• শুক্রবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৬ রাত

‘শিক্ষকের পিটুনিতে’ হাসপাতালে শিক্ষার্থী

  • প্রকাশিত ০৬:৩৪ সন্ধ্যা মার্চ ৫, ২০১৯
সৃষ্টি সিরাজগঞ্জ
মঙ্গলবার সিরাজগঞ্জের সৃষ্টি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষকের পিটুনিতে আহত শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

‘মারপিটের সময় ভয় পাওয়ায় তার যথাযথ মানসিক কাউন্সিলিং প্রয়োজন।’

টাঙ্গাইল থেকে পরিচালিত সৃষ্টি সেন্ট্রাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ সিরাজগঞ্জ শাখার জীববিজ্ঞান বিভাগের বদমেজাজী শিক্ষক আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। মারধরের শিকার শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান হীরা প্রতিষ্ঠানটির দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার দুপুরের পর তাকে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালের চিকিৎসক আমিনুল ইসলাম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘ওই শিক্ষার্থীর কোমরের হাড়ে আগে থেকেই সমস্যা রয়েছে। উপর্যুপরি কিল-ঘুষির আঘাত সহ্য করতে না পেরে সে জ্ঞান হারায়। এখন তার অবস্থা শঙ্কামুক্ত হলেও মারপিটের সময় ভয় পাওয়ায় তার যথাযথ মানসিক কাউন্সিলিং প্রয়োজন।’’

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, ‘‘শিক্ষকের দেয়া পড়া বাড়ি থেকে ঠিকমতো পড়ে না আসার অপরাধে মঙ্গলবার দুপুরে শ্রেণিকক্ষের অন্যান্য সহপাঠির সামনে বদমেজাজী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম নাহিদকে বেধড়ক কিলঘুষি মারে। এক পর্যায়ে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’’

শিক্ষার্থী নাহিদ জানায়, ‘‘স্যার প্রায়ই আমাদের মারপিট করেন। মঙ্গলবার দুপুরে কোনও কারণে তার মেজাজ আগে থেকেই বেশ খারাপ ছিল। সামান্য কথাতেই তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের কয়েকজনকে একইভাবে মারধর করেন। আঘাত সহ্য করতে না পেরে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।’’

প্রসঙ্গত, সিরাজগঞ্জ জেলা শহরের মুজিব সড়কে ভাড়া ভবনে অস্থায়ীভাবে টাঙ্গাইল থেকে পরিচালিত হয়ে আসছে সৃষ্টি সেন্ট্রাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শাখা। মঙ্গলবার বিকেলে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আমিনুল ইসলামকে সেখানে পাওয়া যায়নি। 

তবে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ এস.এম.গোলাম কিবরিয়া শিক্ষার্থীর স্বজন ও স্থানীয়দের সামনে বলেন, ‘‘বিষয়টি আমি ও অন্যান্য শিক্ষকরাও শুনেছি। আমরাই ধরাধরি করে ওই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। ছেলেটির বাবা-মা আমাকে মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্ত শিক্ষকও তার ভুল বুঝতে পেরেছেন।’’

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফীউল্লাহ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনে আমরাও খোঁজ-খবর নিচ্ছি।