• সোমবার, জানুয়ারী ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ রাত

স্কুলে 'বিপদ', তাই গাছতলায় পড়াশোনা

  • প্রকাশিত ০২:৫৭ দুপুর এপ্রিল ১৩, ২০১৯
চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কাদিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলছে গাছের নিচে। ছবি : ঢাকা ট্রিবিউন
চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কাদিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলছে গাছের নিচে। ছবি : ঢাকা ট্রিবিউন

স্কুলটিতে ওই গ্রামের ২১৬ শিশুকে পাঠদান করা হয়।

খসে পড়েছে ছাদের প্লাস্টার, বেরিয়ে পড়েছে রড। দেয়ালেও দেখা দিয়েছে লম্বা ফাটল। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এ চিত্র চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কাদিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। স্কুলটিতে ওই গ্রামের ২১৬ শিশুকে পাঠদান করা হয়।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই স্কুলের ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।  এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করলেও নেওয়া হয়নি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা। এমন পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই শিশুদের পাঠদান করানো হচ্ছে স্কুলের সামনে থাকা গাছের নিচে। 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আসমা খাতুন ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, ১৯৯৪ সালে নির্মিত স্কুল ভবনের দেয়ালের চারিদিকে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদের প্লাস্টার খসে রড বেরিয়ে এসেছে। একটু বৃষ্টি হলেই ছাদ থেকে পানি পড়তে থাকে। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। শুষ্ক মৌসুমে কোনোমতে পাঠদান চললেও, বর্ষা শুরুর আগে নতুন ভবন নির্মাণ অথবা সংস্কার করা না হলে তা বন্ধ হয়ে যাবে। 

প্রধান শিক্ষিকা আরও জানান, বিদ্যালয়ের পাঁচটি ভবনের প্রয়োজন হলেও রয়েছে তিনটি ভবন ও একটি অফিস কক্ষ। একই শ্রেণিকক্ষে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হচ্ছে। দুটি টয়লেট থাকলেও তা একেবারেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। 

স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইউনুছ আলী জানান, ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হলেও এখনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। নেই কোনো সীমানা প্রাচীর। প্রয়োজনীয় সংখ্যক ক্লাসরুম নেই। টয়লেট দুটো একেবারেই ব্যবহারের অনুপযোগী।'

দামুড়হুদা উপজেলা প্রথমিক শিক্ষা অফিসার সাকি ছালাম জানান, 'ভবন ঝুঁকিপূর্ণ না, তবে জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। আমরা ভবন মেরামতের জন্য উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের কাছে ২ লাখ টাকার চাহিদা পাঠিয়েছি। আশাকরছি দ্রুত বিদ্যালয়টি সংস্কার করা হবে।'