• রবিবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৫৫ সকাল

কটকা ট্র্যাজেডিতে নিহতদের স্মরণে

  • প্রকাশিত ০৬:৩০ সন্ধ্যা মার্চ ১৩, ২০১৯
কটকা
কটকা ট্র্যাজেডিতে নিহতদের স্মরণে বুধবার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শোক দিবস পালিত হয়। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

২০০৪ সালের আজকের দিনে সুন্দরবনের কটকায় আনন্দ সফরে গিয়ে ১১ শিক্ষার্থী সমুদ্রগর্ভে নিমজ্জিত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন

কটকা ট্র্যাজেডির স্মরণে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পালিত হলো শোক দিবস। ২০০৪ সালের আজকের দিনে (১৩ মার্চ) সুন্দরবনের কটকায় আনন্দ সফরে গিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের ৯ জন এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ জনসহ মোট ১১ শিক্ষার্থী সমুদ্রগর্ভে নিমজ্জিত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। সেই থেকে প্রতিবছর দিনটিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস হিসেবে পালন করা হয়। 

এ বছর দিবসটি উপলক্ষে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে সাজানো হয় শোকাবহ সাজে। ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক থেকে শুরু করে শহীদ মিনার চত্বর হয়ে কটকা স্মৃতিস্তম্ভ পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার সড়কের দু’পাশের সারিবদ্ধ গাছে কালো কাপড় দিয়ে তার ওপর সেদিন মারা যাওয়া শিক্ষার্থীদের নাম লিখে তাদের স্মরণ করা হয়।

সকাল সাড়ে দশটায় কালোব্যাজ ধারণ করে ১০-৪৫ মিনিটে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামানের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদী চত্বর থেকে শোক র‌্যালিটি শুরু হয়ে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ প্রশাসন ভবনের সামনে দিয়ে পুনরায় হাদী চত্বর হয়ে কটকা স্মৃতি স্তম্ভে পৌঁছায়। শোক র‌্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার, বিভিন্ন স্কুলের (অনুষদ) ডিন, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত), ডিসিপ্লিন প্রধান, ছাত্র বিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্ট ও বিভাগীয় প্রধানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারি অংশ নেন। 

পরে কটকা স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের আগে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাদের আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যায়ের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস। এর পরই কটকা স্মৃতিস্তম্ভে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রথমে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। এরপর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল, অতঃপর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপত্য ডিসিপ্লিনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিন, বিভিন্ন হল, শিক্ষক ও ছাত্রদের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। পরে তিনি সমুদ্রগর্ভে প্রাণ হারানো শিক্ষার্থীদের স্মরণে একটি বৃক্ষের চারা রোপন করেন এবং প্রদর্শিত চিত্র ঘুরে দেখেন। 

উপাচার্য তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, এদিনটি আমাদের জন্য সত্যিকারার্থে শোক ও বেদনার। আমরা চাই ভবিষ্যতে যেন আর কোনও মেধাবী সন্তান এভাবে না হারিয়ে যায়। জীবনের সবক্ষেত্রে ঝুঁকি বিবেচনা করে এবং কোনও অপরিণামদর্শী পদক্ষেপ না নিতে শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন তিনি।

ডিসিপ্লিন প্রধান ও সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. মাহফুজ উদ-দারাইন সবাইকে ধন্যবাদ দিয়ে পূর্বাহ্নের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন। দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে দোয়া মাহফিল/প্রার্থনা, বাদ যোহর এতিমদের সাথে মধ্যাহ্ন ভোজ, বিকেল সাড়ে ৫ টায় কটকা স্মৃতিসৌধে শোক সভা ও স্মৃতিচারণ। এছাড়া সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং সন্ধ্যা ৭ টায় তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হবে।