• মঙ্গলবার, এপ্রিল ০৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৮ রাত

র‍্যাগিংয়ের নামে হাত ভেঙে দেয়ার অভিযোগ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে

  • প্রকাশিত ১০:২৪ রাত মার্চ ৯, ২০১৯
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফাহিম। ছবি: আব্দুল্লাহ আল নোমান/ঢাকা ট্রিবিউন।

মেরে আহত করা হয়েছে আরো ২ শিক্ষার্থীকে

র‌্যাগিংয়ের নামে স্ট্যাম্প দিয়ে মেরে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের ১ম বর্ষের এক শিক্ষার্থীর হাত ভেঙে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েম শিকদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর নাম ফাহিম। ফাহিম ছাড়াও শুভ ও রানা নামে অন্য দুই শিক্ষার্থীকেও মারপিট করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে ফাহিম, শুভ ও রানাকে ফোন করে ডেকে নিয়ে গিয়ে মারপিঠ করে সায়েম ও তার সহযোগীরা। এ সময় সায়েমের সাথে একই বিভাগের ২য় বর্ষ ১ম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী কামাল, অনিন্দ, জিল্লুর, আতিক ও রাশেদও তাদের মারপিট করেন।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিক্ষুদ্ধ ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেন। শনিবার দুপুরে তারা উক্ত বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. খাইরুল ইসলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সিরাজুল ইসলামের কাছে অভিযোগ করেন।

১ম বর্ষের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, প্রায় প্রতিদিনই ২য় বর্ষের ১ম সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা তাদের র‌্যগিংয়ের নামে ডেকে নিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। প্রায় দেড় মাস সিনিয়রদের সম্মান দেখিয়ে তারা চুপচাপ ছিলেন, কিন্তু শিবির আখ্যা দিয়ে ফাহিম, শুভ ও রানাকে পেটানোর পর তারা ক্ষুদ্ধ। এর আগেও তারা পাঁচজনকে পিটিয়েছেন।  এসবের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সায়েম শিকদার।

শিক্ষার্থীরা আরো অভিযোগ করেন, সায়েম তাদের হুমকি দিয়ে বলেছেন যে তিনি এই ক্যাম্পাসের কিং। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই তার পায়ের নীচে থাকে। এই বলে সবাইকে দিয়ে সায়েম জোরপূর্বক বিকাশ একাউন্ট খুলিয়েছেন। সে একাউন্টগুলো দিয়ে সায়েম টাকা লেনদেন করেন। এসব একাউন্ট থেকে ২ হাজার টাকার লেনদেন হলেই সায়েম ৫০০ টাকা নিয়ে যান।

আহত শিক্ষার্থী ফাহিম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "কোন কারণ ছাড়াই ডেকে নিয়ে আমাকে এবং আমার এক বন্ধুকে মারে সায়েম শিকদার ও তার সহযোগিরা। পরে সায়েম আমার হাত ভেঙে দেয়। আমি এখন বিছানায় শুয়ে আছি। আমার হাতের অবস্থা খুব খারাপ। আমি দোষীদের শাস্তির দাবি করছি"।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সিরাজুল ইসলাম বলেন, "ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে"।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বলেন, "ফাহিম শিবিরের সাথে যুক্ত, তার তথ্য প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে। এ জন্য সায়েম তাকে পিটিয়েছে। সাংগঠনিকভাবে আমাকে সেখানে যেতে হয়। বাকি দুইজনকে পিটিয়ে থাকলে দোষীদের বিচার হবে"।