• রবিবার, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:০৩ রাত

হাতিরঝিল থেকে সরানো হচ্ছে বিজিএমইএ ভবন

  • প্রকাশিত ০৫:৩৭ সন্ধ্যা মার্চ ২৭, ২০১৯
বিজিএমইএ ভবন
হাতিরঝিলে বিজিএমইএ ভবন। ফাইল ছবি/ঢাকা ট্রিবিউন

২০১৯ সালের ১২ এপ্রিলের মধ্যে বর্তমান ভবন খালি করে দেওয়া হবে এই মর্মে বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে আদালতের কাছে মুচলেকা দেওয়া আছে।

অবশেষে রাজধানীর হাতিরঝিল থেকে বিদায় নিচ্ছে বহুল আলোচিত তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ভবন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৩ এপ্রিল (বুধবার) রাজধানীর উত্তরায় নিজস্ব ভবনে স্থানান্তরিত হচ্ছে বিজিএমইএ’র সদর দফতর। 

প্রধানমন্ত্রীর দফতর ও বিজিএমইএ সূত্রের বরাত দিয়ে বাংলা ট্রিবিউন জানায়, বিজিএমইএ’র উত্তরার নতুন ভবন আগামী ৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সম্মতি দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে রাজধানীর হাতিরঝিল থেকে বিদায় নিচ্ছে বহুল আলোচিত বিজিএমইএ ভবন। 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী আগামী ৩ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভবনের উদ্বোধন করবেন বলে আশা করছি।

সিদ্দিকুর রহমান জানান, উত্তরার নতুন ভবনের চারতলার কাজ শেষ হয়েছে। সেখানে আপাতত কাজ চালিয়ে নেয়া সম্ভব। তবে ভবনে চলাচল উপযোগী সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনাও চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুই টাওয়ারসমৃদ্ধ বিজিএমইএ নতুন বহুতল ভবনটি উত্তরার ১৭ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত। নতুন ভবনটি হবে ১৩ তলা বিশিষ্ট। এরই মধ্যে ভবনের বেজমেন্টসহ ভবনের চারতলা পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে।

জানা গেছে, ভবনের প্রতিটি তলার আয়তন হবে ৪০ হাজার বর্গফুট। ৪০ হাজার বর্গফুটের একটি প্রদর্শনী হলও রয়েছে নতুন এই বিজিএমইএ ভবনে। লেকসাইট ভিউয়ের সাড়ে পাঁচ বিঘা জমির ওপর নির্মিত হচ্ছে নতুন এই ভবন। 

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১২ এপ্রিলের মধ্যে বর্তমান ভবন খালি করে দেওয়া হবে এই মর্মে বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে আদালতের কাছে মুচলেকা দেওয়া আছে।

রাজধানীর হাতিরঝিলে অবস্থিত বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) বহুতল ভবনটি ভেঙে ফেলার রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) জন্য বিজিএমইএ যে আবেদন করেছিল সেই আবেদন ২০১৭ সালের ৫ মার্চ খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। আদালতে বিজিএমইএ-এর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর এমিকাস কিউরি আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

রিভিউ খারিজের এই রায়ের মধ্য দিয়ে বিচারের সব ধাপ শেষ হয়ে যাওয়ায় বিজিএমইএ এক বছর সময় চেয়ে আবেদন করেছিল। সেই সময় শেষ হচ্ছে এ বছরের ২ এপ্রিল।   এর আগে ২০১৬ সালের ২ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি মুলতবি করে আদালত ‘নট টুডে’ আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই কাওরানবাজার সংলগ্ন বেগুনবাড়ি খালে বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে উল্লেখ করে ২০১০ সালের ২ অক্টোবর দেশের একটি ইংরেজি দৈনিকে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই দিনই প্রতিবেদনটি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ডি এইচ এম মনিরউদ্দিন আদালতে উপস্থাপন করেন।

এর পরদিন বিজিএমইএ ভবন কেন ভাঙ্গার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তার কারণ জানতে চেয়ে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন।

১৯৯৮ সালের ২৮ নভেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজিএমইএ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ভবন নির্মাণ শেষ হলে ২০০৬ সালের ৮ অক্টোবর বিজিএমইএ ভবন উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।