• সোমবার, জানুয়ারী ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ রাত

কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে মসজিদের ইমাম গ্রেফতার

  • প্রকাশিত ১০:০১ রাত ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৯
ধর্ষণ
প্রতীকী ছবি

আদালতের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে অভিযুক্ত ইমাম স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার দোষ স্বীকার করেছেন

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে শাহজাহান গাজী (৬০) নামের এক মসজিদের ইমামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম ঢাকা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্ত ইমামকে আদালতে সোপর্দ করে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চারঘাটের শলুয়া সরকার পাড়া মসজিদের ইমাম ফুরকানিয়া মাদ্রাসায় বাচ্চাদের আরবি পড়াতেন শাহজাহান গাজী। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীতে। ধর্ষণের শিকার কিশোরী তার প্রতিবেশী।

চারঘাট থানার ওসি নজরুল ইসলাম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "মেয়েটি ওই ইমামের কাছে আরবি পড়ত। মাঝে মধ্যেই পড়ানোর অজুহাতে ঐ কিশোরীকে বাসায় ডাকতেন ঐ ইমাম। মেয়েটির বাবা-মা সরল মনে মেয়েকে ইমামের বাসায় পাঠাতেন। তবে, ইমাম মেয়েটির পরিবারের সরলতার সুযোগ নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। মেয়েটির মা প্রথম বিষয়টি বুঝতে পারলেও মান সম্মানের ভয়ে চেপে যান। পরবর্তীতে সন্দেহ হলে তিনি স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর পর জানতে পারেন যে তার মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। বিষয়টি মেয়ের বাবা জানতে পেরে ৪ ফেব্রুয়ারি চারঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন"। 

মামলার প্রেক্ষিতে গত বুধবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পুলিশ উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ধর্ষক শাহজাহান গাজীকে গ্রেফতার করা হয়।

ওসি নজরুল ইসলাম আরো জানান, ইমাম শাহজাহান গাজীকে বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে ৩ ঘণ্টা চিন্তা করার সময় দেন। পরে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। 

আদালতের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে শাহজাহান গাজী স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার দোষ স্বীকার করেছেন। জবানবন্দিতে বলেছেন, "আমি বিশ্বাস করি আমি পাপ করেছি। আমার বিচার হওয়া উচিত।"

উল্লেখ্য, শাহজাহান গাজী চারটা বিয়ে করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। এর মধ্যে তার ২ স্ত্রী মারা গেছেন।