• মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:২৯ রাত

‘মা ওষুধ খেয়েছ?’ আর জানতে চাইবেন না মিঠু

  • প্রকাশিত ০৬:৩৯ সন্ধ্যা মার্চ ২৯, ২০১৯
কুষইটয়া মিঠু
বনানী অগ্নিকাণ্ডে নিহত মিঠুর মায়ের আহাজারি। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

এফ আর টাওয়ারে ফ্রুগাল নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন ইকতিয়ার হোসেন মিঠু।

ঘড়ির কাঁটায় তখন বিকেল তিনটা ছুঁই ছুঁই। বাড়ি ভর্তি মানুষ। সবাই যেন শোকে মুহ্যমান। ঠিক তখনই ভেতর থেকে এক নারীর গগনবিদারী বিলাপে যেন সেখানকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। অন্যরা স্বান্তনা দেয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু, সন্তানহারা মায়ের শোক কি আর স্বান্তনায় শান্ত হয়? 

বলা হচ্ছে বৃহস্পতিবার বনানীর এফ আর টাওয়ার অগ্নিকাণ্ডে নিহত কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চর বানিয়াপাড়া গ্রামের ইকতিয়ার হোসেন মিঠুর (৩৭) মায়ের কথা।

ছেলে হারানোর শোকে পাথর রেখা খাতুন বিলাপ করে বলছেন- ‘‘গত পরশু দিনও অফিস শেষ করে আমার ছেলে আমাকে মোবাইলে জিজ্ঞেস করেছে মা তুমি ঔষধ খেয়েছ তো? তুমি হাই প্রেশারের রোগী, সময় মত ঔষধ খাবা। আব্বার শরীরের অবস্থা কী? ’ ’

রেখা খাতুন বলেন, কাল যখন ওর অফিসে আগুন ধরে কত দোয়া করেছি। আমার ছেলের এতো তাড়াতাড়ি পৃথিবী ছেড়ে যাবার সময় হয়ে গেল? মিঠু আমার বড় সন্তান, তাকে ছেড়ে কীভাবে থাকব? আমার মিঠুর ছেলেটা এতিম হয়ে গেল। বাবা ছাড়া সে-ই বা কীভাবে থাকবে?’ ’

নিহত মিঠু। ছবি : ঢাকা ট্রিবিউনএফ আর টাওয়ারে ফ্রুগাল নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন ইকতিয়ার হোসেন মিঠু। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনিই বড়। মিঠুর বাবা ইসহাক আলী পেশায় কাপড়ের ব্যবসায়ী ছিলেন। কিন্তু বছর কয়েক আগে স্ট্রোক করার পর প্যরালাইজড হয়ে কর্মক্ষমতা হারান তিনি। 

মিঠুর স্ত্রী ও মিত্তাউল হোসেন মুগ্ধ নামে তিন বছরের একটি ছেলে রয়েছে। 

তার ছোট ভাই ইমন বলেন, বড় ভাইয়ের সঙ্গে আমি ঢাকাতেই থাকি। গতকাল দুপুর ১টার দিকে ভাই হঠাৎ আমাকে ফোন করে তার কর্মস্থল এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগার কথা জানান। সবশেষ দুপুর ১টা ৫৭ মিনিটে বলে আমার জন্য দোয়া কর, অবস্থা ভালো না। এরপর থেকে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। 

ইমন আরও বলেন, আমি ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে ভাইকে খোঁজ করি। এরপর ঢাকা মেডিকেলের মর্গে তার লাশ পাই।

শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।