• বৃহস্পতিবার, মে ২৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৫ রাত

ডিএমপি: এফ আর টাওয়ারের নির্মাণ ত্রুটিই হতাহতের কারণ

  • প্রকাশিত ১১:৫৫ সকাল এপ্রিল ১, ২০১৯
ডিএমপি
রবিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ডিএমপির সংবাদ সম্মেলন। ছবি: বাসস

নিরাপত্তা ব্যবস্থা উপেক্ষা করে ভবনটি তৈরি ও বিক্রয় করায় রূপায়ন গ্রুপের কর্ণধার লিয়াকত আলী খানকে আটক করার জন্য অভিযান চলছে

বনানীর এফ আর টাওয়ারের নির্মাণ ত্রুটি, জরুরী নির্গমন পথের অভাব, পর্যাপ্ত স্মোক ডিটেকটর ও ফায়ার ফাইটিং সরঞ্জাম না থাকাকে হতাহত ও বিপুল ক্ষতির কারণ বলে জানিয়েছেন ডিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো: আবদুল বাতেন।

রবিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

আব্দুল বাতেন বলেন, "এ ভবনটির নির্মাণ ত্রুটি, অনুমোদন ছাড়া সম্প্রসারণ, জরুরী নির্গমন পথের অভাব, পর্যাপ্ত স্মোক ডিটেকটর ও ফায়ার ফাইটিং সরঞ্জাম ব্যবস্থা না থাকায় এ বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভয়াবহ এ অগ্নিকান্ড ও হতাহতের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় তাসভিরুল ইসলাম ও এস এম এইচ আই ফারুককে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশান, বসুন্ধরা ও বারিধারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়"।

অগ্নিকান্ডে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি আরো বলেন, "অভিযুক্ত ফারুক, তাসভিরুল ইসলাম ও লিয়াকত আলী খান মুকুলের চরম অবহেলা ও উদাসিনতায় সৃষ্ট এ অগ্নিকাণ্ডে বহু জীবন নাশ এবং সম্পদের ক্ষতি হয়েছে"।

"এফ আর টাওয়ারকে তারা শুধু অর্থ উপার্জনের কারখানা হিসেবে বিবেচনা করেছে। তারা ভবনটির নিরাপত্তা, মানবিকতা ও সেবার দিকটি উপেক্ষা করায় এই বিপুল ক্ষতি সাধিত হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে ফারুক জমি ও ৪৫ শতাংশ অবকাঠামোর মালিক। তাসভিরুল ইসলাম অবৈধভাবে নির্মিত অংশের মালিক এবং ভবনটির ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা কমিটির সভাপতি। রূপায়ন গ্রুপের কর্ণধার লিয়াকত আলী খান বিধিমালা লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা উপেক্ষা করে ভবনটি তৈরি ও বিক্রয় করেছেন। লিয়াকত আলীকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে", যোগ করেন বাতেন।

এই ঘটনায় বনানী থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে জানিয়ে আবদুল বাতেন আরো বলেন, "পুলিশের পক্ষ থেকে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে"।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে বনানী থানার ৩২ কামাল আতাতুর্ক এ্যাভিনিউয়ে এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়। আগুন নেভানোর সময় ফায়ার সার্ভিসের ৬ কর্মী আহত হন। এছাড়া ভবনে অবস্থিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অফিসের আসবাবপত্র পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।