• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:১৯ রাত

মোস্তাফিজ: ক্যাম্পাসে লোক দেখানো সহাবস্থান তৈরি হয়েছে

  • প্রকাশিত ০৮:০৫ রাত মার্চ ৬, ২০১৯
ছাত্রদল মোস্তাফিজ
ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

ডাকসু নির্বাচনে আলোচনার শীর্ষে থাকা সহ-সভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থীরা ঢাকা ট্রিবিউন কে দিয়েছেন বিশেষ সাক্ষাৎকার। দ্বিতীয় কিস্তিতে প্রকাশিত হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভিপিপ্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান এর সাক্ষাৎকার

দীর্ঘ ২৮ বছর পর আগামী ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বহুল প্রতীক্ষিত এবারের ডাকসু নির্বাচনে মোট ২২৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে আলোচনার শীর্ষে থাকা সহ-সভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থীরা ঢাকা ট্রিবিউন কে দিয়েছেন বিশেষ সাক্ষাৎকার। দ্বিতীয় কিস্তিতে প্রকাশিত হলো ঢাকা ট্রিবিউন সাংবাদিক আহমেদ সার্জিন শরীফকে দেয়া সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভিপিপ্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান এর সাক্ষাৎকার। 

ঢাকা ট্রিবিউন: ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে আপনাদের প্রত্যাশা কী?

মোস্তাফিজ: আপনারা দেখে থাকবেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানুষ ভোটবিমুখ হয়েছে। নির্বাচন যেন একটা প্রহসনে পরিণত হয়েছে। আমরা আশা করি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটের প্রতি মানুষের যে অনাস্থা তা দূর হবে। শিক্ষার্থী এবং সাধারণ জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাবে।

ঢাকা ট্রিবিউন: নির্বাচনীপরিবেশ কেমন মনে হচ্ছে? সহাবস্থান কতটুকু নিশ্চিত হয়েছে বলে মনে করছেন?

মোস্তাফিজ: ক্যাম্পাসে লোক দেখানো একটা সহাবস্থান তৈরি হয়েছে। কিন্তু ছাত্রলীগের ছেলেরা আমাদের কাজে বাধা দিচ্ছে। প্রশাসনের যথাযথ পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। আপনারা দেখে থাকবেন ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ প্রার্থীর রঙিন পোস্টার লাগানো হয়েছে, যা সুস্পষ্টভাবে আচরণবিধির লঙ্ঘন। কিন্তু প্রশাসন এ ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।

ঢাকা ট্রিবিউন: এমন পরিস্থিতিতে কতটুকু সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে?

মোস্তাফিজ: এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার কোনও লক্ষণ আমি দেখতে পাচ্ছি না। প্রথম থেকেই ছাত্রলীগ বাদে অন্য প্রায় সব ছাত্র সংগঠনগুলো একাডেমিক ভবনে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছিল। কারণ প্রায় ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী হলের বাইরে অবস্থান করেন। হলে গিয়ে ভোট দিতে তাদের মধ্যে একটা ভীতি কাজ করতে পারে। এখানে আমি একটা দূরভিসন্ধি দেখতে পাচ্ছি।

ঢাকা ট্রিবিউন: এত প্রতিকূলতা সত্বেও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন কেন?

মোস্তাফিজ: আমরা শুরু থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আস্থা রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের আস্থার কোনও মূল্যায়ন করেননি বরং বিমাতাসুলভ আচরণ করেছেন। তবুও সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে, তাদের জন্য কাজ করার উদ্দেশ্যে আমরা নির্বাচনে এসেছি।

ঢাকা ট্রিবিউন: সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে কী করবেন?

মোস্তাফিজ: নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

ঢাকা ট্রিবিউন: আপনাদের ঘোষিত প্যানেলের বেশিরভাগ প্রার্থীই সেভাবে পরিচিত মুখ নন সেক্ষেত্রে জয়ের ব্যাপারে আপনারা কতটুকু আশাবাদী?

মোস্তাফিজ: সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত হলে জয়ের ব্যাপারে আমরা শতভাগ আশাবাদী। তবে সবগুলো ছাত্র সংগঠনকে এক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা জাতির বিবেক। ইতিহাস বলে, জাতির প্রয়োজনে সবসময় এখানকার শিক্ষার্থীরা জেগে উঠেছে বারবার। দেশের প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তারা শোষণ থেকে মুক্তি পেতে আমাদেরকে সমর্থন দেবেন।


আরও পড়ুন- লিটন নন্দী: প্রশাসন একধরনের প্রভু, আর ছাত্ররা যেন দাস


ঢাকা ট্রিবিউন: ক্যাম্পাসে নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে আলাদা করে রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের কতটুকু প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন?

মোস্তাফিজ: প্রতিটি রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সারা দেশের ছাত্র সমাজের প্রতিনিধিত্ব করে ডাকসু বা ক্যাম্পাসের ছাত্র সংসদ একটা সম্মিলিত মতামতের জায়গা। কিন্তু রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলো নিজস্ব আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করে। সেক্ষেত্রে এগুলোর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। এসব সংগঠন থেকেই ছাত্রনেতারা জাতীয় রাজনীতিতে উঠে আসেন।

ঢাকা ট্রিবিউন: প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অভিযোগ তুলেছেন আপনারা। সেই পরিস্থিতিতে কোনও পরিবর্তন এসেছে?

মোস্তাফিজ: ছাত্রলীগ ব্যতীত প্রশাসন আর কারও দাবির প্রতি কোনও ভ্রক্ষেপ করছে না। তারা যেভাবে চাইছে, প্রশাসনও সেভাবেই কাজ করছে। আমার মনে হয় একটা একপেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি চলমান।

ঢাকা ট্রিবিউন: সামনে কোনও ধরনের আন্দোলনের প্রস্তুতি রয়েছে?

মোস্তাফিজ: আপাতত ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরেই আমরা চিন্তা-ভাবনা করছি। এখানে প্রচারণার কাজে বাধার সম্মুখীন হলে আমরা আন্দোলনে যাব।

ঢাকা ট্রিবিউন: নির্বাচিত হতে পারলে আপনি কী কী পরিবর্তন আনতে চান?

মোস্তাফিজ: প্রথম কথা হলো- আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সার্বিক অধিকার আদায়ে কাজ করব। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় সঙ্কট হলো- আবাসিক সমস্যা। প্রথম এবং দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে হলের বাইরে অবস্থান করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনগুলোতে খাবারের মান ভাল না। লাইব্রেরিতেও বসার জায়গার অপ্রতুলতা রয়েছে। আমি নির্বাচিত হতে পারলে এসব দূরাবস্থা নিরসনে কাজ করব।