• শুক্রবার, এপ্রিল ১০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩২ রাত

শিশু ইমনের ৪ হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ড

  • প্রকাশিত ০৩:৩৪ বিকেল ফেব্রুয়ারি ৬, ২০১৯
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্র শিশু ইমন হত্যা মামলায় বুধবার চারজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। ছবি : ঢাকা ট্রিবিউন
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার স্কুলছাত্র শিশু ইমন হত্যা মামলায় বুধবার চারজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। ছবি : ঢাকা ট্রিবিউন

৮ এপ্রিল মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে সিলেটের কদমতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে শিশু ইমনের হত্যাকারী স্থানীয় মসজিদের ইমাম সুয়েবুর রহমান সুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার স্কুলছাত্র শিশু ইমন হত্যা মামলায় চারজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। আজ বুধবার সিলেট বিভাগীয় দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. রেজাউল করিম বুধবার এ রায় দেন। 

ফাঁসির রায় পাওয়া আসামিরা হচ্ছেন-স্থানীয় মসজিদের ইমাম সুয়েবুর রহমান সুজন, রফিকুর রহমান, জাহেদ ও সালেহ আহমদ। তাদের মধ্যে কেবল সালেহ পলাতক রয়েছেন। বাকিরা কারাগারে রয়েছেন। 

সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্র্যাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট কিশোর কুমার কর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালত মুত্যদণ্ডাদেশের পাশাপাশি আসামিদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন। অন্য একটি ধারায় তাদের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। 

আলোচিত এই মামলায় হবিগঞ্জের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মোহাম্মদ শহীদুল আমিন ও সুনামগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শ্যাম কান্ত সিনহা, চিকিৎসক, তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নিহতের মা-বাবাসহ ২৩ জন সাক্ষ্য দেন বলে বলে কিশোর কুমার। তিনি জানান, গত ২৪ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক শুরু হয়। এরপর বুধবার ঘোষণা করা হলো মামলার রায়। 

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী প্রবাসফেরত জহুর আলী। 

ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের বাতিরকান্দি গ্রামের সৌদি প্রবাসী জহুর আলীর ছেলে ও লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কারখানার কমিউনিটি বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণীর ছাত্র মোস্তাফিজুর রহমান ইমনকে ২০১৫ সালের ২৭ মার্চ অপহরণ করা হয়। পরে মুক্তিপণের টাকা পাওয়ার পরও অপহরণকারীরা শিশু ইমনকে হত্যা করে। 

৮ এপ্রিল মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে সিলেটের কদমতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে শিশু ইমনের হত্যাকারী স্থানীয় মসজিদের ইমাম সুয়েবুর রহমান সুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, বিষের বোতল ও রক্তমাখা কাপড় উদ্ধার করে। এমনকি বাতিরকান্দি হাওর থেকে ইমনের মাথার খুলি ও হাতের হাড় উদ্ধার করে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

অপহরণ ও মামলা দায়েরের প্রায় সাড়ে সাত মাস পর ২০১৬ সালের ২১ নভেম্বর সাতজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে চার্জশিট থেকে বাদ দেয় আদালত। অপর চার আসামির মধ্যে বাতিরকান্দি গ্রামের সালেহ আহমদ ছাড়া একই  রফিক, জায়েদ ও উপজেলা ব্রাহ্মণ জুলিয়া গ্রামের সুজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।