৎসবের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ঘুড়ি ফেডারেশন। তাদের প্রয়াসেই সৈকতের সোনালী রোদের পড়ন্ত বিকেলে নীল আকাশে রং-বেরঙয়ের ঘুড়ি। ‘সাপ’, ‘মটু-পাতলু’, ‘ঈগল’, বাংলাদেশের পতাকাসহ শিশুদের পছন্দনীয় বিভিন্ন কার্টুন চরিত্রে আদলে উড়েছে অসংখ্য ঘুড়ি। 

এছাড়াও সৈকতের আকাশে উড়ছে- ‘ড্রাগন কাইট’, ‘সিরিজ কাইট’, ‘ট্রেন কাইট’, ঢাউস আকৃতির ‘পকেট কাইট’, ‘স্ট্যান্ড কাইট’, ‘লায়ন ড্যান্স’, রোমাঞ্চকর ‘জর্বিং বল’সহ সমুদ্রের ঢেউয়ের চূড়ায় বাজিকরি ক্রীড়া উৎসবে মেতে উঠেছেন প্রতিযোগীরা। কারও ঘুড়ি কাটছে অন্যটির সুতো, কখনওবা একটিকে ছাড়িয়ে আরেকটি উঠে যাচ্ছে দিগন্তের আরও উঁচুতে। 

সমুদ্র সৈকতে উড়েছে ড্রাগন ঘুড়িও। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউননগরের যান্ত্রিক জীবন ছেড়ে সমুদ্র সৈকতে প্রকৃতির কাছে এমন ঘুড়ি উৎসবে অনেকেই যেন ফিরে গিয়েছেন তাদের শৈশবে। তাদের কাছে এটা ভিন্ন ধরনের আনন্দ। 

এবারের ঘুড়ি উৎসবের মূল স্লোগান- ‘প্রকৃতি পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব সবার, ধর্ম যার যার উৎসব আনন্দ সবার’। উৎসবে সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ ঘোচাতে পোড়ানো হবে ‘সাম্প্রদায়িক দানব’। উদ্দেশ্য, যার যার ধর্ম নিয়ে সবাই যেন একত্রে মিলেমিশে বসবাস করতে পারেন। উৎসবের একেবারে শেষভাগে সন্ধ্যায় ওড়ানো হয় ফানুস।

উৎসবে অংশ নেওয়া পর্যটক পারভেজ চৌধুরী বলেন, ‘‘ঢাকায় আমরা ছোট বেলায় প্রচুর ঘুড়ি উড়াতাম। এখন আর সেই খোলা আকাশ নেই। তাই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে এসে ঘুড়ি ওড়াতে পেরে খুব ভাল লাগছে। আমি মনে করি, প্রতি বছরই এমন উৎসবের আয়োজন করা প্রয়োজন। এটা দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশে ভূমিকা রাখবে।’’

বাংলাদেশ ঘুড়ি ফেড়ারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান মৃধা বেনু ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, চীন, সাংহাই ও সিঙ্গাপুরে অনেক রঙ-বেরঙের ঘুড়ি কিনেছি এবং তা আকাশে উড়িয়ে অনেক আনন্দ পেয়েছি। এ আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। ঘুড়ি উৎসবের দ্বিতীয় দিনে থাকছে হট এয়ার বেলুন উড্ডয়ন, ঘুড়ি কাটা প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী।

উৎসবে শামিল হয়ে উড়েছে ‘ব্যাটম্যানও’। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউনএ উৎসবের বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, ‘‘ঘুড়ি যেমন আকাশে ওড়ে তেমনি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন ও চেতনা যুদ্ধাপরাধী রাজাকার মুক্ত দেশের আকাশে উড়বে। ঘুড়ি ওড়ানো আমাদের সংস্কৃতির সাথে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত।’’ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি করতে ঘুড়ি উৎসব একটি মাধ্যম হতে পারে বলে মনে করেন প্রতিমন্ত্রী। 

চীনের রাষ্ট্রদূত ঝাং ঝু বলেন, ‘‘এ ধরনের ঘুড়ি উৎসব চীনে এক সময় হতো। এখন তেমন একটা হয়না। তাই এই দীর্ঘ সমুদ্রের পাশে এসে ঘুড়ি উড়াতে পেরে খুবই ভাল লাগছে।’’ 

এই উৎসবকে ঘিরে সমুদ্র সৈকতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।

এর আগে বাংলাদেশ ঘুড়ি ফেডারেশন উদ্যোগে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে শুক্রবার ও শনিবার দুই দিনব্যাপী এই ঘুড়ি উৎসবের আয়োজন করা হয়। এতে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মনে করেন, ঘুড়ি উৎসব কক্সবাজার ভিন্নভাবে পরিচিতি করবে। আর চীনের রাষ্ট্রদূত বললেন, চীনের জন্য ঐতিহ্যবাহি এ ঘুড়ি উড়ানো। কক্সবাজারে এর আমেজও ভিন্ন।