• রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৮ রাত

'ছিনতাই' হওয়া বিমানের ক্রু'দের প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী

  • প্রকাশিত ১০:৩২ রাত ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৯
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
বৃহস্পতিবার 'ময়ূরপঙ্খী'র পাইলট গোলাম শফীসহ, ফার্স্ট অফিসার এবং পাঁচ কেবিন ক্রুদের সাথে গণভবনে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ফোকাস বাংলা।

বৃহস্পতিবার 'ময়ূরপঙ্খী'র পাইলট গোলাম শফীসহ, ফার্স্ট অফিসার এবং পাঁচ কেবিন ক্রুদের সাথে গণভবনে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ 'ময়ূরপঙ্খী' ছিনতাইয়ের চেষ্টার ঘটনা সাহসিকতা এবং অসাধারণ প্রজ্ঞার সাথে মোকাবিলা করায় বাংলাদেশ বিমানের পাইলট ক্যাপ্টেন গোলাম শফী ও ক্রুদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার 'ময়ূরপঙ্খী'র পাইলট গোলাম শফীসহ, ফার্স্ট অফিসার এবং পাঁচ কেবিন ক্রুদের সাথে গণভবনে সাক্ষাৎ প্রদানকালে প্রধানমন্ত্রী তাদের সাহসিকতা এবং বিচক্ষণতার ভূয়সী প্রশংসা করেন বলে ইউএনবির একটি খবরে বলা হয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন বিমানের কর্মকর্তাদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন।

সাক্ষাতে ক্রুদের ‘হিরো’ হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "জীবন ও সম্পত্তির কোনো ধরনের ক্ষতি ছাড়াই এমন ঘটনা মোকাবিলার দৃষ্টান্ত বিশ্বে বিরল"।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "জীবন এবং উড়োজাহাজের কোনো ধরনের ক্ষতি ছাড়াই এ ঘটনা মোকাবিলা আপনাদের বড় সফলতা।"

শেখ হাসিনা বলেন, "বিশ্বে এমন সফলভাবে কোনো উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের ঘটনা মোকাবিলার দৃষ্টান্ত নেই। এ ধরনের ঘটনায় মানুষ হত্যা ও সম্পত্তির ক্ষতি হয়ে থাকে এবং সংকট সমাধানে দীর্ঘ সময় লাগে"।

সাক্ষাতকালে পাইলট, ফার্স্ট অফিসার এবং পাঁচ কেবিন ক্রুদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আপনারা দৃঢ় সাহস, বুদ্ধিমত্তা এবং প্রজ্ঞা দেখিয়েছেন। আপনাদের বুদ্ধিমত্তা, তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা এবং সাহস ছিল অসাধারণ। এসব ভয়ংকর মুহূর্তে অনেকেই তাদের ধৈর্য ধরে রাখতে পারেন না"।

শেখ হাসিনা তাদের জানান, বিমানের যাত্রী, পাইলট এবং ক্রুদের নিরাপদে নামিয়ে আনার নির্দেশ দেন তিনি। কেননা সম্পত্তির চেয়ে তিনি মানুষের জীবন নিয়ে সর্বদা বেশি উদ্বিগ্ন থাকেন।

এসময় ময়ূরপঙ্খীর পাইলট গোলাম শফী প্রধানমন্ত্রীকে পুরো ঘটনার বিবরণ দেন। তিনি জানান, দুর্বৃত্তকে কথা বলায় ব্যস্ত রেখে কীভাবে তারা চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান অবতরণ এবং যাত্রীদের জীবন ও উড়োজাহাজ রক্ষা করেন।

গোলাম শফী জানান, ভয়ানক ওই মুহূর্তে তারা অভিজ্ঞতা এবং প্রশিক্ষণ থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান প্রয়োগ করেছিলেন।

তিনি বলেন, "দুর্বৃত্ত ককপিটে প্রবেশ করলে সে উড়োজাহাজকে অন্য দেশে নিয়ে যেত, ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হতো"। এসময় প্রশংসা করার জন্য ময়ূরপঙ্খীর সংশ্লিষ্ট সবার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তিনি।  

প্রসঙ্গতঃ বাংলাদেশ বিমানের উড়োজাহাজ ময়ূরপঙ্খীর ফার্স্ট অফিসার হলেন মুনতাসির মাহবুব, অন্যদিকে পাঁচ কেবিন ক্রু হলেন- শফিকা নাসিম, হোসনে আরা, শরিফা বেগম, শাহেদুজ্জামান ও আব্দুস শুকুর মোজাহিদ।

এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, সচিব মো. মহিবুল হক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএম মোসাদ্দেক আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, রবিবার পলাশ আহমেদ নামে এক দুর্বৃত্ত 'খেলনা পিস্তল' নিয়ে বিমানের (বোয়িং ৭৩৭-৮০০) একটি ফ্লাইট ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাইগামী বিমানটিতে ১৪৮ জন যাত্রী ছিল।