• রবিবার, মে ২৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৫৭ রাত

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে ২৬টি প্রতিশ্রুতি তুলে ধরল বাংলাদেশ

  • প্রকাশিত ০৫:১৬ সন্ধ্যা মার্চ ৩০, ২০১৯
জাতিসংঘ
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণের চলমান পদক্ষেপের অংশ হিসেবে মন্ত্রী পর্যায়ের সভায় নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যোগ দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো: শাহরিয়ার আলম। ছবি- ইউএনবি

 জাতিসংঘের চাহিদা অনুযায়ী নারী শান্তিরক্ষী বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির কথাও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের ২৬টি প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম।

স্থানীয় সময় শনিবার ‘শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দ্রুত সাড়াদান প্রস্তুতি’র ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পূর্ণ সামর্থ্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, "শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দ্রুত সাড়াদান প্রস্তুতি ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ২৬টি ক্ষেত্রে অর্থাৎ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯টি, নৌবাহিনীর ৬টি, বিমান বাহিনীর ৩টি এবং পুলিশ বাহিনীর ৮টি ক্ষেত্রে জাতিসংঘকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এছাড়াও রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ‘মানুষবিহীন আকাশ নজরদারি’ ব্যবস্থার বিষয়েও একটি প্রতিশ্রুতির ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি আমরা শান্তিরক্ষার বিধি-বিধান প্রণয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে জাতিসংঘে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছি।"

মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণের ওপর ভয়াবহ সহিংসতার উদাহরণ টেনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বেসামরিক জনগণের সুরক্ষায় আমরা কিগালী নীতি অনুসরণ করে চলেছি। শান্তিরক্ষীদের প্রশিক্ষণেও আমরা ‘বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা’ বিষয়টি বিস্তারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছি। 

প্রতিমন্ত্রী শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে যৌন নিগ্রহ ও এর অপব্যবহার রোধে বাংলাদেশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করেন। জাতিসংঘের চাহিদা অনুযায়ী নারী শান্তিরক্ষী বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডাসমূহ এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ সর্বদাই সহায়ক ভূমিকা পালন করে চলেছে। প্রকৃতিগতভাবে শান্তি বিনির্মাণকারী হিসেবে নারীর ভূমিকা বৃদ্ধিতে সম্প্রতি আমরা জাতীয়ভাবে একটি কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন করছি।

প্রতিমন্ত্রী শান্তিরক্ষীদের দায়িত্ব পালন এবং নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সম্পদের পর্যাপ্ততা ও অন্যান্য নিয়ামকের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে সরবরাহকৃত বাংলাদেশের আধুনিক সামরিক সরঞ্জামাদির কথাও উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণের চলমান পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের অ্যাকশান ফর পিসকিপিং ইনিশিয়েটিভ, ২০১৪ সালে নিউইয়র্কস্থ পিসকিপিং মিনিস্ট্রিয়াল, ২০১৫ সালে নিউইয়র্কে, ২০১৬ তে প্যারিসে এবং ২০১৭তে ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত দ্যা লিডার সামিট অন পিসকিপিং অনুযায়ী জাতিসংঘ এই মন্ত্রী পর্যায়ের সভার আহ্বান করে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেজ এর উদ্বোধনীতে ভাষণ দেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো: শাহরিয়ার আলমের নেতৃত্বে বাংলাদেশের শসস্ত্র বাহিনী বিভাগ, পুলিশ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধিদল এ সভায় যোগ দেন।