• সোমবার, জানুয়ারী ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ রাত

কান্না থামাতেই পারছেন না জহিরুল

  • প্রকাশিত ১২:২৫ দুপুর মার্চ ৩০, ২০১৯
গুলশান কাঁচাবাজারে শনিবারের অগ্নিকাণ্ডে পাঁচটি দোকান পুড়ে যাওয়ায় কান্না থামাতে পারছিলেন না জহিরুল আলম। ছবি : ঢাকা ট্রিবিউন
গুলশান কাঁচাবাজারে শনিবারের অগ্নিকাণ্ডে পাঁচটি দোকান পুড়ে যাওয়ায় কান্না থামাতে পারছিলেন না জহিরুল আলম। ছবি : ঢাকা ট্রিবিউন

নিজের পরিণতি দেখে অঝোর ধারায় কাঁদছিলেন জহিরুল।

গুলশান-১ নম্বরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) পাশে কাঁচাবাজারে আগুন লাগার পর পরই সেখানে ছুটে যান দুই ভাই জহিরুল আলম ও আবদুস সালাম। সেখানে গিয়ে দেখেন 'লোভী' আগুন কেড়ে নিয়েছে তাদের তিল তিল করে গড়ে তোলা স্বপ্ন। পুড়ে ছাই হয়ে গেছে তাদের ছয়টি দোকান। এখন যেন তাদের সান্ত্বনা শুধু চোখের পানি। 

আজ শনিবার ভোরে কাঁচাবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। ততক্ষণে পুড়ে যায় বাজারের সবকটি দোকান। 

ফোনে খবর পেয়ে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঘটনাস্থলে ছুটে যান জহিরুল ও সালাম। নিজের পরিণতি দেখে অঝোর ধারায় কাঁদছিলেন জহিরুল। তিনি বলেন,  'এটা আমার সঙ্গে আবার হলো। সবেমাত্র ৫ লাখ টাকা ধার নিয়ে দোকানে নতুন মাল তুলেছিলাম। আর আজ সব পুড়ে ছাই হয়ে গেল।'

কাঁদতে কাঁদতে জহিরুল বলেন, 'আমাদের জীবনের কোনো মূল্য নেই। কাঁচাবাজারে আমার পাঁচটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এ ছাড়া পাশের সুপার মার্কেটে আমার ও আমার ভাইয়ের চারটি দোকান আছে। সেখানে একটি দোকান পুড়ে গেছে। কাঁচাবাজারের পর সুপার মার্কেটে আগুন লাগে। এই আগুন! আমরা এখন কী করবো?' 

জহিরুলের বড়ভাই আবদুস সালাম বলেন, তারা এখনো ক্ষতির পরিমাণ জানতে পারেননি। তাদের নয়টি দোকানে প্লাস্টিক, ক্রোকারিজ, কার্পেট ও সিরামিক পণ্য ছিল। 

ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা খুরশীদ আনোয়ার ইউএনবিকে জানান, ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিটের চেষ্টায় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

উদ্ধারকাজে অংশ নেন সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা। আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে এখনও স্পষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি।

সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) মেজর শাকিল নেওয়াজ বলেন, পানি সংকটের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে অনেক সময় লেগেছে।