• সোমবার, জানুয়ারী ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ রাত

বাবার কোলে চড়ে পরীক্ষার হলে, স্বপ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

  • প্রকাশিত ০৭:১৯ রাত এপ্রিল ১, ২০১৯
বাবার কোলে চড়ে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে যায় নাইস খাতুন। ছবি : ঢাকা ট্রিবিউন
বাবার কোলে চড়ে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে যায় নাইস খাতুন। ছবি : ঢাকা ট্রিবিউন

নাইসের বাবা  জানান, মেয়ের চিকিৎসার জন্য অনেক চিকিৎসক ও কবিরাজের কছে গিয়েছেন তিনি।

ইচ্ছা ও মনোবল থাকলে স্বপ্নগুলো এক সময় বাস্তবে রূপ নেয়। অধরা আসে হাতের মুঠোয়, অসম্ভব হয় সম্ভব। এমনটাই করে দেখিয়েছে, বগুড়ার ধুনট উপজেলার দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রী নাইস খাতুন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে সে এবার বিশ্বহরিগাছা বহালগাছা বহুমুখি মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। 

নাইসের পা থাকলেও সেগুলোতে শক্তি নেই। ডান হাতেও একই অবস্থা। সম্বল তার বাম হাত। এ নিয়েই চলছে লড়াই। প্রতিন্ধকতার কাছে হার না মানা নাইস বাবার কোলে চড়ে আজ সোমবার ধুনট সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এসেছিল এইচএসসি পরীক্ষা দিতে। 

নাইস মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। ধুনট উপজেলার চৌকিবাড়ী ইউনিয়নের বিশ্বহরিগাছা গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম ও গৃহিণী আকতার জাহানের মেয়ে। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে নাইস ছোট। নাইসের বড় ভাই রবিউল করিম বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজে অনার্সের ছাত্র। মাত্র দেড় বিঘা ফসলি জমির ফসলের ওপর তাদের লেখাপড়া ও সংসার চলে।

সোমবার সকালে পরীক্ষার কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, বাবা নজরুল ইসলাম নাইসকে কোলে করে ধুনট সরকারি ডিগ্রি কলেজের ১২১ নম্বর কক্ষে নিয়েছেন। সেখানে বসে সে বাম হাত দিয়ে স্বাভাবিকভাবেই লিখছে। প্রতিবন্ধী হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত ৩০ মিনিট দেওয়া হয় তাকে। পরীক্ষা শেষে আবার একইভাবে তাকে বাড়ি নিয়ে যান বাবা। 

 নজরুল ইসলাম জানান, তার মেয়ে জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। তার দুটো পা ও একটি হাত অচল। এ কারণে সে দাঁড়াতে বা হাঁটতে পারে না। তারপরও সে লেখাপড়া করতে চায়। তাই কোলে তুলে নিয়ে বিদ্যালয় ও কলেজে গিয়েছেন। এভাবেই সে ২০১৭ সালে বিশ্বহরিগাছা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৩.৫৫ পেয়েছে। এবার সে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। 

নাইসের বাবা আরও জানান, মেয়ের চিকিৎসার জন্য অনেক চিকিৎসক ও কবিরাজের কছে গিয়েছেন তিনি। কিন্তু অর্থের অভাবে তাকে সুস্থ করতে পারেননি।

পরীক্ষার্থী নাইস বলে, 'আমি কারো বোঝা হয়ে থাকতে চাই না। তাই ইচ্ছা শক্তি ও মনোবল নিয়েই এক হাত দিয়ে শিক্ষা জীবন শুরু করেছি। এবার এইচএসসি পাশ করতে পারলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। তবে আমার দরিদ্র পিতার পক্ষে লেখাপড়ার খরচ জোগাতে অনেক কষ্ট হবে। তারপরও কষ্ট করে লেখাপড়া করে একজন আদর্শ শিক্ষক হতে চাই।' 

বিশ্বহরিগাছা বহালগাছা বহুমুখী মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রঞ্জন কুমার চক্রবর্তী বলেন, 'প্রতিবন্ধী হওয়ায় আমরা তাকে সার্বিক সহযোগিতা করে আসছি।' 

ধুনট সরকারি ডিগ্রি কলেজের কেন্দ্র সচিব সহকারি অধ্যাপক ফজলুল হক রঞ্জু জানান, প্রতিবন্ধী হওয়ায় নাইচ খাতুনকে নির্ধারিত সময়ের থেকে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।