• রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৩ রাত

চট্টগ্রামে হঠাৎ ভূমি অফিসে মন্ত্রী, বেকায়দায় সার্ভেয়ার

  • প্রকাশিত ০৮:১৫ রাত ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৯
ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ।
ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ এর ফাইল ছবি। ছবি: সৌজন্যে

'খুব বড় অফিসার হয়ে গেছো? মানুষকে ক্ষমতা দেখাও?'

রবিবার সকালে চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় অবস্থিত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় আকস্মিক পরিদর্শনে হাজির হন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ। পূর্বঘোষণা ছাড়াই চট্টগ্রামে ভূমি অফিসে হাজির হয়ে সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ সম্পর্কে অবহিত হন।

এ সময় সেবা নিতে ওই অফিসে আসা কালামিয়া বাজার এলাকার আবদুল মোতালেব এবং বাঁশখালী উপজেলার শিহাব উদ্দিন মন্ত্রীর কাছে তাদের হয়রানির কথা তুলে ধরেন। তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সার্ভেয়ার পরমেশ্বর চাকমাকে ডেকে কারণ জানতে চান। পরমেশ্বরকে তিনি বলেন, "ফাইল আটকে রাখার প্রবণতা কেন? মানুষকে হয়রানি করা-এসব কেনো? এসবের কারণ কি? তোমরা কি খুব বড় অফিসার হয়ে গেছো? মানুষকে ক্ষমতা দেখাও?"

সার্ভেয়ার পরমেশ্বর চাকমাকে সর্তক করে তিনি বলেন, "পরবর্তীতে এমন অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে"।

এসময় ভূমিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, "পরিস্থিতি দেখতে এখানে এসেছি। প্রতিমন্ত্রী থাকার সময়ও এখানে এসেছিলাম। আগের চেয়ে পরিস্থিতি বেটার মনে হয়েছে। উপরের পর্যায়ে অনেক স্বচ্ছতা এসেছে। আমার মন্ত্রণালয়েও অনেক ঠিক হয়েছে। নিচের লেভেলের কর্মচারীদের মধ্যে দুর্নীতি এখনও রয়ে গেছে"।

ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্তদের চেক নিয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন,  "মেকানিজম বের করছি কী করা যায়। ক্ষতিগ্রস্তদের সরাসরি চেক দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তা দালালদের হাতে যাচ্ছে। কীভাবে হচ্ছে তা বুঝছি না"।

ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধ করার জন্য এই অর্থ লেনদেন ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতি চালুর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আবেদনের পর টাকা সরাসরি ব্যাংক একাউন্টে চলে যাবে এবং সেখানে বিস্তারিত তথ্য থাকবে"। 

মন্ত্রী বলেন, "ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। এখানে এসেছি, কিছু কমপ্লেইন আছে। আশা করি সংশ্লিষ্টদের সাথে নিয়ে তা সমাধান করা হবে"।

এই শাখায় সরকারি সেবার মান নিশ্চিতে দপ্তরে উপস্থিত ভূমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "হয়রানি যাতে না হয় সেভাবে কাজ করতে হবে। দুর্নীতির ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স। আমরা নিজেরাও চাই জনগণ যাতে সেবা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার না হয়।"

"হয়রানি ও দুর্নীতি এখানে থাকতে পারবে না।কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাইন্ড সেটআপ ও কাজের ধরন পাল্টাতে হবে", যোগ করেন ভূমিমন্ত্রী। এছাড়াও আকস্মিক পরির্দশন এভাবে চলতে থাকবে বলেও জানান তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মমিনুর রশিদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।