• মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:১২ বিকেল

জলসাকে কেন্দ্র করে পঞ্চগড়ে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, আহত অর্ধশতাধিক

  • প্রকাশিত ০৭:০৬ রাত ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৯
আহমদিয়া সম্প্রদায়
হামলার সময় আহমদিয়া সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ছবি- ঢাকা ট্রিবিউন

আহমদিয়া সম্প্রদায়ের জলসা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার পরেও তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে জানান জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন

পঞ্চগড়ে আহমদিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের (কাদিয়ানী নামেও পরিচিত) পূর্ব ঘোষিত বার্ষিক “সালানা জলসা” বন্ধের দাবীতে পঞ্চগড় শহর ও আশপাশের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। জলসার প্রতিবাদে কাদিয়ানী বিরোধী স্থানিয়রা শহরের আহমদনগরে তাণ্ডব চালায়। তারা মহাসড়ক দু'ঘন্টা ধরে অবরোধ করে রাখলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ,  রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। 

কাদিয়ানি বিরোধীরা আহমদিয়া সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগসহ গ্রামবাসীদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় পুলিশসহ উভয়পক্ষের কমপক্ষে অর্ধশত আহত হয়। গুরুতর আহতদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা থেকে সোয়া ১১টা পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট (এডিএম) এহেতেশাম রেজাকে প্রধান করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট  তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩ দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। 

যেভাবে হামলার ঘটনা ঘটে

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সম্মিলিত খতমে নবুওয়ত সংরক্ষণ পরিষদ, ঈমান আকিদা রক্ষা কমিটি ও পঞ্চগড় যুব সমাজ নামে কয়েকটি সংগঠনসহ কাদিয়ানী বিরোধী বিক্ষুব্ধ জনতা বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। মিছিল শেষে তারা পঞ্চগড় শহরের শেরেবাংলা পার্ক মোড় সংলগ্ন পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে। 

এসময় কাদিয়ানী বিরোধী বিক্ষুব্ধ লোকজন আহমদনগর এলাকায় যেতে চাইলে পুলিশ করতোয়া ব্রীজের ওপর তাদের পথরোধ করে। পুলিশি বাঁধা উপেক্ষা করে বিক্ষুব্ধ লোকজন লাঠিসোঠা নিয়ে আহমদনগরের দিকে রওয়ানা হলে পুলিশ তাদের বাঁধা দেয়। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে পুলিশও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে পুলিশ ও মুসল্লিদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে।  

পুলিশ ও জনতার ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে কাদিয়ানী বিরোধী অপর একটি গ্রুপ শহরের রাজনগর এলাকা দিয়ে করতোয়া নদী পার হয়ে আহমদিয়া মুসলিম জামাতের আহমদনগর এলাকায় গিয়ে বাড়ি-ঘর দোকান পাটে হামলা চালায়। সেখানে তারা আহমদিয়া মুসলিম জামাতের ১০/১২টি বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এসময় তাদের হামলায় আহমদিয়া জামাতের কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়। 

হামলায় আহত আহমদিয়া মুসলিম জামাতের অনুসারী মোশারফ হোসেন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "আমি আহমদিয়া মসজিদের ছাদে ছিলাম। ওরা দলে দলে আমাদের উপর হামলা করে ইট পাটকেল ছুড়তে থাকে। বাড়ি ঘরে ভাঙচুর করে ও অগ্নিসংযোগ করে। তাদের ছোরা একটি ইটের টুকরো আমার মাথায় লাগে।"

আহমদনগর মুসলিম জামাতের প্রেসিডেন্ট তাহের যুগল বলেন, "আমাদের ৪০ জনের মত লোক আহত হয়েছে। মেয়েদের টেনে হিচড়ে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে ও ভাংচুর চালানো হয়েছে। জলসার অনেক মালামাল ভাংচুর করা হয়েছে। সবমলিয়ে তারা প্রায় দুই ঘন্টা অতর্কিতে তাণ্ডব চালায়।"

পুলিশ সুপার গিয়াস উদ্দিন আহমদ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, মুসল্লিদের বিচ্ছিন্ন একটি গ্রুপ এই হামলা করেছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি কারা কারা এর সাথে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। 

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "মুসল্লিদের দাবি ছিল কাদিয়ানীদের জলসা বন্ধ করলে তারা তাদের দাবি দাওয়া তুলে নিবে। আমরা তাদের জলসা স্থগিত করার ঘোষণা দেই তারপরও তারা এই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি।"

এদিকে বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আহমদনগরে সালানা জলসা মাঠে আয়োজিত এক  সংবাদ সম্মেলনে আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত বাংলাদেশের নায়েবে আমীর ও সালানা জলসা আয়োজক কমিটির আহবায়ক আহমদ তবশির চৌধুরী বলেন, আহমদিয়া সম্প্রদায়ের  ৪টি দোকান ও ১৬টি ঘরবাড়িতে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় প্রায় ১ কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলায় তাদের ৬ জন গুরুতর আহত হয়েছে। জানমালের নিরাপত্তাহীনতার রয়েছেন পঞ্চগড়ের আহমদিয়া জামাতের বাসিন্দারা।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নিরাপত্তার জন্য লিখিত আবেদন করেও নিরাপত্তা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।