• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:০৬ বিকেল

নদীগর্ভে বিদ্যালয় ভবন, বাড়ির আঙিনায় চলছে পাঠদান

  • প্রকাশিত ০৭:৫১ রাত ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৯
টাঙ্গাইল নদী ভাঙন স্কুল
টাঙ্গাইলে নদীর গর্ভে ভবন বিলীন হওয়া খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করছে একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা বিমুখ হয়ে পড়ছে। দিন দিন কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা।

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান চলছে একটি বাড়ির আঙিনায় খড় বিছিয়ে। বিদ্যালয় ভবনটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষার্থীরা খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করছে। 

জানা যায়, উপজেলার গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে রয়েছেন ৪ জন শিক্ষক। ২০১৭ সালের বন্যায় ধলেশ্বরী নদীতে সৃষ্ট ভাঙনে বিদ্যালয়ের ভবন ও খেলার মাঠ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। তখন থেকেই বিদ্যালয়ে ভবন না থাকায় শিক্ষার্থীরা খোলা আকাশের নিচে খড় বিছিয়ে পড়াশোনা করে আসছে। ভাঙনে বিদ্যালয়ের কোনও জায়গা বা ভবন অবশিষ্ট না থাকায় পার্শ্ববর্তী একটি বাড়ির আঙিনায় বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালাচ্ছেন শিক্ষকরা। চলতি শীত মৌসুমে সকালে ঠাণ্ডা আর দুপুরে প্রচণ্ড রোদ হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। আর বর্ষাকালে বৃষ্টি নামলে পাঠদান বন্ধ করে ছুটি দিতে বাধ্য হন শিক্ষকরা। 

বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিদ্যালয়টি নদী ভাঙনের কবলে পড়ে। একাধিকবার স্থানান্তর করা হলেও ২০১৭ সালের ভাঙনের পর নতুন করে বিদ্যালয়টি পুন:নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। বিদ্যালয়ের এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা বিমুখ হয়ে পড়ছে। দিন দিন কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। 

অভিভাবক সুরুজ মিয়া বলেন, বিদ্যালয়টিসহ আমাদের বাড়ি-ঘর বার বার নদী ভাঙনের মুখে পড়ায় আমরা খুবই বিপদগ্রস্থ হয়ে পড়েছি। এখন বাচ্চাদের খোলা আকাশের নিচে পড়াশোনার জন্য পাঠাতে হচ্ছে। 

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজম আলী ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, বর্ষা মৌসুমের আগে ভবন নির্মাণ করা না হলে পাঠদান কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। সরকার অতিদ্রুত বিদ্যালয়টির ভবন নির্মাণ করে তাহলে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শিপ্রা সরকার বলেন, বিদ্যালয়টি বার বার ভাঙনের ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হারও দিন দিন কমে যাচ্ছে। বিদ্যালয়টি মেরামতের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত একটি অস্থায়ী ভবন নির্মাণ করা হবে।