• বুধবার, জুলাই ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৩৬ রাত

পররাষ্ট্রমন্ত্রী: রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন, রাশিয়া আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে

  • প্রকাশিত ১০:৫৯ সকাল ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৯
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন
রবিবার রাজধানীতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি ও এটিএনবাংলা আয়োজিত ‘ইউসিবি পাবলিক পার্লামেন্টে' বিতর্ক প্রতিযোগিতার চূড়ান্তপর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। ছবি: ফোকাস বাংলা

মিয়ানমারে আমরা একটি ‘সেফ জোন' তৈরি করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে অনেক অগ্রগতি হয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন বলেছেন, চীন ও রাশিয়া আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে।

রবিবার রাজধানীতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি ও এটিএনবাংলা আয়োজিত ‘ইউসিবি পাবলিক পার্লামেন্টে' বিতর্ক প্রতিযোগিতার চূড়ান্তপর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন বলে ইউএনবি জানিয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, "রোহিঙ্গা সংকট বড় জটিল। এর কোনো একরতফা সমাধান নেই। এই সমস্যা সমাধানে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। তবে এই সমস্যা সমাধানে ইতিমধ্যেই কিছু ইতিবাচক উন্নতি হয়েছে। আশার কথা হচ্ছে এই ইস্যুতে রাশিয়া এবং গণচীন তার পূর্বের অবস্থান থেকে অনেকটা সরে এসেছে"।

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, "বৃহত্তর স্বার্থে এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষায় যে অভ্যন্তরীণ কৌশল ডিজাইন করা হয়েছে তাতে করে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যা সমাধানের পথে এগিয়ে যাচ্ছি"।

তিনি আরও বলেন, "এই সমস্যা অনেকদিন ধরে চললে এই অঞ্চলে কিছু অনিশ্চয়তা দেখা দেবে এবং কোনো রাষ্ট্রের জন্যই মঙ্গলজনক হবে না। চীন ও ভারতকে বুঝাতে হবে রোহিঙ্গা সংকট যদি দীর্ঘদিন বজায় থাকে তাহলে তা তাদের জন্যও ভবিষ্যতে সংকট তৈরি করতে পারে"।  

আবদুল মোমেন আরো বলেন, "অনেকেই মনে করেন জাতিসংঘে কোনো সংকট উত্থাপন করলেই তার সমাধান হয়ে যায়। কিন্তু এ বিষয়ে আমাদের অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে"।

১৯৭৮ সালে গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে জাতিসংঘে গেলেও ভারত তখন জাতিসংঘের কোনো চাপ ভ্রুক্ষেপ করেনি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, "ঠিক একইভাবে ইরান-ইরাক এবং সিরিয়া সংকটেও কিন্তু জাতিসংঘ সুরাহা করতে পারেনি।"

"শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে আমরা রোহিঙ্গা সংকটের সুন্দর সমাধানে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উভয়ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি", যোগ করেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আমরা শাখের করাতের মধ্যে আছি। মিয়ানমার মাঝে মাঝে বিভিন্ন উসকানি দিলেও আমাদের কথা শোনে। যেমন-তাদের ওয়েবসাইটে আমাদের সেন্টমার্টিন তাদের বলে দাবি করার পর আমরা প্রতিবাদ করলে তা আবার সরিয়ে নেয়। মিয়ানমারে আমরা একটি ‘সেফ জোন' তৈরি করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি"।

বাংলাদেশ চলচিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (বিএফডিসি) আয়োজিত এ প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।