• বুধবার, নভেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৯ রাত

পাবনায় ৫৯৫ চরমপন্থীর আত্মসমর্পণ

  • প্রকাশিত ০৮:০৮ রাত এপ্রিল ৯, ২০১৯
পাবনা চরমপন্থী
পাবনার আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে চরমপন্থীরা। ঢাকা ট্রিবিউন

আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ-গোয়েন্দা সংস্থা আর আগের মতো নেই। তারা এখন জলদস্যু, বনসদ্যু, চরমপন্থী, মাদক সন্ত্রাসীদের দমন করতে সক্ষম। যে কোনও ধরনের নাশকতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নির্মূলে পুলিশ বাহিনী স্বোচ্চার।

পাবনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ১৪ জেলার চরমপন্থী সংগঠনের ৫৯৫ সদস্য আত্মসমর্পন করেছেন। মঙ্গলবার বিকেল তিনটায় জেলা শহরের শহীদ আমিন উদ্দিন স্টেডিয়ামে এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি অন্ধকারে থাকা অস্বাভাবিক জীবন ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসায় নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের স্বাগত জানিয়েছেন। স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিতের তাগিদেই মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের আইজি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর কাছে সশস্ত্র অবস্থায় তারা আত্মসমর্পন করেন। 

আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে পাবনার ১৩২ জন, টাঙ্গাইলের ৩১ জন, যশোরের ২ জন, নড়াইলের ২ জন, সাতক্ষীরার ৬ জন, খুলনার ৩৫ জন, রাজবাড়ীর ৩৪ জন, ফরিদপুরের ২৮ জন, বগুড়ার ১৫ জন, নাটোরের ২৭ জন, সিরাজগঞ্জের ৬৯ জন, রাজশাহীর ৬২ জন, জয়পুরহাটের ৮২ জন এবং নওগাঁর ৭০ জন নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী সংগঠন পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি এমএল লালপতাকা, জনযুদ্ধ, সর্বহারা, কাদামাটি পার্টি ও নকশালের আঞ্চলিক নেতা ও সদস্যের আত্মসমর্পণের কথা থাকলেও অবশেষে ৫৯৫ জন আনুষ্ঠানিক ভাবে আত্মসমর্পণ করেন। এসময় তারা বিভিন্ন ধরনের ৬৮টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৫৭৫ টি দেশীয় অস্ত্র জমা দেয়।

আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ১৯৯৯ সালেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২ হাজার চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। যারা এখনও আত্মসমর্পণ করেননি, যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করলে তাদের সামনেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ রয়েছে। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ-গোয়েন্দা সংস্থা আর আগের মতো নেই। তারা এখন জলদস্যু, বনসদ্যু, চরমপন্থী, মাদক সন্ত্রাসীদের দমন করতে সক্ষম। যে কোনও ধরনের নাশকতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নির্মূলে পুলিশ বাহিনী স্বোচ্চার। 

মন্ত্রী জানান, পাবনার এই অনুষ্ঠানে যে সব চরমপন্থী নেতা-কর্মী আত্মসমর্পণ করলেন, তাদের মধ্যে অনেকেই শিক্ষিত। যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার নির্দেশনা দিয়েছেন।

পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম বিপিএম-পিপিএম’র সভাপতিত্বে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন পুলিশের আইজি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও পাবনা ১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক খোন্দকার প্রিন্স, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবির, রাজশাহীর বাঘার সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামূল হক, পাবনা-সিরাজগঞ্জ সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নাদিরা আক্তার জলি ও পাবনা জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের ডিআইজি মাহবুব হোসেন, ডিআইজি এম খুরশিদ আলম, একেএম হাফিজ ও র‌্যাবের কর্ণেল জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।