• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:৪৪ দুপুর

২ দিন আটকে রেখে মাদ্রাসার ২ ছাত্রীকে গণধর্ষণ

  • প্রকাশিত ১০:০০ রাত এপ্রিল ৬, ২০১৯
গণধর্ষণ
প্রতীকী ছবি।

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের একটি নির্জন ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয়

মাদারীপুরে কালকিনি উপজেলার ডাসার থানার বালিগ্রাম ইউনিয়নে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মাদ্রাসার দুই ছাত্রীকে দু'দিন আটকে রেখে গণধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধর্ষণকারীরা এলাকার প্রভাশালী হওয়ায় টাকার বিনিময়ে গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে ধর্ষণের ঘটনাটি দামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, বালিগ্রাম ইউনিয়নের বতলা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার ৫ম ও ৭ম শ্রেণী পড়ুয়া দুই কিশোরীকে আটিপাড়া এলাকার মজিবুর হাওলাদারের ছেলে শাকিব, হুমায়ুন হাওলাদারের ছেলে হৃদয়, জাকির মোল্লার ছেলে নয়ন, মান্নান খানের ছেলে আল-আমিন ও তাদের আরো কয়েকজন বন্ধু মিলে নয়নের চাচা মাহবুব সরদারের ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে তাদের উপর পাশবিক নির্যাতন চালায়।

বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে কিশোরীদের ফ্লাট থেকে উদ্ধার করে। এসময় পালিয়ে যায় শাকিব, নয়ন ও তাদের বন্ধুরা। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে।

এ ঘটনায় শুক্রবার ডাসার থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। এই মামলার চার আসামি হলেন - শাকিব, হৃদয়, হুমায়ুন ও আল-আমিন। 

ভুক্তভোগী একজন মাদ্রাসার ছাত্রী বলেন, "আমার সাথে সাকিবের প্রেম ছিল। আমার বান্ধবীর সাথে হৃদয় নামে আর একটি ছেলের প্রেম ছিল। এই সূত্রেই তারা আমাদের মাদ্রাসা থেকে ফোন কয়রে ডেকে নিয়ে রাতে আটকে রেখে আমাদের উপর অত্যাচার চালিয়েছে"।

এদিকে অভিযুক্তদের পরিবার থেকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ গ্রহণের বিনিময়ে তথাকথিত গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে নির্যাতিতাদের পরিবারকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে ডাসার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসেন ও বালিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মতিন মোল্লার বিরুদ্ধে।

তবে, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তারা। শুক্রবার বিকালে টাকার বিনিময়ে কোন শালিস হয়নি বলে সাংবাদিকদের জানান তারা।  

এ প্রসঙ্গে মাদারীপুর পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালাদার বলেন, "এই ঘটনা শালিসযোগ্য নয়। থানায় মামলা হয়েছে। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। যদি কোন পুলিশ অপরাধের সাথে জড়িত থাকে এবং প্রমাণ মেলে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে"।