• মঙ্গলবার, এপ্রিল ০৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৮ রাত

গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করলে হরতালের হুমকি বাম গণতান্ত্রিক জোটের

  • প্রকাশিত ০৯:১১ রাত মার্চ ১৩, ২০১৯
গ্যাস সরবরাহ
মাহমুদ হোসাইন অপু/ ঢাকা ট্রিবিউন

এ সময় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, মানুষ পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছে না। এমন অবস্থায় তারা কোনো ধরনের মূল্য বৃদ্ধি মেনে নেবে না। 

গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের ওপর টানা তৃতীয় দিনের মতো বুধবার (১৩ মার্চ) গণশুনানি করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। অন্যদিকে, সরকার যদি এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে সরে না আসে তাহলে হরতালের মতো কর্মসূচি দেয়ার হুমকি দিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

গণশুনানির তৃতীয় দিন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাখরাবাদ ও জালালাবাদ গ্যাস কোম্পানি পৃথকভাবে তাদের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব তুলে ধরে। প্রতিষ্ঠান দুটি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মতোই একই প্রস্তাব দিয়েছে। 

বাখরাবাদ ও জালালাবাদ উভয়ে বাসাবাড়িতে গ্যাসের দাম ৮০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। সেই সাথে বিদ্যুৎ, শিল্প ও মোটরযানসহ অন্যান্য গ্রাহক পর্যায়ে ২১১ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, বাসায় এক চুলা ব্যবহারকারীদের প্রতি মাসে ৭৫০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৩৫০ টাকা এবং দুই চুলার জন্য মাস প্রতি ৮০০ টাকার জায়গায় ১ হাজার ৪৪০ টাকা দিতে হবে। অন্যদিকে মিটার থাকা গ্রাহকদের প্রতি ঘনফুট (প্রতি ইউনিট) গ্যাসের মূল্য হিসেবে ৯.১০ টাকার বদলে ১৬.৪১ টাকা পরিশোধ করতে হবে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রকে প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম ৩.১৬ টাকার পরিবর্তে ৯.৭৪ টাকা দিতে হবে। দাম বাড়বে ২০৮ শতাংশ। অন্যদিকে সার কারখানাকে প্রতি ইউনিটে ২.৭১ টাকার বদলে ৮.৪৪ টাকা দিতে হবে। এখানে দাম বাড়বে ২১১ শতাংশ।

এছাড়া, ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৯.৬২ টাকার জায়গায় ১৮.৮৮ টাকা (বৃদ্ধি ৯৬ শতাংশ), শিল্প কারখানায় ৭.৭৬ টাকার বদলে ১৮.০৪ টাকা (বৃদ্ধি ১৩২ শতাংশ), সিএনজিতে ৩২ টাকার পরিবর্তে ৪৮ টাকা (বৃদ্ধি ৫০ শতাংশ) ও বাণিজ্যিক ব্যবহারে ১৭.০৪ টাকার জায়গায় ২৪.০৫ টাকা (বৃদ্ধি ৪১ শতাংশ) প্রতি ইউনিটে ব্যয় করতে হবে।

শুনানিতে অংশ নিয়ে বিভিন্ন ভোক্তা গোষ্ঠী ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা এসব প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। তারা বলেন, কোম্পানিগুলো যদি তাদের কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনায় উন্নতি করতে পারে তাহলে সম্ভাব্য লোকসান এড়াতে পারবে।

বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় জ্বালানি বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করা পেট্রোবাংলার একজন সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সালেক সুফি বলেন, "গ্যাস বিতরণকারী কোম্পানিগুলোর সবচেয়ে বড় সমস্যা দুর্নীতি, অনিয়ম ও ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা। তারা যদি এসব সমস্যা সমাধান করতে পারে তাহলে তাদের গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন নেই।"

এ সময় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, মানুষ পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছে না। এমন অবস্থায় তারা কোনো ধরনের মূল্য বৃদ্ধি মেনে নেবে না।

এদিকে, গণশুনানি চলাকালে রাজধানীর টিসিবি মিলনায়তনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। সমাবেশে বক্তব্যকালে জোটের নেতা খালেকুজ্জামান হুঁশিয়ারি দেন যে জনগণ গ্যাসের কোনো মূল্য বৃদ্ধি কখনো মানবে না।

গ্যাসের দাম বাড়ানোর পদক্ষেপকে ‘অযৌক্তিক এবং বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, সরকারকে এ ‘তামাশার গণশুনানি’ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তা না হলে বাম গণতান্ত্রিক জোট হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন গড়ে তুলবে।