• শনিবার, নভেম্বর ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩২ রাত

প্রধানমন্ত্রী: নুসরাতের হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে ছাড়ব না

  • প্রকাশিত ০৬:৩১ সন্ধ্যা এপ্রিল ১২, ২০১৯
শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফাইল ছবি: ফোকাস বাংলা

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য আমরা নুসরাতকে সিঙ্গাপুরে পাঠাতে চেয়েছিলাম। তবে তার শারীরিক অবস্থা সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়ার মতো ছিল না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। যারা বোরকা পরে নুসরাতের শরীরে আগুন দিয়ে হত্যা করেছে, তাদের কেউই ছাড় পাবে না। তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হবে। 

শুক্রবার (১২ এপ্রিল) বিকেলে গণভবনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা তাকে বাঁচানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখজনক, মেয়েটি আমাদের ছেড়ে চলে গেলো। বোরকা পরে হাত মুখ ঢেকে তার গায়ে আগুন লাগিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এরা কেউই ছাড়া পাবে না।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য আমরা নুসরাতকে সিঙ্গাপুরে পাঠাতে চেয়েছিলাম। তবে তার শারীরিক অবস্থা সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়ার মতো ছিল না। সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকদের সঙ্গে সঙ্গে পরামর্শ করে এখানে চিকিৎসা চলেছে। কিন্তু মেয়েটি মারা গেল। 

বিষয়টিকে দুর্ভাগ্যজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিনা কারণে নুসরাতকে হত্যা করা হলো। এর সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড়ব না। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি তাদের পেতেই হবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, এইচ টি ইমাম, অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সৈয়দ রেজাউল রহমান, ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রফেসর আব্দুল খালেদ, প্রফেসর হামিদা বানু, মুকুল বোস, অ্যাম্বাসেডর জমির, মশিউর রহমান, মহীউদ্দিন খান আলমগীর প্রমুখ।

উল্লেখ্য, নুসরাতকে যৌন হয়রানির অভিযোগে তার মায়ের দায়ের করা মামলায় গত ২৭ মার্চ মাদ্রাসা অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দোলাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কিন্তু কারাগার থেকেই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নুসরাতের পরিবারকে চাপ দিতে থাকেন সিরাজ। এর মধ্যে গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় কেন্দ্রে আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে পালিয়ে যায় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা।

অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে। সেখানে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের ৯ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড নুসরাতের চিকিৎসা দিচ্ছিল। কিন্তু সবাইকে কাঁদিয়ে দিয়ে বুধবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টায় না ফেরার দেশে চলে যায় ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি।