• শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৪২ সন্ধ্যা

রাষ্ট্রদূত: বাংলাদেশের উন্নয়নে সাতশ' কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

  • প্রকাশিত ০৭:১৯ রাত ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৯
আর্ল রবার্ট মিলার
বুধবার খুলনায় সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক ক্ষেত্রে একটি দেশের সাফল্যের জন্য শ্রমমানের উন্নয়ন এবং কর্মী অধিকার সমুন্নত রাখা দুটিই খুব জরুরি

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাদের বৈদেশিক উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা ইউএসএআইডি’র মাধ্যমে ১৯৭১ সাল থেকে বাংলাদেশকে উন্নয়ন সহায়তা বাবদ ৭শ' কোটি ডলারের বেশি অর্থ দিয়েছে। 

তিনি বলেন, ২০১৭ সালে সংস্থাটি খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও কার্যকলাপ এগিয়ে নেওয়া, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলার সামর্থ্য বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের জীবনমানের উন্নয়নে দিয়েছে ২১ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি।

বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) খুলনার রূপসা এলাকায় ইউএসএআইডি’র কর্মসূচি ‘নবযাত্রা’র উপকারভোগীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের সামনে এসব কথা বলেন। 

দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জন্য খুলনায় এ কর্মসূচিটি পরিচালিত হচ্ছে। ‘নবযাত্রা’র উপকারভোগীরা ইউএসএআইডি থেকে শেখা প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে কীভাবে খাদ্য উৎপাদনে তাদের স্বনির্ভরতা বাড়াচ্ছে রাষ্ট্রদূত তা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। 

মিলার জানান, যুক্তরাষ্ট্র সরকার মনে করে, অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক ক্ষেত্রে একটি দেশের সাফল্যের জন্য শ্রমমানের উন্নয়ন এবং কর্মী অধিকার সমুন্নত রাখা দুটিই খুব জরুরি।

ওয়ার্ল্ডফিশ, এসিডিআই/ভিওসিএ (ভোকা), সিআইএমএমওয়াইটি (সিমিট) উইনরক ইন্টারন্যাশনাল এবং ওয়ার্ল্ডভিশন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের (বারি) সহ অন্যান্য সহযোগীদের সহায়তায় প্রতিনিধি দলটির এ সফরের আয়োজন করা হয়।

এসময় রাষ্ট্রদূত মিলার ‘ফল আর্মি ওয়ার্ম’ পোকার হুমকির বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের (বারি) বিজ্ঞানীদের সঙ্গে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশে সম্প্রতি আসা এ পতঙ্গটি বিভিন্ন ধরনের ফসলের ক্ষতি করতে পারে। 

এ বিষয়ে বৈঠকের পর রাষ্ট্রদূত সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘কৃষকদের সচেতন করা এবং পতঙ্গটি দমনের উপায় বের করতে কৃষি মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য সংস্থার ব্যাপক কর্মতৎপরতায় আমি সন্তুষ্ট। তাদের গৃহীত কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে কৃষকদের ফল আর্মি ওয়ার্ম দমনে সহায়তা করতে বিশেষ করে পোকা মাকড় নিয়ন্ত্রণের উপকরণসহ নতুন পণ্যের নিবন্ধন প্রক্রিয়া দ্রুততর করা।’’

এই সফরে রাষ্ট্রদূত মিলারের সঙ্গে ছিলেন ইউএসএআইডি’র ডেপুটি মিশন পরিচালক জেইনা সালাহি। ইউএসএআইডির সহায়তাপুষ্ট স্থানীয় ‘ওয়ার্কার্স কমিউনিটি সেন্টার’ পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রদূত তাদের সফর শেষ হয়।

ইউএসএআইডি’র উন্নয়ন কর্মসূচিগুলোর প্রভাব সম্পর্কে সরাসরি মানুষের কাছ থেকে জানাই ছিল এ সফরের উদ্দেশ্য।