• মঙ্গলবার, আগস্ট ০৪, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:৪৯ সন্ধ্যা

শোভন: ছাত্রলীগকে তরুণদের প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই

  • প্রকাশিত ০৮:৩২ রাত মার্চ ৮, ২০১৯
রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন
ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। ছবি: সৌজন্য

ডাকসু নির্বাচনে আলোচনার শীর্ষে থাকা সহ-সভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থীরা ঢাকা ট্রিবিউন কে দিয়েছেন বিশেষ সাক্ষাৎকার। চতুর্থ কিস্তিতে প্রকাশিত হলো বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি ও ভিপি প্রার্থী মো. রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এর সাক্ষাৎকার

দীর্ঘ ২৮ বছর পর আগামী ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বহুল প্রতীক্ষিত এবারের ডাকসু নির্বাচনে মোট ২২৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে আলোচনার শীর্ষে থাকা সহ-সভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থীরা ঢাকা ট্রিবিউন কে দিয়েছেন বিশেষ সাক্ষাৎকার। চতুর্থ কিস্তিতে প্রকাশিত হলো ঢাকা ট্রিবিউন সাংবাদিক আহমেদ সার্জিন শরীফকে দেয়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি ও ভিপি প্রার্থী মো. রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এর সাক্ষাৎকার। 

ঢাকা ট্রিবিউন: ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগ ঘোষিত প্যানেলে সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে রাখা হয়েছে। বিষয়টি বেশ প্রশংসিতও হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের জায়গা দেয়ার বিশেষ কোনও কারণ আছে?

শোভন: আমাদের প্যানেলে সম্পাদক হিসাবে যাদেরকে প্রার্থী করা হয়েছে তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ জায়গাগুলোতে দক্ষতার সাথে কাজ করতে পারবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। তারা ডাকসুতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়ে কাজ করলে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে পৃথিবীর বুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তথা বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করতে ভূমিকা রাখতে পারবে। উদাহরণস্বরূপ আমাদের ক্রীড়া সম্পাদক পদপ্রার্থী শাকিল আহমেদ তানভীর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল, হকি এবং ভলিবল দলের অধিনায়ক। প্রতিটি পদেই এমন সফল এবং যোগ্যদেরকে নিয়ে প্যানেল সাজিয়েছি আমরা। যাতে তারা নিজেদের উৎকর্ষকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে।

ঢাকা ট্রিবিউন: প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে আপনি বলেছেন গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে এটা করা হয়েছে। আপনাদের নিজেদের নেটওয়ার্ক ছেড়ে কেন সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার ওপর নির্ভর করতে হলো? এটা কি একধরনের সরকারি সুবিধা পাওয়া হয়ে গেল না?

শোভন: হ্যাঁ, আমরা গোয়েন্দা রিপোর্টের কথা বলেছি কিন্তু আমরা নিজেদের বিবেচনা অনুযায়ীই প্রার্থী দিয়েছি। তবে বিষয়টি এমন নয় যে তারা যাকে বলেছেন আমরা তাকে প্রার্থী করেছি। তারা শুধু প্রার্থীদের বিভিন্ন তথ্য স্ব-প্রণোদিত হয়ে যাচাই-বাছাই করেছেন। এক্ষেত্রে আমরা সরকারি সুবিধা নেইনি।

ঢাকা ট্রিবিউন: ছাত্রলীগের প্যানেল ঘোষণার পর একটি বিদ্রোহী প্যানেল ঘোষণা করতে দেখা গেছে। পরে আবার সেটা প্রত্যাহারও করা হয়। এটা সংগঠনে অভ্যন্তরীণ সমঝোতার অভাব?

শোভন: ছাত্রলীগে বিদ্রোহী হওয়ার কিছু নেই। তারা সংগঠনের সদস্য হলেও সাধারণ শিক্ষার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিল। ছাত্রলীগ একটি পরিবার। একটা পরিবারে মনোমালিন্য হতেই পারে। তারা যখন এই বিষয়টা বুঝতে পারলেন, তখন আমাদের যে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি হয়েছে সেখানে সমন্বয় সদস্য হিসেবে কাজ করছেন।

ঢাকা ট্রিবিউন: কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের নয় মাসেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে না পারা ও হল কমিটি দিতে না পারার কারণ কী? কবে নাগাদ পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেন?

শোভন: আসলে একটা সঙ্কটময় মূহুর্তে আমরা দায়িত্ব পেয়েছি। আমরা নেতৃত্বে আসার পরপরই একটার পর একটা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে চলে এসেছে। সেক্ষেত্রে আমরা সাংগঠনিক দিক বিবেচনা করে কমিটি দিতে বিলম্ব করছি। যেমন যখন একাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে চলে এলো, তখন সেখানে সবাইকে কাজে লাগানোর জন্য আমরা চিন্তা করেছিলাম কমিটিটা তার পরে দেব। এরপরে আবার চলে এলো ডাকসু নির্বাচন। সংখ্যাগত দিক দিয়ে যে কোনও কমিটিরই একটা সীমাবদ্ধতা থাকে। সেক্ষেত্রে ধরুন তিনশ’জনকে পদ দেওয়া হল কিন্তু সেজন্য আবার অন্তত হাজারখানেক নেতা-কর্মী পদবঞ্চিত হবেন। এতে তাদের মধ্যে একটা হতাশা চলে আসতে পারে। এসব ব্যস্ততা শেষ হলে পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা হবে। তবে বিভিন্ন সময় সংগঠনের জন্য যারা কাজ করে যাচ্ছেন তাদের একটা ডাটাবেজ আমাদের কাছে আছে। সেই অনুযায়ী কমিটি দেয়া হবে।

ঢাকা ট্রিবিউন: প্যানেল ঘোষণার পর কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

শোভন: শিক্ষার্থীরা খুব স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদেরকে গ্রহন করেছেন। কারণ আমাদের ঘোষিত প্যানেলে প্রত্যেকটি পদে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে জনপ্রিয়দেরকে প্রার্থী করা হয়েছে। আরেকটা বিষয় হলো- আমরা বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে কেবল ছাত্রলীগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না। ছাত্রলীগকে তরুণদের প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।

ঢাকা ট্রিবিউন: ছাত্রলীগের প্যানেল নির্বাচিত হলে শিক্ষাঙ্গনে কী কী পরিবর্তন আনতে চান?

শোভন: একটা সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা ছিল ১৫ থেকে ২০ হাজার, এখন সেটা ৪৩ হাজারে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সঙ্কট প্রবল। মূলতঃ তিনটি বিষয়েই আমরা বেশি গুরুত্ব দিতে চাই- প্রথমত; থাকার মান উন্নয়ন, দ্বিতীয়ত; হল-ক্যান্টিনে খাবারের মান উন্নয়ন এবং তৃতীয়ত; লাইব্রেরি এবং রিডিং রুমগুলোতে আসন সংখ্যা বাড়ানো ও সেগুলোতে চব্বিশ ঘণ্টা পড়াশোনার ব্যবস্থা চালু রাখা।

ঢাকা ট্রিবিউন: আপনাদের প্যানেলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী প্রার্থী রয়েছেন। এ বিষয়টিও বেশ প্রশংসিত হয়েছে। ২৫ জনের ৭ জনই নারী। এর বিশেষ কোনও কারণ আছে?

শোভন: “বিশ্বে যা-কিছু মহান্ সৃষ্টি চির-কল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর” কবি কাজী নজরুলের কবিতার এই মহান বাণী স্মরণ করেই বলছি- দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারী। আমরা নারী-পুরুষের সমঅধিকারের কথা বলি। সেক্ষেত্রে কথায়-কাজে মিল থাকা প্রয়োজন। সমষ্টিগতভাবে কাজ করার জন্যই আমরা নারীদেরকে প্রার্থী করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছি।

ঢাকা ট্রিবিউন: সাম্প্রতিককালে ছাত্রলীগকে বেশ পজিটিভ ইমেজ গড়ে তুলতে দেখা গেছে। গত দুই দশকে ছাত্রলীগকে নেতিবাচক কর্মকাণ্ডেই বেশি দেখা যেত। এত বড় পরিবর্তনের নেপথ্যে কে?

শোভন: আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা নিজে আমাদের হাতে ছাত্রলীগের দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন। তিনি যেমন অভিভাবক হিসাবে আস্থা নিয়ে আমাদের হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন, আমাদেরও তেমনি দায়িত্ব রয়েছে তার আস্থার প্রতিদান রাখা। আমরা নেতিবাচক কিছু করলে সেটা তাকে হেয় করার শামিল। আমরা এই জায়গায় খুব বেশি সতর্ক। তাই যে কোনও কাজ করার আগে ভেবে-চিন্তে পদক্ষেপ নেই আমরা। আর আমাদের মূল লক্ষ্য বঙ্গবন্ধুর আদর্শ। তিনি সর্বত্র সাম্যের কথা বলে গেছেন। সেই আদর্শ বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যেতে চাই।

ঢাকা ট্রিবিউন: ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সময় অন্যান্য রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক সংগঠনগুলো ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় মারধর কিংবা ভয়-ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ এনেছে। এ বিষয়ে কী বলবেন?

শোভন: আমরা সবাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটা পরিবার হিসেবে দেখি আমি এবং সেটাকে ব্যক্তিগতভাবে আমি লালন করি। বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে ব্যক্তিগত কোন্দলে জড়িয়ে পড়েন। ধরুন ছাত্রলীগের কোনও কর্মীর সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত পর্যায়ের দ্বন্দ্বকে “ছাত্রলীগ করেছে” এমন আখ্যা দেয়াটা দুঃখজনক। অনেক সময় ব্যক্তিগত কোন্দলকে দলীয় কোন্দলে রূপ দেয়ার অপচেষ্টা করা হয়।

ঢাকা ট্রিবিউন: নির্বাচিত হয়ে গেলে কি দলমত নির্বিশেষ সব শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করবেন?

শোভন: আমি আগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের কথা বলেছি। দশ বছর ধরে আমি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করিনি। আমি সর্বত্র ব্যক্তি আমিকে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছি। তবে এখন যেহেতু একটা সংগঠনের সভাপতি হয়েছি তাই সেই পরিচয় ব্যবহার করতে হয়। তাই আমি দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্যই কাজ করব, সবার কথাই বলব।

ঢাকা ট্রিবিউন: নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন শুরু হয়ে গেলে আর কোনও দলভিত্তিক রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের প্রয়োজন আছে বলে আপনার মনে হয়?

শোভন: বাংলাদেশ সৃষ্টির কারণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের এই ছাত্র সংগঠনের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ভাষা আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছে, স্বাধীনতা সংগ্রামে অবদান রেখেছে। বঙ্গবন্ধুকে আমরা হারিয়েছি, তবে তার আদর্শ আমাদের মাঝে বেঁচে আছে। ডাকসু বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ কাজ করবে শুধুমাত্র তাদের ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আর বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কাজ করবে জাতীয় রাজনীতি অর্থাৎ জাতীয় পর্যায়ে ছাত্রদের স্বার্থ সংরক্ষণ, বিভিন্ন মানবিক ক্ষেত্র। ডাকসু হয়ে গেলেও ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা থেকেই যায়।

ঢাকা ট্রিবিউন: ডাকসু নির্বাচনে প্রচারণার দিক দিয়ে ছাত্রলীগ এগিয়ে রয়েছে বলে আমরা দেখছি। কিন্তু নিয়মানুযায়ী নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগেই ক্যাম্পাসে আপনার রঙিন পোস্টার-ব্যানার দেখা গেছে। এটা নিয়মলঙ্ঘন..?

শোভন: কিছু অতি উৎসাহী লোক আমাকে খুশি করতে গিয়ে আসলে পরোক্ষভাবে আমার ক্ষতি করছে। বিষয়টি আমার নজরে আসার পরপরই আমি নিষেধ করেছি এবং সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছি।

51
50
blogger sharing button blogger
buffer sharing button buffer
diaspora sharing button diaspora
digg sharing button digg
douban sharing button douban
email sharing button email
evernote sharing button evernote
flipboard sharing button flipboard
pocket sharing button getpocket
github sharing button github
gmail sharing button gmail
googlebookmarks sharing button googlebookmarks
hackernews sharing button hackernews
instapaper sharing button instapaper
line sharing button line
linkedin sharing button linkedin
livejournal sharing button livejournal
mailru sharing button mailru
medium sharing button medium
meneame sharing button meneame
messenger sharing button messenger
odnoklassniki sharing button odnoklassniki
pinterest sharing button pinterest
print sharing button print
qzone sharing button qzone
reddit sharing button reddit
refind sharing button refind
renren sharing button renren
skype sharing button skype
snapchat sharing button snapchat
surfingbird sharing button surfingbird
telegram sharing button telegram
tumblr sharing button tumblr
twitter sharing button twitter
vk sharing button vk
wechat sharing button wechat
weibo sharing button weibo
whatsapp sharing button whatsapp
wordpress sharing button wordpress
xing sharing button xing
yahoomail sharing button yahoomail