• বুধবার, জুলাই ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৩৬ রাত

মাদক ব্যবসার জেরে যুবলীগ নেতাকে হত্যা করলো ছাত্রলীগ নেতা

  • প্রকাশিত ০৯:৩০ রাত এপ্রিল ৫, ২০১৯
সাতক্ষীরা

ঘটনায় জড়িত সকলেই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী বলে জানিয়েছে পুলিশ

সাতক্ষীরার আশাশুনিতে মাদক ব্যবসার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে এক যুবলীগ নেতাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রলীগ নেতা এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার নাথ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিহত যুবলীগ নেতার নাম তৌহিদুল ইসলাম সানা। তিনি আশাশুনি থানার বড়দল গ্রামের প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিক সানার ছেলে এবং ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি। এই ঘটনায় নিহতের বোন রিনা রহমান ছয়জনকে আসামি করে আশাশুনি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তৌহিদ সানার বিরুদ্ধে থানায় একটি মাদক মামলা হয়। এই মামলায় গত অক্টোবর মাসে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ২৬ মার্চ জামিনে জেল থেকে মুক্ত হন তৌহিদ। কারাগার থেকে বাড়ি ফেরার গত ১ এপ্রিল মিষ্টি খাওয়ানোর কথা বলে তৌহিদকে ডেকে নিয়ে যান তার পূর্ব পরিচিত এবং ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নাহিদ রানা বাবু। পরে নাহিদ এবং তার সহযোগী কাজল সানা, আইউব আলি মালি, টুটুল সানা ও ইয়াসিন সরদার তৌহিদের উপর চড়াও হয়। এসময় তারা লোহার রড,  হাতুড়ি ও লাঠিসোটা দিয়ে বেপরোয়াভাবে তৌহিদকে মারতে থাকেন।

এসময় জীবন বাঁচাতে তৌহিদ দৌড়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান আবদুল আলিমের বাড়িতে পৌঁছে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার মৃত্যু হয় তৌহিদ সানার।

ঐদিন রাতে তৌহিদের নিজ গ্রামে আনা হয় তার মরদেহ। পরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে।

এদিকে এই ঘটনায় নিহত এবং অভিযুক্ত সকল ব্যক্তিই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ। মাদক ব্যবসা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এব্যাপারে আশাশুনি থানার ওসি বিপ্লব কুমার নাথ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "তৌহিদ সানা ২২ টি মাদক মামলার আসামি। সে একজন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী। তাকে যারা মেরেছে তারাও মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারি"।

"ঘটনায় যুক্ত উভয় পক্ষই মাদক কারবারি হওয়ায় কোন পক্ষই এই মারপিট কিংবা হামলার কথা পুলিশকে জানায়নি", যোগ করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

ওসি আরও  বলেন, "নিহতের পরিবার থেকে দায়ের করা মামলাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন। মেডিকেল প্রতিবেদন আসলেই সে অনুযায়ী মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে"।

তবে নিহতের পরিবারের দাবি, তৌহিদ স্থানীয় মাদকসেবীদের পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছিল। এ কারণে তাদের অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে নাহিদ ,কাজল ,আইউব, ইয়াসিন ও টুটুল সানা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।