• শনিবার, জুলাই ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৫২ সকাল

সহকর্মীর 'মৃত্যুর গুজব থেকে' শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ৫০

  • প্রকাশিত ০৭:৪৪ রাত মার্চ ২১, ২০১৯
নারায়ণগঞ্জ সংঘর্ষ
বৃহস্পতিবার এক নারী শ্রমিকের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এসময় তাদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

কারখানায় কর্মরত শতশত শ্রমিক কাজ বর্জন করে কারখানা এলাকায় বিক্ষোভ ও ভাঙচুর শুরু করে।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার টিপরদী এলাকায় একটি পোশাক তৈরি কারখানার শ্রমিক ও পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। 

টিপরদী এলাকায় অবস্থিত পোশাক উৎপাদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান চৈতি কম্পোজিটে নারী শ্রমিককে হত্যার পর হাত-পা বেঁধে লাশ বাথরুম থেকে গুম করা হয়েছে, এমন গুজবে বৃহস্পতিবার সকালে কারখানার ভেতরে ভাঙচুর চালায় শ্রমিকরা। পরে দারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে গাছ ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে শ্রমিকরা সহকর্মী নারী শ্রমিকের লাশ না দেখানোর প্রতিবাদে মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ও   লাঠি ও ইটপাটকেল দিয়ে যানবাহনে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। 

খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ, কাঁচপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো টিপরদী এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ৪১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও ১০ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এসময় নারায়ণগঞ্জের এক অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ ৭ পুলিশ সদস্য, ৩ সাংবাদিক ও শ্রমিকসহ প্রায় ৫০ জন আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২ দিনের ছুটি ঘোষণা করে কারখানা কর্তৃপক্ষ। ঘটনার সময় প্রায় ৩ ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দুই প্রান্তে প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁ পৌরসভার টিপরদী এলাকায় অবস্থিত পোশাক উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান চৈতি কম্পোজিটের বিভিন্ন সেকশনে প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কারখানার ৩য় তলায় সুইং সেকশনের শ্রমিক রিনা আক্তারকে টয়লেটের ভেতরে পড়ে থাকতে দেখেন তার কয়েকজন সহকর্মী নারী শ্রমিক। রিনাকে সেখানে পড়ে থাকতে দেখে অচেতন হয়ে পড়েন শেফালী ও নাজমা নামের দুই শ্রমিক। খবর পেয়ে ওই সেকশনের এজিএমসহ কয়েকজন কর্মকর্তা টয়লেট থেকে রিনা আক্তারকে উদ্ধারের পর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। 

কিন্তু কিছুক্ষণ পর 'রিনা আক্তারকে মেরে তার হাত-পা বেঁধে লাশ বাথরুম থেকে গুম করার জন্য গাড়িতে তুলে অন্যত্র নেওয়া হয়েছে,' এমন গুজব পুরো কারখানা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে কারখানায় কর্মরত শতশত শ্রমিক কাজ বর্জন করে কারখানা এলাকায় বিক্ষোভ ও ভাঙচুর শুরু করে।

এ বিষয়ে ওই কারখানার ডিজিএম (প্রশাসন) মিজানুর রহমান জানান, সকালে নাস্তা না খেয়ে সুইং সেকশনের শ্রমিক রিনা আক্তার কারখানায় কাজে আসে। টয়লেটে যাওয়ার পর সে সেখানে পড়ে যায়। এ ঘটনা দুই নারী শ্রমিক দেখার দেখার পর রিনা আক্তার মারা গেছেন মনে করে তারাও অচেতন হয়ে পড়ে। এদিকে, রিনাকে মেরে হাত-পা বেধে তার লাশ গুম করা হয়েছে এমন গুজবে শ্রমিকরা তাদের কাজ বর্জন করে মহাসড়কে অবস্থান নেয় ও ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। উত্তেজিত শ্রমিকদের রাস্তা থেকে সরিয়ে আনার চেষ্টা করা হলেও তারা তা শোনেনি।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনার খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের উধ্বর্তন কয়েকজন কর্মকর্তা ও র‌্যাব পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তারা কারখানা এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় চিকিৎসা শেষে সুস্থ হওয়া রিনা আক্তারের সঙ্গে তারা কথা বলেন ও ঘটনাটি যে একটা গুজবের কারণে হয়েছে তা তারা প্রমাণ পান। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাৎক্ষণিক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।     

কারখানার শ্রমিক হালিম মিয়া ও রুবি ইসলাম জানান, নারী শ্রমিক রিনা আক্তারকে মেরে তার লাশ গুম করা হয়েছে এ খবরে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে পড়েছিল। প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছে তা আমাদের জানা নেই।

সোনারগাঁ থানার ওসি অপারেশন আলমগীর হোসেন জানান, চৈতি কম্পোজিটের শতশত শ্রমিক সকাল ১১টার দিকে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিদ্যুতের খুঁটি ও গাছ ফেলে ব্যারিকেয সৃষ্টি করে। এসময় বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা বিভিন্ন যানবহনে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এসময় পুলিশ ৪১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ ও ১০ রাউন্ড টিয়ারশেল ছোঁড়ে। এ বিষয়ে থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-অঞ্চল) মো. খোরশেদ আলম জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুরো ঘটনাটি একটা গুজবের কারণে ঘটেছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।