• বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৯ রাত

খামারীদের আশা দুই কোটি টাকা

  • প্রকাশিত ০৪:৪৬ বিকেল ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯
মধুচাষ
গোপালগঞ্জে তেলবীজের ক্ষেতে মৌ-চাষের কাজ করছেন খামারীরা। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

আত্মপ্রত্যয়ী কোনও উদ্যোক্তা সামান্য বিনিয়োগ করেই এ কাজ শুরু করতে পারেন। মৌ খামারে পরিশ্রম ও ঠিকমতো পরিচর্যা করলেই প্রথম বছরেই লাভের মুখ দেখা সম্ভব।


চলতি অর্থবছরে দুই কোটি টাকার মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে গোপালগঞ্জের তেলবীজ মাঠে কাজ করছেন দেশের শতাধিক মৌ-চাষী।

গত পহেলা জানুয়ারি থেকে খামারীরা গোপালগঞ্জ সদর, কাশিয়ানী, মুকসুদপুর, টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া উপজেলার সরিষা, সূর্যমুখী, কলাই ও তিষি ক্ষেতে মৌমাছির জন্য ২ হাজার বাক্স স্থাপন করে মধু সংগ্রহের কাজ শুরু করেন। 

এ পর্যন্ত তারা প্রায় এক কোটি টাকার মধু সংগ্রহ করেছেন। পুরো ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে গোপালগঞ্জের ক্ষেতগুলোতে কাজ করে আরও এক কোটি টাকার মধু সংগ্রহের আশা করছেন খামারীরা।

চাষীরা জানান, মৌ-চাষ একটি অত্যন্ত লাভজনক প্রক্রিয়া। মধু, মৌমাছি ও মোম বিক্রি করে প্রচুর আয় করা সম্ভব। পেশাদার মৌ-চাষীদের দেখাদেখি জেলার বেকার যুবকরাও মৌ চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। অনেকেই এই প্রক্রিয়ায় সাবলম্বী হয়ে উঠেছেন।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের এস.এম জাকিরুল হাসান টিটো বলেন, গত ১৫-২০ বছর ধরে শীতের দু’ মাস মৌ চাষীরা গোপালগঞ্জের ক্ষেত থেকে মধু সংগ্রহ করে আসছেন। লাভজনক হওয়ায় তাদের দেখাদেখি আমাদের এলাকার অনেকেই মৌ-চাষ করে সাবলম্বী হয়েছেন।

গোপালগঞ্জ মৌ-চাষ প্রকল্পের শ্রমিক মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, আগে কৃষি শ্রমিকের কাজ করতাম। কৃষিতে সারা বছর কাজ করার সুযোগ নেই। কাজ না থাকলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটাতে হতো। পাঁচ বছর আগে মৌ খামারে কাজ শুরু করার পর প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা বেতনে সারা বছর কাজ করছি। খামার মালিক আমার ভরণ-পোষণ দেন। বেতনের পুরো টাকা সংসারে দিতে পারি। ছেলে মেয়ে নিয়ে এখন ভালই আছি।

এমন কৃত্রিম মৌচাক থেকেই সংগ্রহ করা হয় মধু। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউনমৌ খামার মালিক ইয়াছিন শেখ বলেন, মৌ-চাষ একটি লাভজনক ব্যবসা হওয়ায় প্রতিবছরই দেশে মৌ খামারের সংখ্যা বাড়ছে। আত্মপ্রত্যয়ী কোনও উদ্যোক্তা সামান্য বিনিয়োগ করেই এ কাজ শুরু করতে পারেন। মৌ খামারে পরিশ্রম ও ঠিকমতো পরিচর্যা করলেই প্রথম বছরেই লাভের মুখ দেখা সম্ভব। এলাকার বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে মৌ-চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। 

এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ মৌ-চাষ প্রকল্পের স্বত্ত্বাধিকারী মো. রোদেয়ান হোসেন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, গোপালগঞ্জের মাঠগুলোতে এবার ১০০ মেট্রিক টন মধু উৎপাদন হবে। যার বাজার দর ২ কোটি টাকা। 

উৎপাদিত মধু ঢাকায় বাজারজাত করা হয় বলে জানান তিনি। প্রতি কেজি মধু বিক্রি করা হয় দুইশ’ টাকা দরে। গত ১ মাসে মৌ খামরীরা কোটি টাকার মধু সংগ্রহ করেছে। সামনের এক মাসে আরো ১ কোটি টাকার বেশি মধু আহরণ করা সম্ভব হবে।

গোপালগঞ্জ শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বদ্যিালয়ের কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী মো. আব্দুল্লাহ ইবনে আজিজ বলেন, আমি পড়াশোর পাশাপাশি মৌ   খামার গড়ে তুলেছি। মধু সংগ্রহ করে ভালই লাভ হচ্ছে। নিজে সাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির চাকা সচল করতে ভূমিকা রাখছি।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ডিডি সমীর কুমার গোস্বামী বলেন, মৌমাছি স্ত্রী ও পুরুষ ফুলের ওপর বসে  মধু সংগ্রহ করে। এতে পরাগায়ন ভাল হয়। ফলে ফসল উৎপাদনও বাড়ে। এতে কৃষক ও মৌ চাষী সমান ভাবে লাভবান হন।