• রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৪ রাত

৫০ বছরের মধ্যে বিলুপ্ত হতে পারে সুন্দরবনের বাঘ

  • প্রকাশিত ০৪:৫৬ বিকেল ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৯
রয়েল বেঙ্গল টাইগার
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন ৫০ বছরের মধ্যে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার। ছবি: সংগৃহীত

'জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়াও সুন্দরবনের চারপাশে শিল্পকারখানা গড়ে ওঠায় বাঘের বসতি এলাকা কমে আসছে'

আগামী ৫০ বছরের মধ্যে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে সুন্দরবনের বাঘ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার সুন্দরবনের একটি বড় অংশ বিশেষ করে বাংলাদেশের সীমানাধীন অংশে বাঘ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে একটি গবেষণায় জানা গেছে।

অস্ট্রেলিয়ার জেমস কুক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ‘কম্বাইন্ড ইফেক্টস অব ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড সি-লেভেল রাইজ প্রজেক্ট ড্রামাটিক হেবিটেট লস অব দ্য গ্লোবালি এনডেঞ্জার্ড বেঙ্গল টাইগার ইন দ্য বাংলাদেশ সুন্দরবনস' শীর্ষক এই গবেষণাটি  পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা। গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশের ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শরীফ মুকুল। গবেষণা প্রতিবেদনটি বিজ্ঞান সাময়িকী 'সায়েন্স অব দ্য টোটাল এনভায়রনমেন্টে' প্রকাশ করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সুন্দরবনের নিচু এলাকাগুলো ডুবে যেতে পারে। এই নিচু এলাকাগুলোতেই বাঘের বিচরণ বেশি।

অস্ট্রেলিয়ার জেমস কুক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বিল লরেন্স এ প্রসঙ্গে বলেন, "বর্তমানে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা ৪০০০ এরও কম। যা অত্যন্ত কম। এক সময় বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে এই বাঘের বিচরণ থাকলেও বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশের একটি ছোট অঞ্চলে এগুলোর বিচরণ সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে"।

গবেষণা দলের প্রধান ড. শরীফ মুকুল বলেন, "বাংলাদেশ এবং ভারতের ১০ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই সুন্দরবন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো এই বনের উপরএই রয়েল বেঙ্গল টাইগারের অস্তিত্ব নির্ভর করছে"।


"সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী ২০৭০ সালের পর আর কোন বাঘ থাকবেনা", যোগ করেন তিনি।

"জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়াও সুন্দরবনের চারপাশে শিল্পকারখানা গড়ে ওঠায় সেখানে মানুষের চাপ বাড়ছে। ফলে বাঘের বসতি এলাকা কমে আসছে প্রতিনিয়ত। এছাড়াও সড়ক নির্মাণ করার কারণে চোরা শিকারিদের দাপট বাড়ছে। এতে একই সাথে ২ ধরণের হুমকিতে পড়ছে সুন্দরবনের বাঘগুলো", জানান অধ্যাপক বিল লরেন্স।

তবে আশার কথাও শুনিয়েছেন গবেষকেরা। অধ্যাপক লরেন্স জানান, বাঘ রক্ষায় সরকারের উদ্যোগ বাড়ালে এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে এই বাঘগুলোকে টিকে থাকতে সহায়তা করলে বিলুপ্তি হওয়া থেকে রক্ষা পেতে পারে ক্রমশ সংখ্যায় কমে আসা এই প্রাণিগুলো।

ড. শরীফ মুকুল এ প্রসঙ্গে বলেন, "যদি আমরা যথাযথভাবে সুন্দরবনের বাঘ রক্ষায় এখন থেকেই পদক্ষেপ নেওয়া না শুরু করি তাহলে এর ফলাফল কি হতে পারে সেটাই আমাদের গবেষণায় দেখানো হয়েছে"।

"সুন্দরবনের মত বন পৃথিবীর আর কোথাও নেই। এখানকার বিরল প্রজাতির এই বাঘকে রক্ষা করতে হলে সুন্দরবনের অন্য বাস্তু ব্যবস্থাকে রক্ষা করা ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই", যোগ করেন অধ্যাপক বিল লরেন্স।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে সুন্দরবনের বাংলাদেশের অংশে বাঘের সংখ্যা ছিল ৪০০টি। তবে, ২০১৫ সালে হিসাবে এর সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১০৬টিতে।