• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:২৬ দুপুর

খোকনের স্মার্টকার্ডে দিলারার ছবি!

  • প্রকাশিত ০৫:৩৫ সন্ধ্যা এপ্রিল ১২, ২০১৯
কুলাউড়া স্মার্টকার্ড
একজনের স্মার্টকার্ডে অন্য একজনের ছবি। ঢাকা ট্রিবিউন

একজনের জন্মস্থান মৌলভীবাজার হলেও স্মার্টকার্ডে লেখা হয়েছে মানিকগঞ্জ। এছাড়া, কারও কারও ক্ষেত্রে জন্ম তারিখে ভুল, তো কারও পিতার নামের শেষে যুক্ত হয়েছে 'বেগম'।

দীর্ঘদিনের অপেক্ষা শেষে গত মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) প্রথমবারের মতো জাতীয় পরিচয়পত্রের স্মার্টকার্ড হাতে পান মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার বাসিন্দা মো. খোকন। কিন্তু এ কী! নামধাম ঠিক থাকলেও তার পরিচয়পত্রে যে এক নারীর ছবি ও 'দিলারা বেগম' এর স্বাক্ষর! বিষয়টি যারপরনাই হতবাক করেছে খোকনকে।

জানা গেছে, শুধু খোকনই নন, ওইদিন কুলাউড়ার যেসব বাসিন্দা তাদের স্মার্টকার্ড হাতে পেয়েছেন তাদের অনেকেই শিকার এমন বিড়ম্বনার।

ভুক্তভোগীরা জানান, একজনের জন্মস্থান মৌলভীবাজার হলেও স্মার্টকার্ডে লেখা হয়েছে মানিকগঞ্জ। এছাড়া, কারও কারও ক্ষেত্রে জন্ম তারিখে ভুল, তো কারও পিতার নামের শেষে যুক্ত হয়েছে 'বেগম'।

নতুন স্মার্ট কার্ড হাতে পেয়ে আনন্দিত না হয়ে তারা যেন কিছুটা বোকা বনে গেছেন।

জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল থেকে কুলাউড়ায় জাতীয় পরিচয়পত্রের স্মার্টকার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. খোকনের পুরনো জাতীয় পরিচয়পত্রে সব কিছুই ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু নতুন পাওয়া স্মার্টকার্ডে নাম-ঠিকানা ঠিক থাকলেও নিজের ছবির জায়গায় 'দিলারা বেগম নামে এক নারীর ছবি ও স্বাক্ষর' দেওয়া আছে। 

খোকনের কার্ডের ছবি ও স্বাক্ষরের ওই নারী একই ওয়া‌র্ডের বা‌সিন্দা দিলারা বেগম। ত‌বে দিলারাও তার কার্ড পেয়েছেন এবং সেখানে কোনও ভুলভাল নেই।

এছাড়াও, পৌর শহরের আরেক বাসিন্দা শামছুননাহার বেগমের স্মার্ট কার্ডে পিতার নাম ‘আব্দুল মতিন বেগম’ দেওয়া হয়েছে। পৌর এলাকার ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবির আহমদের স্মার্টকার্ডে জন্মস্থান মৌলভীবাজারের স্থলে মানিকগঞ্জ লেখা হয়েছে। ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা তাসলিমা সুলতানা নামে একজ‌নের জন্ম তারিখের সাল ১৯৯৪ ইং স্থলে ১৯৩৫ ইং লেখা হয়েছে।

ছবি: ঢাকা ট্রিবিউনআবার, নিবন্ধন করা সত্বেও পুরাতন জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা অনেকেই নতুন স্মার্টকার্ড পাননি।

বিতরণকৃত স্মার্টকার্ডে ভুলভ্রান্তির বিষয়টি স্বীকার করে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইকবাল আহসান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “ভুল তথ্য সম্বলিত কার্ডের বিষয়টি নজরে এসেছে। এসব কাডের্র বিষয়ে রিপোর্ট তৈরি করে প্রধান সার্ভার কেন্দ্রে পাঠানো হবে। পরবর্তীতে সব কার্ড সংশোধিত হয়ে আসবে।”

তিনি আরও বলেন, কারিগরী ত্রুটির কারণে অনেক পুরাতন নিবন্ধনকারী স্মার্ট কার্ড পাননি। এ বিষয়টি সমাধানের জন্যও আমরা কর্তৃপক্ষকে জানাব।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে খবর, কুলাউড়ায় উপজেলায় জাতীয় পরিচয়পত্রের স্মার্টকার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে গত ৯ এপ্রিল থেকে। প্রথমে কুলাউড়া পৌরসভায় এবং পরবর্তীতে আগামী ১৫ এপ্রিল থে‌কে ধারাবাহিকভাবে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে স্মার্টকার্ড বিতরণ করা হবে। চলতি বছরের ১ জুলাই পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ে স্মার্টকার্ড বিতরণ চল‌বে। কুলাউড়া উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে ২ লাখ ২৪ হাজার ৫’শ ৯৪টি স্মার্টকার্ড বিতরণ করা হবে।