• সোমবার, আগস্ট ২৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৬ রাত

নৌ পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘট স্থগিত

  • প্রকাশিত ০২:০৪ দুপুর এপ্রিল ১৭, ২০১৯
সদরঘাট
লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে, তবে যাত্রীর সংখ্যা খুব বেশি না। ছবি: ফোকাস বাংলা

এদিকে, ধর্মঘট স্থগিত করায় বুধবার (১৭ এপ্রিল) সকাল থেকে বরিশাল নদী বন্দর থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে সবধরনের নৌযান ও লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে

সরকার নির্ধারিত কাঠামোয় বেতন দেওয়াসহ ১১ দফা দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়ে সারা দেশে নৌ-ধর্মঘট স্থগিত করেছে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন।

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) দিবাগত রাতে শ্রম অধিদপ্তরে মালিক, শ্রমিক ও সরকারের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেয়া হয়। শ্রম অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে শ্রমিক ও মালিক প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকে বসেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম, বাংলাদেশ কার্গো ভ্যাসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নূরুল হক, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ট্যাংকার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক শফিকুর রহমান ভূঁইয়া, জাতীয় শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি ফজলুল হক মন্টু, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সভাপতি হাবিব উল্ল্যাহ বাচ্চু উপস্থিত ছিলেন ওই সভায়। সরকারের পক্ষ থেকে শ্রম প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন শ্রম সচিব (ভারপ্রাপ্ত) উম্মল হাছনা এবং শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এটিএম মিজানুর রহমান। 

দীর্ঘ বৈঠক শেষে সিদ্ধান্ত হয়, শ্রমিকদের সাতটি দাবি ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে ‘ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে’ সমাধান করতে হবে। বাকি চারটি দাবির বিষয়ে সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হবে।

এদিকে, নৌযান ধর্মঘট স্থগিত করায় বুধবার (১৭ এপ্রিল) সকাল থেকে বরিশাল নদী বন্দর থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে সবধরনের নৌযান ও লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে। রাতেও বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রীবাহী লঞ্চ যথাসময়ে ছেড়ে যাবে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। 

বুধবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ৮টায় নদী বন্দরে গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রুটের লঞ্চ যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলেও, লঞ্চগুলোতে যাত্রী ছিলো অনেক কম। নদী বন্দরে ও টার্মিনালেও তেমনভাবে যাত্রীদের চাপ লক্ষ্য করা যায়নি। 

তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে এ চাপ বাড়বে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বরতরা। 

নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য ও বরিশাল অঞ্চলের সভাপতি শেখ আবুল হাসেম জানান, “বেতন ভাতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা, নদীপথে চাঁদাবাজি বন্ধসহ এগারো দফা দাবী না মানা পর্যন্ত নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন সোমবার দিবাগত রাত বারোটার পর থেকে সব ধরণের পন্য ও যাত্রীবাহি নৌযানে ধর্মঘট ডাকে।সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় ও কর্তৃপক্ষের সাথে মঙ্গলবার দিবাগত রাত্রে আলাপ-আলোচনার পর দাবীগুলোমেনে নেয়ার আশ্বাস দেয়ায় ধর্মঘট স্থগিত করা হয়।” 

প্রসঙ্গত, গতকাল মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) যাত্রীবাহী লঞ্চের কর্মীদের জন্য ২০১৬ সালের ঘোষিত বেতন কাঠামোর পূর্ণ বাস্তবায়ন, সব শ্রমিকদের বিনা পয়সায় খাবারের ব্যবস্থা করা অথবা খাদ্যভাতা দেওয়া, কর্মস্থলে কিংবা দুর্ঘটনায় মৃত্যুতে শ্রমিকদের ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া, প্রত্যেক নৌশ্রমিককে নিয়োগপত্র দেওয়া, মাস্টার পরীক্ষার সনদ দেওয়া ও নবায়নে অনিয়ম বন্ধ করা, বাল্কহেডসহ সব নৌযান ও নৌপথে সন্ত্রাস চাঁদাবাজি বন্ধ করা, নদীর নাব্য রক্ষা ও বয়া-বাতি স্থাপন করার মত দাবি রয়েছে শ্রমিকদের ১১ দফার মধ্যে।