• বুধবার, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪১ দুপুর

বাবার গাড়ির চাপায় মেয়ের মৃত্যু

  • প্রকাশিত ০৮:৩৯ রাত ফেব্রুয়ারি ৬, ২০১৯
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা
প্রতীকী ছবি

চোখের সামনে আদরের মেয়েকে নিজ গাড়ির নিচে চাপা পড়ার এ করুণ দৃশ্য যেন ভুলতে পারছেন না হতভাগা বাবা

বাবার কেনা গাড়িতে চালক বাবাকে জড়িয়ে ধরে পাশে বসে যাওয়ার বায়নাই কাল হলো শিশু জাকিয়ার। বাবার গাড়ি চাপাতেই করুণ মৃত্যু হলো তার।

চোখের সামনে আদরের মেয়েকে নিজ গাড়ির নিচে চাপা পড়ার এ করুণ দৃশ্য যেন ভুলতে পারছেন না হতভাগা বাবা। অঝর নয়নে কেঁদে চলেছেন তিনি।

নাটোরের লালপুর উপজেলার মোহর কয়া গ্রামে বুধবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে এই দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

লালপুর থানার ওসি নজরুল ইসলাম জুয়েল এ দুর্ঘটনার বিষয়টি ঢাকা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন।

ওসি জানান, বুধবার দুপুরে মোহরা কয়া গ্রামের অটোচালক আলমগীর হোসেন মেয়ে জাকিয়া সুলতানা, স্ত্রী এবং মাকে নিজ গাড়িতে নিয়ে স্থানীয় লালপুর বাজারে যাচ্ছিলেন। 

অন্যান্য সবাই গাড়ির পেছনের সিটে বসলেও মেয়ে জাকিয়া বাবাকে জড়িয়ে ধরে পাশে বসে যাওয়ার বায়না ধরে। মেয়ের আবদারে তাকে ড্রাইভিং সিটের বাম পাশে বসিয়ে ধীরে ধীরে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু পথিমধ্যে কসাই মোড় এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ একটা সাইকেল তাদের গাড়ির সামনে এসে পড়ে। সাইকেল চালককে বাঁচাতে গিয়ে দ্রুত ব্রেক কষলে গাড়িটি বাঁ-দিকে উল্টে যায়। গাড়ির নিচে চাপা পড়ে জাকিয়া।

স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাকিয়াকে মৃত ঘোষণা করে।

আদরের মেয়েকে হারানোর পর অপরাধবোধ, মেয়েকে বাঁচাতে না পারার কষ্ট আর নিজের ভাগ্যকে দোষারোপ করে প্রলাপ করতে করতে কান্নায় ভেঙে পড়েন আলমগীর।

ওসি জানান, এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মেয়েটিকে শেষবারের মতো দেখতে বিভিন্ন বয়সী মানুষ আলমগীরের বাড়িতে ভিড় করছিলেন। তাদের চোখ দিয়ে ঝরছিলো অশ্রু।