• শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১২ রাত

প্রধানমন্ত্রীকে ডাকসুর আজীবন সদস্য করার প্রস্তাব, নূরের বিরোধিতা

  • প্রকাশিত ০৩:৪৭ বিকেল মার্চ ২৩, ২০১৯
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ডাকসুর আজীবন সদস্যপ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ছবি- ঢাকা ট্রিবিউন

এদিকে, ডাকসু নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ উল্লেখ করে এই মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আজীবন সদস্যপদ দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন ভিপি নুরুল হক নুর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) আজীবন সদস্য হিসেবে মনোনীত করার প্রস্তুাব গৃহীত হয়েছে। শনিবার (২৩ মার্চ) ডাকসুর প্রথম কার্যকরী সভায় আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাহরিমা তানজিমা অর্ণি প্রধানমন্ত্রীকে আজীবন সদস্য করার প্রস্তাব তোলেন। পরে জিএস গোলাম রাব্বানী সভাপতির কাছে এই প্রস্তাব তুলে ধরেন। 

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাবটি গৃহীত হয় বলে জানান ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেন।

এদিকে, ডাকসু নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ উল্লেখ করে এই মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আজীবন সদস্যপদ দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন ভিপি নুরুল হক নুর। সভায় নুর বাদে ২৪ জন প্রস্তাবে সম্মতি জানান বলে দাবি করেন গোলাম রাব্বানী।  তবে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের পক্ষে যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান দাবি করেন, সভায় সমাজসেবা সম্পাদক আকতার হোসেনও ওই প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছেন।

সভা শেষে নুর সাংবাদিকদের বলেন, "সভায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আজীবন সদস্যপদ দেওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে আমরা কোনও সমাধানে পৌঁছাইনি। আপনারা দেখেছেন যে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এবং আমি নিজেও একটি অবস্থানে আছি যে এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সেরকম একটি জায়গা থেকে আমি মনে করি না মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সদস্য ঘোষণা করা উচিত। আমার এই প্রস্তাবে কয়েকজন সমর্থন জানিয়েছেন।"

এসময় গোলাম রাব্বানী বলেন, "কয়েকজন না ভিপি শুধু নিজেই আপত্তি জানিয়েছেন।"

এরপর নূর সাংবাদিকদের বলেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী প্রধান। এখানে তাকে ডাকসুর আজীবন সদস্য পদ দেওয়া খুব বড় কিছু না। ডাকসু নির্বাচন নিয়ে একটি বিতর্কিত অবস্থান রয়েছে বর্তমানে। আমরা যেখানে একদিক দিয়ে দায়িত্ব নিচ্ছি আরেকদিকে আমার ভাইয়েরা বোনেরা এই নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছে। আমি ভিপি হয়েও তাদের এই দাবিকে সমর্থন জানিয়েছি। আমি আজও সভাপতি মাননীয় ভিসি স্যারকে বলেছি, তদন্ত কমিটির রিপোর্টে বেরিয়ে আসবে অনিয়মগুলো। এখানে আবার পুননির্বাচন দরকার।"

তিনি আরও বলেন, "যেহেতু এই নির্বাচনটি সবার কাছে সর্বজনীনভাবে স্বীকৃত হয়নি, এই নির্বাচনে পর্যবেক্ষক শিক্ষকদেরও দাবি ছিল এই নির্বাচন পুনরায় হোক। বিতর্কিত নির্বাচনে আমরা চাই না প্রধানমন্ত্রীকে আজীবন সদস্য করা হোক।"

প্রধানমন্ত্রীকে আজীবন সদস্যপদ দেওয়ার বিষয়ে ডাকসুর সভাপতি ও ভিসি ড. আখতারুজ্জামান বলেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই প্রাক্তন শিক্ষার্থী। আজ প্রায় এই তিন দশক পর ডাকসু নির্বাচনের বিষয়ে তিনি যে উৎসাহ দিয়েছেন, সদা সহযোগিতা করেছেন, যে আশ্বাস তিনি আমাদের দিয়েছিলেন তার সবই তিনি বাস্তবায়ন করেছেন, যার ফলে আমরা আত্মপ্রত্যয়ী হয়েছিলাম। তিনি পাশে থাকায় এই নির্বাচন আয়োজনে নিজেদের অত্যন্ত শক্তিশালী অনুভব করেছি। এ কারণেই আমাদের কার্যকরী পরিষদের সবাই সহমত জ্ঞাপন করেছে।"